তারেক-ফখরুলের গোপন বৈঠকে মাইনাস টু ফর্মুলা!

::ভোরের পাতা ডেস্ক::

লন্ডনে স্থানীয় সময় সকাল ১০ টায় তারেক জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। লন্ডনে তারেক জিয়ার বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তারেক জিয়ার বাসভবনে দুই ঘণ্টা ছিলেন। সন্ধ্যায় আবার তাঁর তারেক জিয়ার বাসভবনে যাওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে তিনি ইফতার করবেন এবং আলোচনা আরও এগিয়ে নেবেন বলে বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নিয়েই বিএনপি মহাসচিব লন্ডনে গেছেন। এই প্রস্তাবনায় যেকোনো মূল্যে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে তারেক জিয়া দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে থাকবেন। তারেক জিয়া এই প্রস্তাবনার ব্যাপারে কি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, তা এখনো জানা যায়নি।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, লন্ডন সময় সকাল ১০টার দিকে তারেক জিয়ার বাসভবনে পৌঁছেন মির্জা ফখরুল। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক এবং দুজন স্থানীয় বিএনপি নেতা তাঁকে নিয়ে যান। সেখানে ১৫ মিনিট বিএনপি মহাসচিব তারেক জিয়ার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি তারেক জিয়া, জোবায়দা রহমান এবং নাইমা রহমানকে বেগম জিয়ার শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন। এরপর তারেক সবাইকে সরিয়ে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। একাধিক সূত্র বলছে, এই বৈঠকে তারেককে বিএনপির করনীয় নিয়ে একটি লিখিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন মির্জা ফখরুল। প্রস্তাবনা বেশ দীর্ঘ। তাতে মোটা দাগে মোট ৭টি পয়েন্ট আছে বলে জানা গেছে। এগুলো হলো:

১. যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণ করতে হবে।

২. নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের বাইরে আওয়ামী বিরোধী সর্বদলীয় মঞ্চ তৈরি করতে হবে।

৩. ভারতের সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছুতে হবে।

৪. বিএনপিপন্থী সরকারি কর্মকর্তা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের ঐক্যবদ্ধ করতে হবে।

৫. নির্বাচনে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে মূল ইস্যু হিসেবে আনতে হবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বর্জনের ঘোষণা থাকতে হবে।

৬. আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার জন্য জোট থেকে জামাতকে বাদ দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট আশ্বাস থাকতে হবে।

৭. নির্বাচন পর্যন্ত সময়ে বেগম জিয়া ও তারেক জিয়া দলের নেতৃত্বে এবং কোনো পদে থাকবেন না। তাঁরা নিষ্ক্রিয় থাকবেন। তবে নির্বাচনের পর তাঁরাই দলের নেতৃত্বে ফিরে আসবেন।

একাধিক সূত্র বলছে, এই প্রস্তাব নিয়ে তারেক এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। আগামী দুইদিন বিএনপির দুই নেতার বৈঠকের উপর বিএনপির অনেককিছুই নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here