ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য সংকটে অনুন্নত বন্দর

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশের সাথে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি রফতানি করা হয় তার মাত্র ২ শতাংশ স্থলবন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের চিত্র ভিন্ন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বৃদ্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের সাথে ভারতের যতগুলো স্থলবন্দর আছে মাত্র দুটি স্থলবন্দর ছাড়া বেশিরভাগ স্থলবন্দরের মাল খালাশ ব্যবস্থাপনা অনুন্নত।

রোববার (২৯ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্যে স্থলবন্দর সমস্যা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদ।

তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে যে পরিমাণ পণ্য ভারতে রফতানি করা হয় তার চেয়ে দশগুণ মালামাল সে দেশ থেকে আমদানি করা হয়। এ সমস্যার সমাধান করতে আমাদের স্থলবন্দরগুলোর সেবার মান আরো উন্নত করতে হবে। সোনামসজিদেরর পাশাপাশি ভারতের সাথে সংযুক্ত অন্যান্য বন্দরগুলোর পণ্য আনা-নেওয়া ব্যবস্থাপনা সহজ করা হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শোয়েব চৌধুরী, ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক করিম প্রমুখ।

হাইকমিশনার তারেক করিম বলেন, বাণিজ্য খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের চাহিদা কম। তাদের প্রধান টার্গেট পশ্চিমা মার্কেট। কিন্তু এই চিন্তা বাদ দিয়ে ভারতের সাথে ব্যবসা সৃষ্টি করলে দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নত হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলে চলবে না সাথে সাথে মানবসম্পদ ও ব্যান্ডউইথ উন্নয়নও জরুরি।

এ বিষয়ে নৌমন্ত্রী শাজহান খান বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নের সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে। বেনাপোল ও সোনামসজিদসহ দেশের অন্যান্য বন্দরগুলো উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন ভোমরা বন্দরের উন্নয়নে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যা খুব দ্রুত বেনাপোলের কাছাকাছি সুবিধা দিতে প্রস্তুত হবে। উদাহরণস্বরূপ মন্ত্রী বলেন, ২০০৮-৯ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশের আয় ছিল ২৬.৮৬ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেই আয় বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১১১.৭৪১১১ কোটি টাকাতে। সুতরাং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি করার জন্য চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে রফতানির ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি করা সম্ভব হয়নি। কারণ তাদের চাহিদা কম। কিন্তু পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভবিষ্যতে ভারতে আরও বেশি পণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

 

অনলাইন/কে 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here