পাইকগাছায় ব্যবস্থাপত্র ছাড়া মিলছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ

:: মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::

খুলনার পাইকগাছায় মেডিকেল হল ও ফার্মেসীতে হরহামেশায় মিলছে ব্যবস্থা পত্র ছাড়া জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ। তা ছাড়া অশিক্ষত বা অল্প শিক্ষিত দরিদ্র মানুষের কাছে ভুল বুঝিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ। এর ফলে জীবন রক্ষার পরিবর্তে জীবন নাশের শঙ্কা বাড়ছে। এর প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো রোগীকে ভয়ভীতি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মাজেদ গাজীর পুত্র কাঠ মিস্ত্রী হেলাল মোড়ল (২৪)। জ্বর সর্দী কাশির জন্য গত ১৫ মে রাতে কপিলমুনি মের্সাস সীমা মেডিকেল হল থেকে এক্ মি কোম্পানির এক্স-কোল্ড কিনে খান। রাতে ঔষুধ খাবার পর সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং অস্বাভাবিক আচারণ করতে থাকে। এক পর্যায় জানতে পারেন মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ খাওয়া পড়েছে। হরিঢালী কপিলমুনি কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হালিক ফকির ভোরের পাতাকে জানান-মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ খেয়ে হেলাল অসুস্থর খবর পেয়ে তাকে প্রাথমিক চিকিসা করানো হয়েছে। রোগী এখনো পুরোপুরি সুস্থ নয়। বিষয়টি নিয়ে সীমা মেডিকেল হল এর মালিক দেবু দাশ এর কাছে গেলে তিনি জানান মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার ৩মাস পর্যন্ত ওই ঔষুধ খাওয়া যায়।

অথচ এক্ মি কোম্পানির এক্স-কোল্ড ঔষুধ এর লেবেলে ব্যাচ নং এল ০৪৮৪০০৯, ডি. এ. আর নং ০৩৬-৫৪০-৪০, উৎপাদনের মেয়াদ মে ২০১৪ এবং উত্তীর্ণ তারিখ মে ২০১৬। এ হিসেবে ২ বছর আগে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। মেডিকেল হল এর মালিক দেবু দাশ ঔষুধ বিক্রির কথা স্বীকার করে ভোরের পাতাকে জানান মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ ২০১৮। এবং এখনো এক মাস পর্যন্ত খাওয়া যাবে। পাকইগাছা ড্রাগ সমিতির সাধারন সম্পাদক কাজি মিজানুর হোসেন ব্যবস্থা পত্র ছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ বিক্রি প্রসঙ্গে ভোরের পাতাকে জানান এটা ঠিক না এবং দন্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষুধ রোগীর কি ক্ষতি হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রশান্ত কুমার মন্ডল ভোরের পাতাকে জানান লিভার ও কিডনির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

প্রশিক্ষণে নিতে ঢাকাতে থাকায় এই মুহুতে কিছু বলতে পারছিনা বলে জানান ভোরের পাতাকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ড. মোঃ নজরুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফকরুল হাসান ভোরের পাতাকে জানান-অভিযোগ পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here