রাজনীতিতে কাউয়ারা নয়, ঘরের ইদুঁর বেড়া কাটে

::সুমন ভট্টাচার্য্য::

রাজনীতি তে বিশেষণ সংযোজন করে আপনারা প্রায়ই বলেন অনুপ্রবেশ, হাইব্রিড,কাউয়া, দেশী মুরগী। বিশেষণ টি যোগ করেন সরকার দলের নেতারা। প্রতিযোগিতায় পরাজিত হয়েছেন বলেই কি এমন বিশেষণ সংযোজিত?।আমার ঠিকুজীতে, কোন গ্রহে ত্রুটি রয়েছে খোঁজ শুরু করেছেন?

অনুপ্রবেশ শব্দের যথার্থ অর্থ কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য??কাউয়া, হাইব্রীড,দেশি মুরগি এমন অর্থ যদি কটাক্ষ করে বোঝানো হয়। এক দল থেকে অন্যদলে যোগদান।তবে বুঝতে ভুল হতে পারে।যদি এমন ধারণা থেকে শব্দের বিশেষণ যদি ব্যবহৃত হয়ে থাকেন। এ স্লোগান কি জন্যে? এসো নবীন দলে দলে আমাদের আর্দশের পতাকা তলে।আবার ভোট প্রার্থনা করার সময় দল মত নির্বেশেষে আমাকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করুন।

রাজনীতিতে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করুন। কথিত বিশেষণগুলো মুছে ফেলুন। না হয় এ বিশেষণ আপনার জন্যে বাধা হয়ে দাড়াঁবে। অভিনেতা আর পরিচালক যেমন এক অন্যের, তেমনি জনপ্রতিনিধি ও দলীয় পদ একে অন্যের। জনপ্রতিনিধি মনোনীত হয় অনেক গুলো বিষয়কে মাথায় রেখে। নেতৃত্বে প্রতিযোগীতা থাকবে। তাই বলে এমন মন্তব্য? বিরত থাকুন, যে মন্তব্য অন্যকে ছোট করে। ইতিহাস থেকে জানেন মীর জাফর অনুপ্রবেশকারী, মোস্তাক রা হাইব্রীড ছিলেন কি?? বরং কথিত শব্দচয়ন অনুপ্রবেশকারী, হাইব্রীড,কাউরা অন্য দল থেকে এসে ও আর্দশের জায়গা সমুন্নত রেখেছে। আর বিশেষণ নেতৃত্ব কৃতিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

যেমন অগ্নি কন্যা মতিয়া চৌধূরী, নুরুল ইসলাম নাহিদসহ অনেক ডাক সাইটের নেতা নেত্রীরা দলের নিবেদিত প্রাণ।যে সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আর্দশিক চেতনা ধারন করেন। লাখো মানুষের অন্তরে যে নামটি চির অক্ষয়। যার বজ্র কঠিন নেতৃত্ব শাসকের বুলেটকে ভয় পায় নি। ইতিহাসের সকল সংগ্রামে আর্দশের ঠিকানা বদলায় নি। আর্দশের শক্তিতে সংগঠনের নেতৃত্ব সুদৃঢ় হয়। এমন বিশেষন সংযোজক কটাক্ষ্যের নাম মাত্র।

সাতকানিয়া -লোহাগাড়া আসনে ডঃ আবু রেজা নদভী কোন দিন আওয়ামী লীগের সক্রীয় কর্মী ছিলেন? সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দলীয় আর্দশে ব্রতী হয়ে নিরলস সেবা করছেন জনগণের। এমন অসংখ্য উদাহারন গণ মানুষ ভুলে না। নিজেদের হীনমন্যতা দূর্বলতায় প্রমাণ করে।হাজারো দৃশত্য প্রসঙ্গ প্রমানিত। নিজের ঘরের ইঁদুর ভেড়া কাটে। অন্য ঘরের ইঁদুর না। আমাকে ছাত্র শিবিরের সাবেক কর্মী বলে বসলেন। ভোট যদি নৌকা প্রতীকে দিয়। ভোটটা কি বাতিল হবে?

