মেয়েদের জন্য প্রযুক্তির বিপদ জনক ফাঁদ!

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

বিপদ থেকে রক্ষা পেতে আপনি যতই সতর্কতা বাড়াচ্ছেন প্রযুক্তির নিত্য নতুন আবিস্কারের সুবাদে পেছনের পুরনো পরিচিত কৌশল ফেলে অপরাধীরা নতুন কৌশলে আপনাকে ফাঁদে ফেলতে নিচ্ছে প্রস্তুতি! আর তাহল প্রযুক্তির ফাঁদ- খুব সহজেই আপনি অথবা আপনার স্বজন কিংবা আপনার সবচেয়ে প্রিয়জনটাও যেকোন সময় হতে পারে ভয়ানক নোংরামীর শিকার!

একমাত্র সাবধানতা আর প্রয়োজনীয় সতর্কতাই পারে আমাদের অনাকাংখিত বিপদ এবং বিব্রতকর কোন পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে রাখতে। প্রযুক্তির হাত ধরে এগিয়ে বদলেছে পুরোনো অভ্যাস। কেনাকাটায় যোগ হয়েছে দারুণ সব সুযোগ। অধিকাংশ শপিং সেন্টারে থাকছে ট্রায়াল রুম।

পছন্দের পোশাকটি ঠিকঠিক গায়ের মাপে কি না তা দোকান থেকেই দেখে নেয়া যাচ্ছে। কিছু কুরুচিপূর্ণ মানুষ সেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সমাজে ঘটাচ্ছে নানা রকম নোংরামি।

প্রয়োজনীয় ট্রায়াল রুম বা পাবলিক টয়লেটে সেট করছে গোপন ক্যামেরা। আর গোপনে ভিডিও করা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ দৃশ্য। এমন পরিস্থিতিতে আপনি বা আমি কতটুকু নিরাপদ? তাই দরকার আগেই গোপন ক্যামেরা শনাক্ত করা।

কিন্তু কীভাবে?
শপিংমলের ট্রায়াল রুমে যে আয়না থাকে সেটা আসল নাও হতে পারে, এটিও গোপন ক্যামেরার মতই মারাত্মক! প্রযুক্তির অপব্যবহারে আসল আয়নার মাঝে এখন যুক্ত হয়েছে নকল আয়না, যাকে বলা হয় দ্বিমুখী আয়না। এই আয়নায় আপনি আপনার চেহারা দেখতে পারবেন, কিন্তু ভুলেও বুঝতে পারবেন না যে অন্য পাশ হতে কেউ আপনাকে দেখছে !

শপিংমলের ট্রায়াল রুমে পোশাক পাল্টানোর সময় হিডেন বা পিন হোল ক্যামেরায় ছবি উঠে যাওয়ার ঘটনাতো সবাই জানেন। কিন্তু এবার নতুন বিপদ! ট্রায়াল রুমে আপনি যে আয়নার সামনে পোশাক পাল্টাচ্ছেন সেই আয়নার মধ্য দিয়েই হয়তো আপনার গোপন মুহূর্ত দেখে নিচ্ছে অন্য কেউ।

এক ধরণের আয়না রয়েছে যাকে বলে ‘টু-ওয়ে মিরর’। আজকাল টয়লেট বা ট্রায়ালরুমে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে এই ‘টু-ওয়ে মিরর’।

দেখতে পুরো সাধারণ আয়নার মতোই। এতে সাধারণ আয়নার মতোই নিজেকে দেখতে পাওয়া যাবে কিন্তু আয়নার পেছনে যে আছে তাকে দেখা যায় না।অথচ সে আপনাকে স্পষ্ট দেখতে পাবে। আর সেখান থেকেই তৈরি হবে গোপন মুহূর্তের ভিডিও।

কিভাবে বুঝবেন টু ওয়ে মিরর ব্যবহার করা হয়েছে কি না?
শপিংমল অথবাদোকানের যে ট্রায়ালরুমে আপনি চেঞ্জের জন্য ঢুকছেন সেখানে কোন আয়না থাকলে নিচের দেখানো ছবির মত আপনার

আঙ্গুল তির্যকভাবে রাখুন সেখানে আপনার আঙ্গুলের ছবিতে যদি গ্যাপ দেখতে পান তাহলে ঠিক আছে। আর যদি ছবির মত দেখেন কোন গ্যাপ নেই তাহলে বুঝবেন সমস্যা আছে ওপার থেকে কেও ঠিক দেখছে আপনার কাপড় বদলানোর মুহুর্ত!

