ব্লু ইকোনমির ওপর রাষ্ট্রপতির গুরুত্বারোপ

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

আয়তনে বাংলাদেশ তেমন বড় কোনো রাষ্ট্র না হলেও দেশটিতে যে সম্পদ রয়েছে তা আয়তনে বড় বিশ্বের অনেক রাষ্ট্রেরই নেই। এতো গেল ভূসম্পদের কথা। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে যে বিরোধ ছিল এবং আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে তা মীমাংসিত হওয়ার পর বাংলাদেশের অধিকারে যে বিশাল সমুদ্রসীমা এলো তাতে করে আগামী দিনগুলোতে দেশটি ব্লু ইকোনমিতে এক বিরাট সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ‘শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০১৬’ প্রদানকালেও এই ব্লু ইকোনমির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এতে রাষ্ট্রপতি আরো বলেন, ‘এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগামী। বেশ কিছু সূচকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় অর্জিত সাফল্য গোটা বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’ আর এর সব অর্জনের মূলেই যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চৌকস নেতৃত্ব এতে আর নতুন করে বলার কিছু নেই। কথা হচ্ছিল সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি নিয়ে। স্বাধীনতার পর থেকে বিগত প্রায় সাড়ে চার দশকজুড়ে যে খাতটি নিয়ে ইতিপূর্বের কোনো সরকার মাথা ঘামায়নি।

সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন। দেশভাগের পর বঙ্গোপসাগরের সীমানা নিয়ে ভারত, মিয়ানমার (তৎকালীন বার্মা) ও বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) মধ্যে যে জটিলতা থেকে যায় তা নিয়ে এ তিনটির কোনো দেশই কোনো সমাধানে আসেনি। তিনটি দেশই যার যার মতো সমুদ্রের মৎস্য সম্পদ আহরণ করে আসছিল। তার ওপর তখন মৎস্যসম্পদের প্রতি ততো আগ্রহীও ছিল না দেশ তিনটির কোনো দেশ। কারণ তখন দেশ তিনটিই নদী-নালা, খাল-বিল, হাওর, পুকুরের মাছেই স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল। পরবর্তীকালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক মাছের চাহিদা বৃদ্ধি এ দুয়ে মিলে পরস্পর এই প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝামেলা বেঁধে যেতো। এরপর গবেষকদের তথ্যে উঠে এলো এ সমুদ্র অঞ্চলে অফুরন্ত খনিজ সম্পদের বিবরণ। প্রয়োজন দেখা দিল কারা কোন পর্যন্ত এ খনিজ সম্পদ আহরণ করতে পারবে।

সামরিক শক্তিতে ভারত ও মিয়ানমার দুটো দেশই বাংলাদেশের চেয়ে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে। কাজেই এটা বাংলাদেশের জন্য সামরিক যুদ্ধের মাধ্যমে মীমাংসিত হওয়ার বিষয় নয়। তখন বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে ও নিয়মতান্ত্রিক পথেই আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হয়। বাংলাদেশ এখন বিশাল সমুদ্র সীমার অধিকারী। এ সমুদ্র সীমায় বিপুল পরিমাণ মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য, তেল, গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এটি দেশের ব্লু ইকোনমিক সম্প্রসারণে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে বিদেশি বিনিয়োগেরও চমৎকার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এখন এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। ব্লু ইকোনমির নতুন এই সম্ভাবনার ক্ষেত্র পুরোপুরি কাজে লাগাতে সক্ষম হলে আগামীতে এশিয়ার বুকে বাংলাদেশ হবে সবচাইতে বিস্ময়কর এক সম্মোহনীকর দেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here