পর্যটনে সম্ভাবনাময় প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য লকমার জমিদার বাড়িটির

যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব

:: মোঃ বাবুল হোসেন, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ::

দেশের উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী জেলা জয়পুরহাটের রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক নির্দশন। এসব নির্দশনের মধ্যে মধ্যে একটি হলো পাঁচবিবি লকমার জমিদারবাড়ি। প্রাচীন স্থাপত্যের সৌন্দয্য মন্ডিত এ নির্দশনটি যথাযথ বেক্ষণাবেক্ষন করা গেলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের দৃষ্টি আর্কষন করা সম্ভব হবে। সেই সাইথে বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয়।

উত্তর জনপদের জয়পুরহাট জেলার প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নির্দশন লকমা জমিদার বাড়ি। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারে মাত্র ৪গজ দুরে পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ নির্দশনটি ধ্বংস প্রায় এ জমিদার বাড়িটি কে কবে নির্মাণ করেছিল তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া না গেলেও, অনেকের ধারনা প্রায় ৪/৫বছর আগে কোন এক জমিদার এটি নির্মাণ করেন।

প্রায় তিন একর জমির উপর পৃথক দুইভাগে নির্মিত এ জমিদার বাড়ি। লোহার রড ছাড়াই শুধু ইট সুরকী দিয়ে নির্মিত ৩ তলা এ জমিদার বাড়ির একতলা ইতিমধ্যে দেবে গেছে মাটির নিচে। জমিদার বাড়ীটিতে রয়েছে ২৫/৩০ কি কক্ষ। যার ভিতরে রয়েছে আরো ছোট্ট ছোট্ট কুঠরী বা কামরা। হাতিশালা, ঘোড়াশালা, কাচারী বাড়ি সবইছিল এখানে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ শুধু কালের স্বাক্ষী হয়ে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় নীরবে দাড়িয়ে আছে এ জমিদার বাড়ি। কিছুদিন আগেও এটি জঙ্গলে পরিণত ছিল। তবে বর্তমানে এলাকার কিছু উদ্যোগী যুবক এটি পরিস্কার করে আরো আর্কষনীয় করে তুলেছে। প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত সীমান্ত ঘেঁষা, নয়নাভিরাম প্রাচীন এ জমিদার বাড়িটি দেশেী-বিদেশী দর্শণাথীদের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারী-বে-সরকারী সহায়তার মাধ্যমে এটি সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

পাঁচবিবি শহর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে এ জমিদার বাড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব ভাল না হলেও অটো বাইক আর রিক্সা ভ্যানে করে সহজে আসা যায় এখানে। এলাকাবাসী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন দর্শর্ণাথীরা আসেন প্রাচীন এই নির্দশনটি দেখার জন্য।

পরিশেষে বলা যায়, পর্যটনে সম্ভাবনাময় প্রাচীন স্থাপত্যের অনন্য এই লকমার জমিদার বাড়িটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলা সম্ভব। যা একদিকে প্রাচীণ ঐতিহ্য সংরক্ষনে সহায়ক হবে অনদিকে বাড়িয়ে তুলবে সরকারের রাজস্ব আয়। আর এ প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here