বিভিন্ন শপিং মলে,দোকানের ট্রায়াল রুমে একশ্রেনীর বিকৃত মনের অসাধু মানুষেরা এসব গোপন ক্যামেরা রেখে প্রতিদিন আপনার আমার অজান্তেই ধারন করছে মেয়েদের নগ্ন ছবি-ভিডিও! যার ভয়ানক প্রভাব আমাদের কারোই অজানা নয়।

বর্তমানে এধরনের হিডেন ক্যামেরা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। মেয়েদের কাপড়ের দোকানের খারাপ সেলসম্যানরা অনেক দোকানের ট্রায়াল রুমে , পাবলিক টয়লেটে এবং আবাসিক হোটেলগুলোর বাথরুমেও এমন ক্যামেরা বসিয়ে থাকতে পারে।

খুব সহজেই তারা মেয়েদের কাপড় বদলানোর নগ্ন ভিডিও ধারন করে তা বিভিন্ন ওয়েব পেজে ছড়িয়ে দিয়ে থেকে আয় করছে টাকা।আবার কেওবা স্রেফ বিকৃতির কারনেই ছড়িয়ে দিচ্ছে এসব নগ্ন ছবি।

যার ফলসশ্রুতিতে এখন ইউটিউব এবং বিভিন্ন পর্ণ সাইটে লাখ লাখ হিডেন ক্যামেরার ফুটেজ !

রুমে গোপন ক্যামেরার অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায় খুব সহজে। কাজটি আপনিও করতে পারেন মাত্র এক মিনিটে। এজন্য ট্রায়াল রুমে (যেখানে কাপড় বদল করবেন) ঢুকে আপনার মোবাইল থেকে কাউকে কল দেয়ার চেষ্টা করুন।

যদি কল করা যায় ও নেটওয়ার্ক ঠিক থাকে, তাহলে বুঝবেন গোপন ক্যামেরা নেই। আর যদি কল করা না যায় ও নেটওয়ার্ক হঠাৎ করে একদম ডাউন হয়ে যায়, তাহলে বুঝবেন সেখানে অবশ্যই গোপন ক্যামেরা রয়েছে।

গোপন ক্যামেরার সঙ্গে ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল থাকে। সিগন্যাল ট্রান্সফার করার সময় এর ইন্টারফিয়ারেন্স হতে থাকে। যার জন্য মোবাইল নেটওয়ার্ক সেখানে ঠিকমতো কাজ করেনা।

এ ছাড়াও ট্রায়াল রুমের আয়নার পেছনেও লুকানো থাকতে পারে ক্যামেরা। কোনো অবস্থাতেই নিজের চেহারা দেখার সময় তা টের পাওয়া যায় না।

তাই কাপড় বদলানোর আগে আঙুল রাখুন আয়নার ওপর। যদি আপনার আঙুলের মাথা প্রতিবিম্ব আঙুলের মাথার সঙ্গে না লাগে অর্থাৎ মাঝে ফাঁকা থাকে তাহলে আয়না আসল।

আর যদি আঙুলের মাথা প্রতিবিম্বের মাথার সঙ্গে লেগে যায়, বুঝতে হবে এটা দ্বিমুখী আয়না। যার পেছন পাশ থেকে খুব সহজেই আপনার ছবি বা ভিডিও করা সম্ভব। তাই সাবধান হওয়া জরুরি এখনই। তাহলে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব অজানা বিপদ থেকে।

 

অনলাইন/কে 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here