ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ঢাবি

:: তৌহিদ জামান ::

হাতে গোনা দূরত্বে বিশ্বকাপ ফুটবল। কিন্তু উৎসব আমেজ ও সমর্থকদের উন্মাদনা দেখে দেখে বোঝার উপায় নেই যে বিশ্বকাপ শুরু হতে আরও ১৬ দিন বাকি। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হলের প্রায় প্রতিটি কক্ষে বিশ্বকাপের আলোচনা। যেকোনো অনুষ্ঠানের পূর্বের দিন যেমন পরিবেশ বিরাজ করে বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে ঠিক তেমনই পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

সমর্থক সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশে অধিকাংশ সমর্থক আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল এই দুই শিবিরে বিভক্ত। তবে জার্মান সমর্থকও একেবারে কম না। আসন্ন বিশ্বকাপ ফুটবলকে স্বাগত জানাতে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের হলের শিক্ষার্থীরা। ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্টী তাদের সরব উপস্থিতি জানান দিচ্ছে মহাসমারোহে। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হলে ঢুকতেই চোখে পড়ে মেইন গেটের সাথে ব্রাজিল সমর্থকদের বিশাল পতাকা।

মেইন গেট থেকে দু-এক পা এগিয়ে দেখো যায় পথের দু ধারে ব্রাজিল ও বাংলাদেশের পতাকা। চোখ কপালে তুললেই দেখা মিলবে হলের ভিতরে প্রবেশের মুখে টাঙানো হয়েছে হল সভাপতি তাহসান আহমেদের সৌজন্যে ব্রাজিলের বিশাল এক পতাকা। উপরে পত পত করে উড়ছে লম্বা বাশে ঝুলানো ব্রাজিল, জার্মান ও বাংলাদেশের পতাকা।

হল গেটে দু-এক মিনিটি দাঁড়াতে শোনা বিভিন্ন দলের সমর্থকদের বিভিন্ন কথা। হটাৎ বাইরে থেকে এসে আর্জেন্টিনার এক সমর্থক তো বলেই বসলেন ’হল তো দেখি পুরাই ব্রাজিলের দখলে’।

এস এম হলের অর্জেন্টিনা দলের সমর্থক নাসির উদ্দিন বলেন, ’আমার শতভাগ আশাবাদী এবার আমরা বিশ্বকাপ জিতব। আমার ইতোমধ্যে প্রিয় দলের জার্সি তৈরি করেছি, ফেসবুকে ফ্যান ক্লাব খুলেছি এবং অর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিয়ে একটি কমিটি করার চিন্তাও করছি’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো ঘুরে দেখা যায় হলের দেওয়াল, টিভি রুমসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ সমর্থনকারী দলের পতাকা রং তুলি দিয়ে একেছেন। কোনো হলের ছাদ থেকে মাটি পর্যন্ত বিশাল পতাকা টাঙানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের মেইন গেট দখলে রাখছে আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। রং তুলি দিয়ে গেটজুড়ে আকানো হয়েছে আর্জেন্টিনার পতাকা। তবে হলের ভিতরে ব্রাজিল সমর্থকদের কিছু নিদর্শনও আছে।

জগন্নাথ হলের নতুন ভবনও ব্রাজিল আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দখলে। প্রবেশ পথের দুধারে ব্রজিলের পতাকা আর ছাদ থেকে নিচে মাটি পর্যন্ত দেওয়া আছে আর্জেন্টিনার পতাকা।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সামনে টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা। যা নজর কাড়ছে শিক্ষার্থীদের।

আর্জেন্টিনা সমর্থক জিয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হারুন-অর-রশিদ বলেন, সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে সকল চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করে বিশ্বকাপের এই আসরের শিরোপা এবার আর্জেন্টিনার ঘরেই আসবে বলে বিশ্বাস করি।

ব্রাজিল দলের সমর্থক হাজী মুহাম্মদ মহসিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাজেদুলের আশা করেন আমাদের দলের সব প্লেয়ার এবার তাদের সেরা খেলা উপহার দিবে এবং সারা বিশ্বকে চমকে দিয়ে ব্রাজিল এবার নিজের ঘরেই বিশ্বকাপ শিরোপা রাখবে।

বিশ্বকাপের এই উৎসবে প্রতিটি হলে গ্রুপ ভিত্তিক চাঁদা আদায় করে জার্সি ও পতাকা কেনা হচ্ছে। পক্ষ ও বিপক্ষের দল নিয়ে চলছে বাকযুদ্ধ। সবাই পছন্দের দল ও খেলোয়াড়কে সেরা বানানোর প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। অন্যদলের সমর্থকদের সাথে দেখা হলেই তার নামে না ডেকে ’কিরে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনা কেমন আছিস?’ এমন আলাপনি বেশ জমে উঠেছে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রচার প্রচারনা চলছে বেশ জোরেশোরে। অন্যদলের সমর্থকদের কোনো খারাপ নিউজ পেলে ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ার ধুম পড়ছে। সমর্থক দলের নামে খোলা বিভিন্ন পেজেও নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। সাথে চলছে সমর্থক বাড়ানোর প্রচেষ্টাও।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয় এই আনন্দ উৎসব ও তর্ক-বিতর্কে মেতে ওঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারাও। যেখানেই ৪-৫ জন একসঙ্গে জড়ো হচ্ছে সেখানেই চলছে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আলোচনা।

ভোরের পাতা/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here