পাহাড়ি ঢলে বন্যা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বাংলাদেশ প্রকৃতিগত ভাবেই বন্যা, অতিবর্ষণ ও প্লাবনের দেশ। সুতরাং এ নিয়ে বিচলিত হওয়ারও কিছু নেই। তবে কখনো কখনো যখন এটা বিপদসীমার ওপর দিয়ে যায় তখন আমাদেরকে বিচলিত করে বৈকি। ঋতু বদলের সঙ্গে আবহমান কাল থেকে ঘটে আসা এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের মৌলভীবাজার সদরসহ জেলার তিনটি উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের ব্যাপক অঞ্চল প্লাবিত হয়। ভেসে গেছে ফসলের মাঠ, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। ভেঙে পড়ে মনু ও ধলাই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৩টি স্থান। অন্যদিকে প্রবল জোয়ারে খেলপটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা ডুবে গেছে।

সব মিলিয়ে লাখ খানেক মানুষ আজ পানিবন্দি। তবে পাহাড়ি ঢলে নদনদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট হওয়া প্লাবন যেমন ক্ষণস্থায়ী তেমনি কখনও কখনও তা বেশ কিছুদিন স্থায়ীও থাকে। কিন্তু তাই বলে এ নিয়ে প্রশাসন তথা সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থাগুলোর উদাসীন থাকার সুযোগ নেই। যেকোনো ধরনের দুর্যোগ-দুর্বিপাকে দরিদ্র মানুষগুলোই বেশি বিপদের মুখে পড়ে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি বিকল্প আবাসন ও জীবিকার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিবেচনায় রাখতে হবে।

কাজেই আমরা প্রত্যাশা করছি, যথাসময়ের মধ্যেই তাদের জন্য ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ ও বণ্টন হবে। আর এতে যেন কোনো রকম অনিয়ম-দুর্নীতি না হয়, এ বিষয়টি নিয়েও সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকতে হবে। শুধু মৌসুমভিত্তিক ব্যবস্থাই নয়, এ জন্য সরকারকে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য বন্যার প্রকোপ কমাতে নদনদীর নাব্য যেমন বাড়ানো প্রয়োজন তেমনি বন্যা-পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেয়া আবশ্যক। বর্তমান সরকার গত বছর যেমন হাওর অঞ্চল নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যার মোকাবিলায় সমর্থ হয়েছে আশা করি চলতি বন্যা পরিস্থিতিও যথারীতি মোকাবিলায় সমর্থ হবে। বরং অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আরো বেশি কার্যকর পদক্ষেপে সরকারের সামর্থ্য প্রমাণিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here