আরেক ব্যক্তি বলেন, শাহাজাহান সিরাজ, ডঃ ফেরদৌস কোরেশী এখন কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন? জামায়েত শিবির, বিএনপির কোন নেতা বা কর্মী, আওয়ামী লীগের আর্দশে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগদান করতে পারেন কি না। যোগদানকৃত নেতা অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আর্দশকে প্রভাবিত করে কোন স্রোতে ভাসিয়ে দেন। যদি ভাসিয়ে দিতে পারেন, নিজেদের আর্দশিক জায়গা কোথায়।

অনুপ্রবেশকারী আপনার দীর্ঘ দিনের আর্দশকে ভাসিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। একটু ভাবেন, মীর জাফর, মোস্তাকের ইতিহাস। তারা অনুপ্রবেশ কারি ছিল কি না।আবার অনুপ্রবেশকারীদের সে নেতৃত্বকে মনে করেন। কারা শীর্ষ নেতৃত্বে অগ্নি কন্যা। সুতরাং সস্তা তকমা লাগিয়ে কথিত বিশেষণে বিষাদগার কাম্য নয়। সবার ভোট প্রয়োজন। আর্দশের পথে সকল উন্নয়নে, দেশের অগ্রযাত্রায় জনগণ মূল চালিকা শক্তি। এ সরকারের দৃষ্টি নন্দন জনবান্ধব উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রশংসিত। অথচ
সাংগঠনিক নেতৃত্বে জনগণ এর দৌড়গৌঁড়ায় সম্পৃক্ত কতটা? দলীয় কোন্দল শুধু মাত্র নিজেদের আখের গোছানোর মূল উদ্দ্যেশ্য।

দলীয় আওয়ামী লীগ সরকার মনে করেন, জনগণ সরকারের উপর সন্তুষ্ট। সেটি নীতি নিধার্রকদের ভুল।বিভিন্ন ভোটের পরিসংখ্যানে অন্য দলের ভোট প্রাপ্তি বিভিন্ন অহংকারের প্রতিফলন। এ দিকে সরকারের জনবান্ধব দৃষ্টি নন্দন উন্নয়ন বিশ্ব দরবারে বারংবার প্রশংসিত। এমন উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে এ সরকারের প্রয়োজন। বাস্তবতা উন্নয়নকে সামনে রেখে নির্বাচনে জয়লাভ সহজ। এমন ভাবনা ততটা সহজ নয়। জয়যাত্রা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন জনগনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন।এ বিষয়ে ভুল মত ভুল পথ পরিহার করুন। সর্ষের ভূত তাড়ানোর ব্যবস্থা জরুরি। তা না হলে হাইপারতত্ত্বে লিখছি।
আবেগ সৃষ্ট বন্যায় উন্নয়ন ভেসে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলেন, আমরা পানি’র উন্নয়নের জন্যে ইতিমধ্যে পানির গতি ইচ্ছে মত প্রবাহের জন্যে হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে রক্ষা বাঁধ সমূহ নড়বড়ে কাঠামো দিয়ে তৈরি করে দিয়েছি। এতে নদী সমূহের পানি যে কোন দিকে প্রবাহিত হতে পারে। এছাড়া পানির উন্নয়নে মানুষের বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা করনের লক্ষ্যে, বিভিন্ন কোম্পানিকে পানি প্লাষ্টিক বোতলে সংরক্ষণ করে বাজারজাতকরণে অনুমতি দিয়েছি। এতে পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।

অন্যদিকে প্রচুর টাকা আয় হচ্ছে পকেটে। আরো জানা যায়, পানি উন্নয়নে ব্যাপক গবেষনার জন্য খ্যাতিমান গবেষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের একজন প্রাথমিকভাবে জানিয়েছেন আপতত টেলিভিশন চ্যানেল গুলোতে টকশো এর সাথে ঝাল শো অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্যে। ঝাল শো প্রচারিত হলে পানির চাহিদা আরো বৃদ্ধি পাবে। সর্বপরি পানি উন্নয়ন বোর্ড এর ব্যাপক কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হওয়াতে, আবেগ সৃষ্ট বন্যায় নদী সমূহের পানির প্রবাহ নিজস্ব স্রোত ধারায় প্রবাহিত হবে। পানির প্রবাহ যাতে কোন মাধ্যমে বাধা গ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজর রাখা হয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণে চৌকষ কর্মকর্তা মীর জাফরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা রাখি এত আয়োজন সম্পন্ন হওয়াই আবেগ সৃষ্ট বন্যায় উন্নয়ন ভেসে যাওয়ার আশংকা নয়, নিশ্চিত করা হয়েছে।

লেখকঃ সুমন ভট্টাচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সনাতনী কল্যাণ সংঘ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here