ঝিকরগাছায় গাড়লচাষে ঝুঁকছেন তরুণ উদ্যোক্তরা

:: রফিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা ::

যশোরের ঝিকরগাছায় গাড়লচাষে ঝুঁকছেন তরুণ উদ্যোক্তরা। লাভজনক হওয়ায় ঝিকরগাছার বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠছে গাড়ল খামার। স্বল্পপুজির বিনিয়োগে অল্পদিনে বেশি মুনাফা লাভের আশায় নতুন নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের বায়সা, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের গোরসুটি, ঝিকরগাছাসদর ইউনিয়নের গাজিরদরগাহ, নওয়াপাড়া, মল্লিকপুর, চাঁপাতলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গাড়লচাষ শুরু হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার বায়সা গ্রামে রহিম মৃধা, গৌরসুটিতে ইলিয়াস মাহমুদ, মল্লিকপুরে তরিকুল ইসলাম, চাঁপাতলা গ্রামে শহিদুল, নওয়াপাড়ার ইসমাইলসহ অনেক তরুনই এখন গাড়ল চাষের খামার করেছেন।

উদ্যোক্তাদের মতে, একটি মাদিগাড়ল বছরে দূ’বার বাচ্চাদেয়। প্রতিবার ২ থেকে ৪/৫টি পর্যন্ত বাচ্চাদিতে সক্ষম হয়। একটি বয়স্কগাড়ল দেড় থেকে দূ’বছরের মাথায় ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত মাংস হতে পারে। যার বাজারমূল্য দাঁড়ায় একটি বড় খাসিছাগলের দামের সমান। গাড়লচাষে খরচ কম বলে জানান তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুর রহিম মৃধা। তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নিজবাড়িতে গড়ে তুলেছেন একটি সম্ভাবনাময় গাড়লের খামার। সৌখিন এই উদ্যোক্তার তিনজোড়া গাড়ল থেকে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ছোটবড় ৪৫/৫০ টি। যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।

স্বল্পবিনিয়োগে তিনি খামারটি লাভজনক পর্যায়ে নিতে সক্ষম হয়েছেব বলে জানান। আব্দুর রহিম ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বায়সা গ্রামে নিজ খামার বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বর্ধণশীল জাঁতের গাড়লের খামার। আব্দুর রহিম জানান, ২০১১ সালের জুন/জুলাই মাসে তিনি মেহেপুরের শিয়ালমারি বাজার থেকে দেড়বছর বয়সী ৩ জোড়া মাদি প্রতিটি ৬ হাজার ৫শ’ টাকা ও একটি পাঠা গাড়ল ৮ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। পরে আরও তিনজোড়া মাদিগাড়ল প্রতিটি ৭ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। ঘর-মাচানসহ তার লগ্নিকৃত অর্থের পরিমান দাঁড়ায় ৭৫/৮০ হাজার টাকা। অনভিজ্ঞতার কারণে প্রথমদিকে (পিপিআর) রোগে বেশ কয়েকটি গাড়লের বাঁচ্চা মারাগেলেও এখন উৎপাদণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নিয়মিত রোগপ্রতিষেধক টিকাদানের পাশাপাশি পরিচর্যা করার জন্য অভিজ্ঞ একজন পল্লীপশু চিকিৎসক দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া হাশেম আলী নামের একজন কেয়ারটেকার মাসিক ৭ হাজার টাকা বেতনে দেখভাল করেন। গাড়ল সাধারণত তৃণভোজি নিরীহপ্রাণী। চারনভূমিতে দলবদ্ধ অবস্থায় ঘাসলতাপাতা খেতে পছন্দ করে এরা।

গাড়ল পালনে বাড়তি খরচবলতে গম,ভূট্টা, চালেরগুড়া, খৈল, লবন মিশ্রিত খড় খেতে পছন্দ করে। খামারী আব্দুর রহিম মৃধা জানান, প্রতিদিন তার ৫ কেজি খাবার কিনতে হয়। রোগপ্রতিষেধক হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ে পিপিআর ভ্যাকসিন, ক্রিমিনাশক ও ভিটামিন খাওয়ানো হয়। উপজেলায় কী পরিমান গাড়ল/ভেড়া রয়েছে সে ব্যাপারে সঠিক কোন পরিসংখ্যান আছে কিনা উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল তা জানাতে পারেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here