সরকারি চাকুরেরা আর কত সুবিধা চান: প্রশ্ন অর্থমন্ত্রীর

::অর্থনৈতিক প্রতিবেদক::

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সরকারি চাকুরেদের যেসব সুযোগ-সুবিধা বর্তমান সরকার দিয়েছে এর আগে তারা জীবনে তা চোখেও দেখিনি। বেতন ৪০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বল সুদে গৃহনির্মাণ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ (ঋণ পরিশোধ শুরুর সময়) ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।
এরপরও তারা (সরকারি চাকরিজীবীরা) আর কত সুবিধা চান- বলে প্রশ্ন করেন মুহিত।

শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বাজেট পর্যালোচনার ওপর সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের দরুণ দেশে কোনো বৈষম্য ও দারিদ্র বাড়বে না। দারিদ্রের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
যারা বলছেন এ বাজেটের মাধ্যমে দারিদ্র ও বৈষম্য বাড়ছে তারা মিথ্যা বলছেন বলে অভিযোগ করেন অর্থমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ এ বাজেটকে ভুয়া বাজেট বলছে। বাজেট কীভাবে ভুয়া হয়। যারা উন্নয়নকে স্বীকার করতে চায় না, যাদের দেশপ্রেম নেই ও নির্বোধ তারাই এ বাজেটকে ভুয়া বাজেট বলছে।

তারা এ বাজেটের সমালোচনা করছে। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, আপনাদের এসব প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক। এগুলো কোনো প্রশ্নই না। কীভাবে বলছেন এটা গরিব মারার বাজেট। বৈষম্যের বাজেট। আপনারা কী বুঝেন। পরে অর্থমন্ত্রী প্রশ্নের উত্তর দেয়া থেকে বিরত থাকেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণকে বাস্তবসম্মত পর্যায়ে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন। সরকারি কর্মচারীরা বিশেষত নবীন কর্মকর্তারা যেন একটি ফ্ল্যাট বা গৃহের মালিক হতে পারেন সে দিক লক্ষ রেখে আমরা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের বিষয়ে একটি নীতিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছি। আগামী অর্থবছরেই তা কার্যকর হবে বলে আশা রাখি।

তিনি বলেন, এ নীতিমালার আওতায় একজন সরকারি কর্মচারী দেশের যে কোনো স্থানে গৃহনির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণ নিতে পারবেন। সহনীয় ও পরিশোধযোগ্য সুদে ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ঋণ সরকারি কর্মচারীদের দেয়া হবে। ঋণের প্রকৃত সুদের অবশিষ্ট অর্থ সরকার ভতুর্কি বাবদ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে। আশা করি, এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর সরকারি সেবা প্রদানে কর্মচারীরা আরও উদ্যমী হবেন এবং সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here