সব ধর্মের মানুষের বন্ধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

মহাগ্রন্থ আল-কুরআন যেমন সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে; তেমনি মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) সমগ্র মানবজাতির জন্য আদর্শ পয়গম্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাই একজন মানুষ কুরআন ও সুন্নাহকে ভালো করে আঁকড়ে ধরতে পারলে, সেই মানুষ তার সাফল্যের সোপানে পৌঁছবেনই; সে যে সম্প্রদায়েরই হোন না কেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই বীজ রোপণ করে গেছেন সংবিধানে। ধর্মনিরপেক্ষতার সেই নীতিকেই আঁকড়ে ধরে তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষার প্রসারে সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। তিনি যে শুধু মুসলমান সম্প্রদায়ের কথাই ভেবেছেন তা-ই নয়, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সব সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও নৈতিকতা শিক্ষার প্রসারে আন্তরিকভাবে কাজ করে চলেছেন।

মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-৬ষ্ঠ পর্যায় প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বৃহৎ প্রকল্প। ১৯৯৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ধারাবাহিকভাবে ৬ষ্ঠ পর্যায়ে চলমান রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের মসজিদের ইমামরা মসজিদ কেন্দ্রে শিশু ও বয়স্ক শিক্ষার্থীদেরকে বাংলা, অংক, ইংরেজি, আরবি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাদানের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ইমাম ও মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঝে ঋণ/অনুদান প্রদানের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে গত মেয়াদে প্রতিষ্ঠিত ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে বর্তমান সরকার মোট ৭ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান হিসাবে মঞ্জুরি প্রদান করেন। ট্রাস্টের সদস্যভুক্ত স্বল্প আয়ের ৬৫০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিনকে ৭ কোটি ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়। এছাড়া ৭ হাজার ৪০ জন অসহায় দুস্থ ও দরিদ্র ইমাম-মুয়াজ্জিনকে মোট ২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য ‘মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ হতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৫০০ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ১২ লাখ ২০ হাজার শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান এবং ২৫০টি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩০ হাজার বয়স্ক ব্যক্তিকে স্বাক্ষরতা ও ধর্মীয় জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য ১৮৫.৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়। হিন্দু ধর্মীয় নেতা তথা পুরোহিত ও সেবাইতদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের সম্পৃক্ত করার জন্য আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পটি ২০১৫ সালে গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির আওতায় ২৫ হাজার ৬০০ পুরোহিত ও সেবাইতকে ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করার কথা। প্রকল্পটির জন্য ২৪.৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয় এবং সেই ট্রাস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৮৪টি চার্চকে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মেরামত, সংস্কার, নির্মাণ, মাটিভরাট, কবরস্থানের বাউন্ডারি নির্মাণের জন্য অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছর হতে বৌদ্ধ শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকমান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ প্রকল্পে আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এ পাঁচ জেলায় ১০০টি বৌদ্ধবিহারে ১০০টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ২ হাজার বৌদ্ধ শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা সম্পন্ন করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে ১০০টি বৌদ্ধবিহারে ১০০টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ২ হাজার বৌদ্ধ শিশু প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষা সম্পন্ন করেছে। তৃণমূল পর্যায়ে ১০০ জন বৌদ্ধ মহিলা ও পুরুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রকল্পের অনুকূলে ৯৬.০০ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয় এবং ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ২,০০০ শিশুকে প্রাক প্রাথমিক প্রদান করা হয়েছে। এটা ট্রাস্টের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আল্লাহ আমাদের সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে সব ধর্মের মানুষের আরও বেশি বেশি খিদমত করার তৌফিক দিন। আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here