নিজের অজান্তেই যেভাবে পোকা খাচ্ছে মানুষ

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে, পোকামাকড় কীভাবে খাওয়া সম্ভব? কিন্তু দুঃসংবাদ হলো, আপনি হয়তো অনেক দিন ধরেই অজান্তেই সেগুলো খেয়ে আসছেন।

কারণ বিশ্বে খাবারে লাল রং করার জন্য কারমাইন নামের যে পদার্থ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তা তৈরি হয় পোকামাকড় চূর্ণ করেই।

দক্ষিণ আমেরিকায় ক্যাকটাসে কোকোহিনেল নামের একধরনের পোকা থাকে। আর সেই পোকা চূর্ণ করেই তৈরি করা হয় কারমাইন।

এখন পেরুতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই পোকার চাষাবাদ করা হয়। খাবারে রং করার জন্য প্রতিবছর ক্ষুদ্রাকৃতির এ রকম কোটি কোটি পোকার চাষ করা হচ্ছে। আর সেই পোকার চূর্ণ কারমাইন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে বিশ্বের খাদ্য শিল্পে। দই থেকে শুরু করে আইসক্রিম, ফলের পাই থেকে শুরু করে কোমল পানীয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে কারমাইন।

তবে কারমাইনের এই ব্যাপক ব্যবহারের কারণ হচ্ছে, এটি নিরাপদ আর দীর্ঘস্থায়ী, যা তাপ বা আলোর কারণে নষ্ট হয় না।

সমর্থকরা দাবি করেন, ৫০০ বছরেরও আগে থেকে দক্ষিণ আমেরিকান মায়া নৃগোষ্ঠী, এরপরে অ্যাজটেক মানুষজন এই পোকার চূর্ণ ব্যবহার করত। কৃত্রিমভাবে তৈরি খাবারের রঙের তুলনায় এটি মানুষের স্বাস্থ্যের চেয়ে অনেক ভালো বলে তারা মনে করেন।

তবে তারাও স্বীকার করেন, খাদ্যপণ্যের গায়ে এই পণ্যটির ব্যবহারের কথা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। পাশাপাশি এখন প্রাকৃতিক অন্য অনেক কিছু থেকে লাল রং তৈরি হচ্ছে, যেখানে কোনো পোকামাকড় নেই।

হয়তো আপনি লাল রঙের কোনো খাবারের উপাদান তালিকায় চোখ বোলালে, সেখানে কারমাইন নামটি দেখতে পাবেন না। বরং হয়তো লেখা রয়েছে, প্রাকৃতিক লাল রং অথবা ক্রিমসন লেক অথবা ই১২০ নম্বরটি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কারমাইনকে যে নম্বরটি দিয়েছে।

কারমাইন নিয়ে গবেষণা করেছেন অ্যামি বাটলার গ্রিনফিল্ড। তিনি বলছেন, খুব কম মানুষেরই এই খাদ্য উপাদানে সমস্যা হয়। সবমিলিয়ে খাবারের উপাদান হিসেবে এর অতীত খুবই ভালো।

বিশ্বে কারমাইনের ৯৫ শতাংশই উৎপাদন করে পেরু। স্ত্রীলিঙ্গের পোকাগুলোই চাষ করা হয়, কারণ এগুলোর ডানা থাকে না, ফলে উড়তেও পারে না।

বছরে বছরে বিশ্বে কারমাইনের চাহিদাও বাড়ছে, ফলে এর দামও চড়া হচ্ছে। গত চার বছরে কারমাইনের দাম বেড়েছে ৭৩ শতাংশ।

তবে কোন কোন কোম্পানি কারমাইন থেকে নিজেদের সরিয়েও নিচ্ছে। এ রকম একটি বড় কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের কফি চেইন স্টারবাকস।

যদিও টমেটো, বেরি আর বেটরুট থেকেও রং তৈরি করা হয়, কিন্তু সেগুলোর কোনোটাই কারমাইনের মতো স্থায়ী নয়।

মিজ বাটলার বলেন, পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে, কারমাইন এমন একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যার ওপর পেরুর অসংখ্য কৃষকের আয়ের উৎস।

তিনি বলেন, পেরুর মানুষজন বেশির ভাগই গরিব, বেঁচে থাকার জন্য কারমাইনের ওপর তারা নির্ভর করে আছে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

ভোরের পাতা/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here