ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক: অসহনীয় যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের

:: ভোরের পাতা অনাইন ::

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক জুড়ে যানজটে অসহনীয় যন্ত্রণা পোহাতে হচ্ছে যানবাহনের যাত্রীদের। কুমিল্লা থেকে ঢাকা পৌঁছ‍াতে যেখানে সময় লাগে বড় জোর ২ ঘণ্টা, সেখানে সময় লাগছে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। গত রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এ যানজট আজ বুধবারও (১৬ মে) দেখা গেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার অংশে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এছাড়া কুমিল্লার দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে চান্দিনার মাধাইয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার অংশে যানজট রয়েছে।

এর ফলে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় পৌঁছতে দুই ঘণ্টা সময় লাগার কথা থাকলেও এখন লাগছে অন্তত ১০ ঘণ্টা। দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় টোল পরিশোধের জন্য দীর্ঘ সময় সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানোর কারণেই এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুর কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তিনদিন ধরে যানজট অব্যাহত রয়েছে। ওই সেতুগুলোর কাছে গিয়ে যানবাহন থেমে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

জানা যায়, অতিমাত্রায় যানবাহনের চাপে দাউদকান্দির গোমতী সেতু, মুন্সীগঞ্জের মেঘনা ও নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর সেতু কেন্দ্রিক যানজট ক্রমেই বাড়ছে। এই তিনদিন ধরে ওই মহাসড়কে স্থবির হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

গোমতী ও মেঘনা সেতু টোলপ্লাজায় ওজন স্কেলে একটি মালবাহী যানবাহন কমপক্ষে ১০/১৫ মিনিট আটকে রাখা হয়। সেখানে ট্রাক চালক ও হেলপারের সঙ্গে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের টাকা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার চিত্র নিত্য ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

টোলপ্লাজায় মালবাহী যানবাহন আসা মানেই দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে টোলপ্লাজার কর্মকর্তাদের। এ টাকার লেনদেন নিয়ে অনেক সময় অতিবাহিত হয়। ফলে টোলপ্লাজাগুলোতে মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের ভিড় জমতে থাকে। এতে টোলপ্লাজা কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি কৃত্রিম যানজটে নাকাল হয় যানবাহন ও যাত্রীরা।

দাউদকান্দি টোলপ্লাজায় যানজটে আটকে থাকা ট্রাক চালক সিদ্দিক মিয়া বলেন, টোলপ্লাজার কর্মকর্তারা যেকোনো মালবাহী ট্রাক দেখলেই কমপক্ষে দুই হাজার টাকা আদায় করেন। কিন্তু রসিদ দেন মাত্র পাঁচশ টাকার। তাদের জন্য যানজট সৃষ্টি হয়।

হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা অঞ্চলের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, ঢাকার দিকে যানবাহনের গতি অনেক কম। এছাড়া দিনের বেলায় পণ্যবাহী গাড়িগুলো ঢাকায় প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। তাই মহাসড়কের ফোরলেনে চলাচলকারী সব যানবাহন ওই তিনটি ব্রিজের কাছে গিয়ে থেমে যায়। এতে যানজট কমছে না।

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন জানান, কি কারণে এ যানজট তা জানেন না। যানজট নিরসনে মেঘনা ও গোমতী সেতুতে পুলিশ কাজ করছে। ৪০ কিলোমিটার যানজট গজারিয়া অতিক্রম করে নারায়ণগঞ্জে পৌঁছেছে।

 

অনলাইন/কে 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here