পেঁয়াজের ঝাঁজ বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

রাজধানীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে রমজানের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যদিও রোজা আসতে প্রায় দু-সপ্তাহ বাকি। সদাই এর তালিকা এখনো হাতে না উঠলেও দাম বসে নেই। এরই মধ্যে বাজারে ঝাঁজ বেড়েছে পেঁয়াজের। বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদা।

ভরা মৌসুমেই রাজধানীর বাজারে বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দর। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ধাপে ধাপে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১৫ টাকা বেড়েছে। প্রতি কেজির দাম এখন মানভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। এর সঙ্গে ভারতীয় পেঁয়াজের দরও কেজিতে ৫-৭ টাকা বেড়েছে। এছাড়া রসুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকা এবং আদা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে।

দুই-তিন সপ্তাহ আগেও এক কেজি দেশি পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম ৩৫ টাকা ছিল। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজের দাম ৪০-৫০ টাকা, যা এক মাস আগের তুলনায় ২৩ শতাংশ বেশি।

অবশ্য গত বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, ভোগ্যপণ্য পর্যাপ্ত মজুত আছে। দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই।

দেশে পেঁয়াজের ভালো উৎপাদন হওয়ার পরও ভরা মৌসুমে এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ব্যবসায়ীরা তিনটি কারণ দেখাচ্ছেন। এগুলো হলো প্রথমত, বছরজুড়ে সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় ফড়িয়া ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ কিনে মজুত করায় সৃষ্ট বাড়তি চাহিদা। দ্বিতীয়ত, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজ নিয়ে চাষিরা হাটে না আসায় সরবরাহে টান পড়া। তৃতীয়ত, ভারতে দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব।

এরই মধ্যে রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেসব পণ্য কিনতে শুরু করছেন ভোক্তারা। এসব পণ্যের দাম বাড়েনি বলে বিক্রেতারা দাবি করলেও ভোক্তারা তা মানতে নারাজ।

রমজান মাস আসতে বাকি আছে এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ। কিন্তু খাদ্যপণ্য কেনাকাটার প্রস্তুতি এখন থেকে শুরু করেছে রাজধানীবাসী। তাঁরা বলছেন, রমজান মাস শুরু হলে দাম বাড়বে, সেইসঙ্গে বাজার করার জন্য সময় বের করাও কঠিন হয়ে যাবে।

কারওয়ান বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, রোজার সময় অফিসের ছুটি মেলে না। আজ শুক্রবার, তাই পরিকল্পনা করে বাজারটা আজই সেরে নিতে চাইছি।

ঢাকার কারওয়ান বাজারে মাসের সদাই নিতে এসেছেন রুহুল আমিন। গণমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছেন পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে পারে। বললেন, রোজা আসতে না আসতেই জিনিসের দাম পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে। পারলে আজই সব কিনে নেব। দু-দিন পরে এলে সবকিছু বাড়তি দামে কিনতে হবে।

ক্রেতা ও বিক্রেতারা বলছেন, রোজার সময় কিছু নিত্য পণ্যের দাম বাড়বে এটা তো স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

পেঁয়াজ, রসুন ও আদার আমদানীকারক প্রতিষ্ঠান অজয় ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী অসিম শাহ বলেন, সাময়িকভাবে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম বাড়লেও বেশি দিন স্থায়ী থাকবে না এই দাম। কারণ এখন এই পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। পেঁয়াজ পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় রমজানে বাজারে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে কিছুদিন থেকে দেশি রসুনের দাম উর্ধ্বমুখী। রমজানকে সামনে রেখে রসুনের দাম আরও বাড়তে পারে।

 

অনলাইন/কে

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here