ফারইস্ট লাইফকে লুটেপুটে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ নজরুল-খালেক-হেলাল-পুষ্টি গং

::উৎপল দাস::

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি কেলেঙ্কারিতে লুটপাটকারীদের মধ্যে আজকের ৪র্থ পর্বে থাকছে কোম্পানিটির বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের খতিয়ান।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে লুটেপুটে খেয়ে যারা ইতোমধ্যে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে সে দুষ্ট চক্রটির মুলহোতা নজরুল ইসলাম জাপানে অবৈধ অভিবাসি হিসেবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার পর জাপান পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে দেশে ফেরৎ আসে। ফারইস্ট এ যোগ দেওয়ার পর তার ভাই মোশারফ হোসেন পুষ্টি, ভুয়া পরিচালক এম এ খালেক ও পরিচালক হেলাল মিয়াসহ ফারইস্টকে লুটেপুটে খেয়ে অল্প কয়েক বৎসরেই আঙুল
ফুলে কলাগাছ হয়েছে।

ফারইস্টের জমি কেনার সময় কোটিকোটি টাকা অাত্মসাৎ করাসহ সাধারণ বীমাগ্রাহকদের টাকা এমনকি মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মীদের টাকা আত্মসাৎ করে অল্প কয়েক বৎসরেই নজরুল ইসলাম- খালেক গং গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

জাপান থেকে কপর্দকশূন্য হয়ে ফেরৎ আসা নজরুল ইসলাম ফারইস্টের আশ্চর্যপ্রদীপের ঘষায় এখন একাদিক কোম্পানির চেয়ারম্যান, একাদিক কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান, কয়েকটি কোম্পানির এমডি ও একাদিক কোম্পানির ডিরেক্টর।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে ফারইস্ট কেলেঙ্কারীর সর্দার নজরুল ইসলাম বর্তমানে ১) ফারইস্ট ইসলামী সিকিউরিটিস লিমিটেড ২) ফারইস্ট ইসলামি প্রোপারটিজের চেয়ারম্যান ৩) প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি ৪) প্রাইম মাল্টিমিডিয়া এবং ৫) বি আই পি ডি এর ভাইস চেয়ারম্যান ৬) রামিশা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৭) পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৮) ফারইস্ট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৯) রামিশা কম্পোজিট টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেড ১০) অপ্সরা হোল্ডিংস লিমিটেড ১১) রামিশা বিডি লিমিটেড ১২) রিমশা বিডি লিমিটেড এর এম ডি এবং১৩) মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড ১৪) প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিস লিমিটেড এর পরিচালক এবং ১১) রামিশা এন্টারপ্রাইজ ও ১২) রিমশা এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধীকারি। এছাড়াও ফারইস্ট এর টাকা অাত্মসাৎ করেই নজরুল ইসলাম নামে বেনামে শতশত কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া ফারইস্ট এর কোটি কোটি টাকা খরচ করেই নজরুল ইসলাম বছরে অসংখ্যবার বিদেশ ভ্রমণ করে থাকে বলে একাদিক সূত্রে জানা যায়। ইতোমধ্যে অস্বাভাবিক মাত্রার ওভারহেড খরচ কমানোর জন্য বাংলাদেশ বীমা নিয়ন্ত্রন কতৃপক্ষ (আইডিআরএ) একাদিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও ওভারহেড এক্সপেন্স দেখিয়ে বছরে কোটি-কোটি টাকা আত্মসাৎ করে চলছে নজরুল-খালেকের নেতৃত্বাধীন দুষ্ট চক্রটি। যাতে তাদের উল্লিখিত কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা না করা হয় এজন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে তারা তাদের নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়েছে বলে একাদিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা ফারইস্ট এর এসব লুটপাট হলমার্ক ডেসটিনি কিংবা বেসিক ব্যাংক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারির চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়
বলে বোদ্ধামহল মনে করছেন। এখনই নজরুল-খালেক গং এর লাগামহীন লুটপাট বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে ফারইস্ট-কে লাইফ সাপোর্ট দিয়েও বাঁচানো যাবে না বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। তাই অনতিবিলম্বে নজরুল গংকে আইনের আওতায় এনে তাদের সম্পদের উৎস ও হিসাব গ্রহন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন এখন সময়ের দাবি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলামকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬ টা ৭ মিনিটে তাকে ফোন করা হলে মাত্র ১৬ সেকেন্ডের মধ্যেই ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর একটি ক্ষুদে বার্তা এ প্রতিবেদক পাঠালেও তার প্রতিউত্তর দেননি অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here