ছাপার ভুলে অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট: মুহিত

:: ভোরের পাতা অনলাইন ::

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, অনলাইনে (ই-কমার্স) কেনাকাটায় ক্রেতাকে যে ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের কথা বলা হয়েছে, তা প্রিন্টিং মিসটেক (ছাপার ভুল)।

শুক্রবার (৮ জুন) দুপুর পৌনে ৩টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান তিনি। এই বিষয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইঞাও একই কথা বলেন।

বাজেট প্রস্তাবের সারসংক্ষেপে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, বর্তমানে ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পণ্য বা সেবার পরিসরকে আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল বিজনেস নামে একটি সেবার সংজ্ঞা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনভিত্তিক যেকোনো পণ্য বা সেবার ক্রয়-বিক্রয় বা হস্তান্তরকে এ সেবার আওতাভুক্ত করা সম্ভব হবে। তাই ভার্চুয়াল বিজনেস সেবার ওপর ৫ শতাংশ হারে মূসক (মূল্য সংযোজন) আরোপ করার প্রস্তাব করছি।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে ফেসবুক, ইউটিউব ও গুগলকে করের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে অনলাইনে কেনাকাটায় ক্রেতাকে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না।

তিনি বলেন, ভার্চুয়াল বিজনেস যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, গুগলের ওপর ট্যাক্স ধার্য করার একটি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। কিন্তু অনলাইন বিজনেসকে আমরা আলাদা রেখেছি। এটার ওপর আমরা ভ্যাট রাখিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এছাড়াও ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তাফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, চিফ হুইপ আসম ফিরোজ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোসলেম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এ ছাড়া এনবিআরবহির্ভূত সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে নয় হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। করবহির্ভূত খাত থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৫৫২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে অনুন্নয়নসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ৯১ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে সার্বিক বাজেট ঘাটতি এক লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে। এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক সূত্র থেকে ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

 

অনলাইন/কে 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here