নতুন বাজেট পাস, জনকল্যাণে বাস্তব প্রতিফলন ঘটুক

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

জাতীয় সংসদে প্রায় ৪৫ ঘণ্টা আলোচনার পর নাগরিক জীবনে সকল প্রকর বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে টেকসই উন্নয়ন করার লক্ষ্যে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট পাস হলো। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেট পাস হয়। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ অর্থাৎ পঞ্চম বাজেট এটি। আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিতের টানা দশম বাজেট। গত ৭ জুন অর্থ বিল ২০১৮ সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কোন পণ্য ও সেবায় কী হারে শুল্ক, কর, ভ্যাট প্রভৃতি আরোপিত হবে, তা উল্লেখ করে সংসদ সদস্যদের কাছে সেটি পেশ করা হয়েছিল।

যথারীতি এবারের বাজেট নিয়েও অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে এ আলোচনা-সমালোচনা আমলে নিয়ে বিলে কিছু সংশোধনীও আনা হয়। গত বুধবার সংসদ সদস্যরা সংশোধিত বিল কণ্ঠভোটে পাস করেন। বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পাস করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা শেষে দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট পাস হলো। সংসদে পাস হওয়া ৫ লাখ ৭১ হাজার ৮৩৩ কোটি ৮২ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয় বরাদ্দের নির্দিষ্টকরণ বিলটিই মূলত গ্রস বাজেট। বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও অন্যান্য খাতে বাজেটে সরকারের অর্থ বরাদ্দের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এই অর্থ কখনও ব্যয় হয় না। যা বাজেটের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে হিসাব মেলানো হয়। এই বাধ্যবাধকতার কারণে এবারের বাজেটেও ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা ব্যয় হবে না। অর্থমন্ত্রী গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে যে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করেছেন, সেটাই ব্যয় হবে। সেটাই আগামী অর্থবছরের নিট বাজেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্য টেবিল চাপড়িয়ে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট বাস্তবায়নের যাত্রাকে স্বাগত জানান।

দারিদ্র্য বিমোচন এবং জনগণের জীবনযাত্রার মৌলিক এবং গুণগত পরিবর্তন আনতে বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। আর এ জন্যই এ বাজেটকে ‘জনতুষ্টির বাজেট’ বলা হচ্ছে। পক্ষান্তরে, সরকারের পক্ষ থেকে এই বাজেটকে ‘জনবান্ধব বাজেট’ বলা হচ্ছে। আবার সমালোচকদের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন ‘জনতুষ্টি’ বা ‘লোকরঞ্জনমূলক বাজেট’ বলা হচ্ছে। অর্থাৎ তাদের এই মূল্যায়ন সরকারের বক্তব্যেরই প্রতিধ্বনি বিশেষ। যা ‘জনতুষ্টি’র, তা-ই ‘জনবান্ধব’- একই বক্তব্যের এ পিঠ, ও পিঠ আরকি। কিন্তু আমরা একে ‘জনবান্ধব বাজেট’ হিসেবেই দেখতে চাই। সে লক্ষ্যে এর সুগম যাত্রাও প্রত্যাশা করছি। দেশের মানুষ ভালো থাকুক এটাই আমরা চাই। সেজন্য তো তাদের সরকারের ওপর একটা আস্থার জায়গা থাকতে হবে। এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে তারই প্রতিফলন ঘটবে সেটাই প্রত্যাশিত। আশা করি সরকার তার নীতি ও কাজের মধ্যদিয়ে তার সুফল জনগণের মধ্যে পৌঁছে দিতে আন্তরিক হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here