ব্যাংক নিয়ে সংসদে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা চলছেই

:: সংসদ প্রতিবেদক ::

ব্যাংক খাতে লুটপাটের মধ্যে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাবে সংসদে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন কয়েকজন সংসদ সদস্য। ব্যাংকের করপোরেট কর আড়াই শতাংশ না কমিয়ে ১ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবও এসেছে।

মঙ্গলবার (১২ জুন) থেকে সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ব্যাংক খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন তিনজন সাংসদ।

এর আগে রোববার ও সোমবার সম্পূরক বাজেটের ওপর দুই দিনের আলোচনায়-সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে জাসদের সাংসদ নাজমুল হক প্রধান বলেন, ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার ব্যাংককে টাকা দেওয়া হচ্ছে। একবার ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে, একবার করের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এভাবে হয়তো ব্যাংক রক্ষা করা যাবে, কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে জায়গায় যাওয়ার লক্ষ্য, তা পূরণ হবে না। ব্যাংক থাকবে, অর্থনীতি কলুষিত হবে। তিনি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর আড়াই শতাংশের জায়গায় ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করেন।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মোহাম্মদ নোমান বলেন, আমরা ছোটবেলায় ডাব খেতাম, রস খেতাম। তখন বলত চুরি করেছি। আর এখন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, অথচ লুট বলা যাবে না। রাষ্ট্র ব্যাংককে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যাংকের করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাবের সমালোচনা করে সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, ব্যাংক খাতে যে লুট হয়েছে, নাদির শাহের দিল্লি লুটের সময়ও এত টাকা লুট হয়নি।

তিনি বলেন, ব্যাংকের করপোরেট কর আড়াই ভাগ কমানো হয়েছে, কিন্তু অন্য করপোরেট খাতে ৪০ শতাংশই রাখা হয়েছে। যে খাত ভালো করছে, সেখানে কর কমানো হয়নি, যে খাতে লুটপাট হচ্ছে, সেখানে কর কমানো হচ্ছে। এত বড় বাজেট বক্তৃতায় বিচার বিভাগ নিয়ে মাত্র দুটি কথা বলা হয়েছে। এই বাজেট ‘ব্যুরোক্রেটিক’ বাজেট। যখন এ ধরনের বাজেট হয়, তখন বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হওয়ার আগে সাংসদ তাহজীব আলম সিদ্দিকী পয়েন্ট অব অর্ডারে অর্থমন্ত্রীর পক্ষে কথা বলেন।

তিনি বলেন, ব্যাংক খাত সত্যিকার অর্থে যতটা নাজুক পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যাচ্ছে, তার চেয়ে বেশি কিছু অযাচিত মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ এই খাতকে আরও দুর্বল এবং অস্থিতিশীল করছে। অর্থমন্ত্রীর অনেক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তবে তিনি একজন নীতিবান ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি। তার সঙ্গে ব্যাংক খাতের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নেই।

ভোরের পাতা/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here