মোদি-হাসিনা বৈঠক : আজ হোক প্রত্যাশা পূরণের দিন

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আরো এক দফা ভারত সফর শুরু হচ্ছে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আজ দুপুরে পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে নবনির্মিত বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনের পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ওই ‘ইনফরমাল’ বৈঠকে বসছেন মোদি। গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের সঙ্গে ‘ইনফরমাল’ (অনানুষ্ঠানিক) বৈঠকে বসছেন আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রতিবেশি রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। প্রত্যাশা যে কিছুই পূরণ হয়নি তাও নয়। ইতোমধ্যে অনেক প্রত্যাশাই পূরণ হয়েছে ভারতের বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে। যে ছিটমহল সমস্যা নিয়ে দশকের পর দশক ঝুলে ছিল সেটা তো এই নরেন্দ্র মোদিই সমাধান করেছেন। আর সেটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই। আমাদের জন্য খুবই সন্তোষের যে, বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলেই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সরকারের আমলের চাইতে অনেক আন্তরিক ও মজবুত। নিশ্চয় বিজেপি সরকারও এটা বুঝতে সক্ষম হয়েছে যে, বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের চাইতে আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগ সরকারই অনেক বেশি নিরাপদ। আর সাত/আট মাস বাকি আছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের।

এ নির্বাচন বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করার জন্য এক্ষেত্রে ভারতেরও কিছু করণীয় আছে বলে আমরা মনে করি। এক্ষেত্রে আমরা মনে করি ভারতের সঙ্গে এখনো যে সমস্যা জিইয়ে রয়েছে সেটা হচ্ছে ‘তিস্তা ইস্যু’। কাজেই আমরা প্রত্যাশা করছি আজকের (২৫.০৫.১৮) বৈঠকে এই ইস্যুটিও উঠে আসবে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে একটা ইতিবাচক বার্তা পাবো।

বাংলাদেশের সরকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার সাফল্যের পরিধি এই নির্ধারিত কলমে লিখে শেষ করা যাবে না। আমরা মনে করি, আগামী নির্বাচনে এই সাফল্যের ফিরিস্তি এক এক করে যথার্থভাবেই তুলে ধরতে পারলেই জনগণ তাদের সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে কসুর করবে না। তারপরও আমরা চাচ্ছি যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই যেহেতু আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, ‘আমাদের সরকারের (মোদি-হাসিনা) তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে’। আজকের বৈঠকে যেন সেই আশাবাদের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে সেটাই আমরা দেখতে চাই। তাহলেই বাংলাদেশের ষোলো কোটি জনগণ বুঝতে পারবে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদি যে আশাবাদের কথা শোনান তার যথার্থ প্রতিফলন তিনি ঘটাতে কখনো ভুল করেন না। আর আমরাও এই বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকৃত্রিম উজ্জ্বল হাসিমুখ দেখতে চাই। যে হাসিমুখের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠবে গোটা বাংলাদেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here