মসজিদভিত্তিক ইসলামি শিক্ষার প্রসারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে বছরের শ্রেষ্ঠ রাত। যে রাতে বান্দার গুনাহ ক্ষমা করানোর অপার সুযোগ রয়েছে। এ রাত সারা বছরের সমস্ত রাত অপেক্ষা সর্বাধিক মর্যাদাশীল, বৈশিষ্ট্যম-িত ও মহিমান্বিত বলে এ রাতের নামকরণ করা হয়েছে লাইলাতুল কদর। এ সম্পর্কে গতকাল আমরা কিছুটা আলোচনা করেছি। এ রাতের মর্যাদা এতই বেশি যে এর মর্যাদা বর্ণনা করে একটি পূর্ণ সুরা নাজিল করেছেন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।

আল্লাহর হাবীব হযরত মুহম্মদ (সাঃ) বলেন, যখন লাইলাতুল কদর উপস্থিত হয়, তখন হযরত জিবরাঈল আমীন একদল ফেরেশতাসহ পৃথিবীতে নেমে আসেন। তাদের সাথে সবুজ রঙের একটা ঝা-া থাকে যা কাবা শরীফের ওপর উড্ডীন করে দিয়ে ফেরেশতারা পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়েন এবং আল্লাহর বান্দা-বান্দিরা যে যেখানে যে অবস্থায় দাঁড়িয়ে, বসে, আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকে, দোয়া করে, তাদেরকে সালাম করে, তাদের সাথে মুসাফাহ করে এবং তাদেও দোয়ায় ‘আমীন আমীন’ বলতে থাকে। (বায়হাকী)। গতকাল আমরা বলেছিলাম, এ রাতকে আল্লাহপাক অনির্দিষ্ট করে রেখেছেন। এ মহা মূল্যবান রাতকে আল্লাহ তায়ালা তার বিশেষ হেকমতের কারণেই অনির্দিষ্ট রেখেছেন। তবে তা অনির্দিষ্ট হলেও আমাদের জন্য অনেকটাই নির্দিষ্ট। কেননা লাইলাতুল কদর সাধারণত রমজান মাসেই হয়েই থাকে। তা হলে বাকি এগারো মাস থেকে নির্দিষ্ট হয়ে গেল একমাস। একমাসের মধ্যে আবার শেষ দশকেই হওয়া নির্দিষ্ট। তা হলে আরও সীমাবদ্ধ হয়ে গেল। এরপর এ দশ দিনের মধ্যে আমার বেজোড় রাতে হওয়া নির্দিষ্ট। এই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’ (বুখারি)। তাই রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোই লাইলাতুল কদরের সম্ভাবনার রাত। প্রতিটি মুমিনের উচিত সে রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করা। ইসলামের খিদমতগার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে মাহে রমজানে বেশি বেশি ইবাদত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। লাইলাতুল কদরে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ), শবেকদর, শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একার কৃতিত্ব নয়। ধর্মীয় দিবসসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের উদ্দেশ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম বাংলাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন এবং উল্লিখিত দিবসসমূহের পবিত্রতা রক্ষার্থে সিনেমা হল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র রমজানে মসজিদে মসজিদে ব্যাপক কুরআন শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। জাতীয় মসজিদে হাদিস শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। মাদরাসা শিক্ষার সমস্ত পথ খুলে দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। যার ফলে আন্তর্জাতিক হিফজ, কিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের বয়ে আনছে সাফল্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রতি জেলা ও উপজেলা সদরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের আদলে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা কি চাট্টিখানি কথা? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপজেলা পর্যায়ে একটি করে মসজিদ সরকারিকরণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বাস্তবায়ন হলে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে মসজিদভিত্তিক ইসলামি শিক্ষা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি গ্রামে একটি করে মক্তব চালু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এসবের আগেই পবিত্র কুরআন মুদ্রণ, প্রচার ও অনুবাদে সহযোগিতা করা, হিফজ, কিরাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান, মসজিদ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে কারিগরি ও স্থাপত্যের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়সহ আরও কিছু বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। এর ফলে মসজিদভিত্তিক ইসলামি শিক্ষার প্রসার আরও সহজতর হয়।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নিজেই একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন, তাই ইসলামি মূল্যবোধের ব্যাপারে তিনি সচেতন। শেখ হাসিনা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন, রোজা রাখেন, পবিত্র হজব্রত পালন করেন। প্রতিবছর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। ইসলামিী শিক্ষার পাশাপাশি তিনি ইসলামের দাওয়াতকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাবলিগ জামাতের একান্ত পৃষ্ঠপোষক হিসেবে। এই তাবলিগ আন্দোলনের সিপাহসালা হযরত মাওলানা ইলয়াস (রহ.) যে ৬টি বিশেষ গুণ অর্জনের মেহনত করার জন্য মানুষকে বলেন সেই ৬টি বিশেষ গুণ হলো- কালেমা, নামাজ, এলেম ও জিকির, ইকরামুল মুসলিমিন (মুসলমানদের সেবা), সহিহ্ নিয়ত ও তাবলিগ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের দাওয়াতের এই মেহনত করার তৌফিক দিন। আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here