মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

কুরআন ও সুন্নাহ অর্থাৎ আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলকে (সাঃ) অনুসরণ করলে ইসলামের সঠিক শিক্ষার দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় বলে আলেম-ওলামাদের মুখে শুনেছি। আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার দেশ শাসনে এই দিকনির্দেশনা খুঁজে পেয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাসমূহের মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি দেশের মাদরাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার সরকারের আমলেই মাধ্যমিক পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আলেম-ওলামাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশে ইসলামি শিক্ষার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে প্রথম ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই প্রথম স্বতন্ত্র মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন। সেই সঙ্গে মাদরাসাগুলোতে অনার্স কোর্স চালু করার অনুমতি দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারই দীর্ঘ সময় পর কওমি সনদের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক হাজারেরও বেশি কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীকে সরকারি চাকরি দিয়েছেন। যে কওমি মাদরাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে ইসলাম বিক্রি করে রাজনীতি করতো জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিতে পারত, কিন্তু দেয়নি। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে দীর্ঘদিন জরাজীর্ণভাবে পড়ে ছিল মাদরাসা ভবনগুলো। শেখ হাসিনা সেগুলোর মধ্যে থেকে এক হাজার মাদরাসার একাডেমিক ভবন তৈরি কওে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তার সরকার এ ্জন্য ৭৩৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন করে।

কালের আবর্তে হারিয়ে যাওয়া মক্তব শিক্ষার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য শেখ হাসিনার সরকার এক হাজারেরও বেশি দারুল আরকাম মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো সঠিকভাবে বর্ণনা ও পালন করার লক্ষ্যে দেশে ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠন করেছে। ধর্মীয় শিক্ষাদানের পাশাপাশি আলেম-ওলামাদের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে শেখ হাসিনা মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ষষ্ঠ পর্যায়ে প্রায় ১৬শ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যার ফলে ছিয়াত্তর হাজার এবং আটান্ন হাজার আলেম-ওলামার কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। যেটি পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এছাড়াও কন্যাশিশু ও বয়স্ক নারীদের ধর্মীয় শিক্ষাদানের জন্য ছয় হাজার ধর্মপরায়ণ নারীর কর্মসংস্থান করেছেন। ইসলামের দাওয়াতি কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইসলামি ফাউন্ডেশনের চল্লিশটি মিশনের পাশাপাশি আরও সাতটি মিশন কেন্দ্র স্থাপন করেছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সভায় বলেছেন, বর্তমান সরকার মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতর, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, শিক্ষকদের বেতন জাতীয় বেতন স্কেলের অন্তর্ভুক্তিসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাও মাদরাসা শিক্ষা ও শিক্ষক বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। জমিয়াতুল মোদাররেসিন মাদরাসা শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিক। ইতোমধ্যে অনেক দাবি পূরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের সকল দাবি পূরণ করা হবে। ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪১৩ কোটি টাকার প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেক সভায় পাস হয়েছে। ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার ঘাটাচর ও মধ্যচরে ২০ একর জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আধুনিক শিক্ষার সাথে সমন্বয় রেখে মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ হবে।

মাদরাসা শিক্ষায় অধিক দক্ষ ও প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জনবল সৃষ্টি হবে। তারা দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে, যা দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি, এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) ও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমাদের সচেতনতা এবং প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উদ্যোগের ফলে আমরা এই বাংলাদেশে এখন পেতে শুরু করেছি যুগোপযোগী ও আধুনিক মাদরাসা শিক্ষা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করুন। আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here