ফারইস্ট ইসলামী লাইফকে গিলে খাচ্ছে কে এই খালেক?

::উৎপল দাস::

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি কেলেঙ্কারিতে লুটপাটকারিদের মধ্যে আজকের ৭ম পর্বে থাকছে ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এর তথাকতিথ পরিচালক (ভুয়া পরিচালক) এম এ খালেকের কুকৃর্তী ও অবৈধ সম্পদের খতিয়ান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে লুটেপুটে খাওয়ার অন্যতম কুশীলব ফারইস্টের তথাকথিত পরিচালক (ভুয়া পরিচালক) এই এম এ খালেকের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায়। মুলত জমির দালালি করা খালেক অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করেই ফারইস্টের অনুমোদন করিয়ে দিলেও কার্যত তিনি কখনও পরিচালক তো দূরের কথা কোম্পানিটির কোনো পদেই আসীন ছিলেন না। হলে কী হবে! পরিচালক বা কোনো পদে না থাকলেও
এই এম এ খালেকই নজরুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন পুষ্টি ও হেলাল গং এর সাথে ফারইস্ট-কে লুটেপুটে
খাওয়ার নাটের গুরু বলে জানা গেছে।

ফারইস্টের জন্য বিভিন্ন লোকেশনে জমি ক্রয় করার নামে শতশত কোটি টাকা, মাঠকর্মীদের রিনুয়্যাল কমিশনসহ, বিভিন্ন প্রমোশনাল আইটেম ছাপানোর নামে এবং নানান ছুতোয় শতশত কোটি টাকা হজম করে নজরুল-পুষ্টি-হেলাল গং এর মত এই এম এ খালেকও জমির দালাল থেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে অল্প কয়েক বৎসরেই বনে গেছে অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে পরিচালক না হয়েও এই এম এ খালেক ফারইস্টের সকল পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থিত থেকে মূল ভুমিকা রেখে নজরুল-পুষ্টি গংদের প্রধান সহযোগী হিসেবে লুটপাটের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকে। ফারইস্টএর ক্রয়-বিক্রয় নিয়োগ ও প্রকাশনা সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয় এই এম এ খালেকের ইশারায়।

জানা গেছে লুটপাটের রাস্তাকে অবাধ ও নিষ্কন্টক রাখার জন্য ফারইস্ট-এর বর্তমান ডিএমডি পদে তার ভাই-কে নিয়োগ দেওয়াসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে তার নিকটাত্মীয়দেরকে নিয়োগ দিয়েছে। পরিচালক না হয়েও ফারইস্টকে অক্টোপাসের মত গিলে খেয়ে ইতোমধ্যেই শতশত কোটি টাকার মালিক হয়েছে এই এম এ খালেক।
সূত্রমতে ফারইস্টের টাকা লুট করেই ইতোমধ্যে ১) প্রাইম ফিন্যান্স এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ২) প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিস লিমিটেড ৩) প্রাইম ফ্রুডেনশিয়াল ফান্ড ৪) প্রাইম ফিন্যান্সিয়াল সিকিউরিটিস লিমিটেড ৫) গ্যাটকো এ্যাগ্রো ভিশন লিমিটেড /গ্যাটকো লিমিটেড ৬) এইচ আর সি টেকনোলজিস লিমিটেড ০৭) ০৮) প্রাইমেশিয়া ইউনিভারসিটি, ০৯) পি এফ আই প্রোপারটিজ লিঃ ১০) বি আই পি ডি ১১) ফারইস্ট স্টকস এ্যান্ড বন্ডস লিমিটেডসহ আরও বহু কোম্পানি খুলে সেগুলোর এম ডি,চেয়ারম্যান কিংবা পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন করে আসছে।

জানা গেছে আরও অনেকগুলো কোম্পানির পরিচালক না হয়েও অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সাহায্যে শতশত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও ফারইস্টের টাকা অাত্মসাৎ করে এই এম এ খালেক গুলশানে ২০০ কোটি টাকার উপরে খরচ করে একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

উক্ত বাড়িটি বর্তমান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদের ছিলো বলে জানা যায়। এছাড়াও নামে বেনামে অনেক স্থাবর ও অস্থাবর অবৈধসম্পদের মালিক হয়েছে এই এম এ খালেক।

এই পরিস্থিতিতে নজরুল- খালেক-পুষ্টি-হেলাল চক্রটির হাত থেকে ফারইস্ট ইসলামি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিঃ কে রক্ষা করা না গেলে দেশের প্রথম সারির এ জীবনবীমা কোম্পানিসহ এর সাথে সম্পৃক্ত লাখো গ্রাহক শেয়ার হোল্ডার ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ হুমকীর মধ্যে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here