বিএনপির নতুন চেয়ারপারসন হচ্ছেন ডা. জোবাইদা!

::উৎপল দাস::

তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার সঠিক কক্ষপথেই রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ব্যাপক উন্নয়ন আর শেখ হাসিনার একক ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বগুণে আবারো ক্ষমতায় আসছে আওয়ামী লীগ এ কথা বিএনপির অনেক নেতাই গোপনে স্বীকার করেন। কিন্তু নিজেদের দলের নিবন্ধন বাঁচাতে এবং ভবিষ্যতে দলকে বাঁচিয়ে রাখতে বিএনপির নেতৃত্ব পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, দণ্ডিত আসামি, লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমান। তিনি এবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পরামর্শে সরাসরি রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছেন। দলের নতুন চেয়ারপারসন কে হবেন তা অবশ্য তিনি ঠিক করে দিয়েছেন তারেক রহমান। নিজ পত্নী ডা. জোবাইদা রহমানকে পরবর্তী বিএনপির চেয়ারপারসন করার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান। লন্ডন থেকে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে।

খালেদা জিয়ার মুক্তি, দলের বেহাল দশা দূরীকরণ, নেতৃত্বে পরিবর্তন, সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করার জন্য পলাতক তারেক রহমানের জরুরী তলবে এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সূত্রের খবর জানা গেছে, তারেক রহমানের সাথে একাধিক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল। বৈঠকে নিজেদের অক্ষমতা, নেতৃত্বহীনতা ও দলের নেতা পরিবর্তনের বিষয়ে একমত হতে পেরেছেন তারেক ও মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন নিজের ভুলের জন্য। নিজে সরাসরি আর রাজনীতি করবেন না বলেও কথা দিয়েছেন।

জানা গেছে, ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়ে পদত্যাগ করে স্ত্রী ডাঃ জোবায়দা রহমানকে দলের চেয়ারপারসন বানাতে রাজি হয়েছেন খোদ তারেক রহমান।

লন্ডন বিএনপির সূত্রের খবরে জানা যায়, খালেদা জিয়ার কারাবরণ, নেতা-কর্মীদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আন্দোলন, সিনিয়র নেতাদের বেইমানি, গোপন বার্তালাপ পাচার করে দেওয়া এবং সর্বোপরি তাকে দলের চেয়ারম্যান মানতে রাজি না হওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরে মর্মাহত তারেক রহমান। দল পরিচালনা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রেখে সরকারকে চাপে রাখা, বিএনপিকে কার্যত অকার্যকর করে দেওয়ার মতো কাজের জন্য নিজেকে দোষী মানছেন তারেক রহমান। এই বিষয় নিয়ে স্ত্রী জোবায়দা রহমানের নিজের মনের কথা বলেছেন তারেক রহমান। নিজের দুর্নীতি করে কামাই করা টাকাও প্রায় শেষের পথে, দলের নেতা-কর্মীরাও নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করছেন না, সৌদি আরব থেকেও টাকা আসছে না, লন্ডনে জায়গা-জমির দালালী ব্যবসাতেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে পথে বসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে তারেকের। এই অবস্থায় দল চালানো তার পক্ষে সম্ভব না। আর জোবায়দা রহমানের কাছে অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। যেহেতু বিএনপি নারী নেতৃত্বে চলা দল, তাই নিজেকে প্রত্যাহার করে জোবায়দাকে সকল দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারেক রহমান।

সূত্রের খবরে জানা যায়, তারেক কোনদিন বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন না। ভার্চুয়ালি দল চালানো সম্ভব না। এছাড়া তারেক একাধিক দুর্নীতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এই কারণে বিদেশি বন্ধুরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বিএনপির তরফ থেকে। একজন চোর, দুর্নীতিবাজকে কোনভাবেই একটা পয়সাও দিতে চাচ্ছে না বিএনপির সহমর্মী বিদেশি রাষ্ট্রগুলো। সব মিলিয়ে তারেক রহমান ও বিএনপির কঙ্কালসার অবস্থা। পরিস্থিতি বিবেচনায় জোবায়দা রহমানকে দলের চেয়ারপারসন মনোনিত করার জন্য মির্জা ফখরুলের কাছে নিজের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন তারেক রহমান। তারেক বলেন, আমি থাকব না দায়িত্বে, কিন্তু দল চলবে আমার বেডরুম থেকেই। এখন থেকে জোবায়দা রহমানকে চাঁদা পাঠাতে হবে ফখরুল সাব। সবাইকে এই বার্তা পাঠিয়ে দিবেন। দল চালাতে টাকা লাগে জনাব। শুধু কান্নাকাটি করলে দল চলে না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here