‘ছাত্রলীগ নেতারা অস্ত্র দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে’

::ভোরের পাতা ডেস্ক::
সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা।

১৬ মে, বুধবার আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এই নিরাপত্তা চেয়েছেন।

প্রাণনাশের হুমকির এমন অভিযোগ আন্দোলন শুরুর দিক থেকে শোনা গেলেও তা সংবাদ সম্মেলন আকারে জনসম্মুখে আসে বুধবার সকালে।

মঙ্গলবার আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে সশরীরে ছাত্রলীগের তিন নেতা এই আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুর আবাসিক হল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১১৯ নাম্বার কক্ষে উপস্থিত হন এবং তাকে ও আন্দোলনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় তাদের কাছে অস্ত্র ছিল—এমন অভিযোগও করেন বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক।

হুমকিদাতা হলেন ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী এবং তার সঙ্গে ছিলেন মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম লিমন, ছাত্রলীগ নেতা আরিফসহ ১৫-২০ জন।

ওই সমাবেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর এবং রাশেদ খানকে হত্যার হুমকিদাতা ছাত্রলীগ নেতাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা।

বুধবার দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী এক সমাবেশে আন্দোলনকারীরা এ দাবি জানান। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, রাশেদ খান, ফারুক হোসেনসহ সহস্রাধিক ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী তারা সাধারণ ডায়েরি দায়ের করতে শাহাবাগ থানায় গেলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) আবুল হাসান তাদের ডায়েরি নেননি। তবে তিনি তাদের ডায়েরি নেওয়া হবে কি না—এই বিষয়ে জানার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকতার সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বেলা ১২টায় ছাত্রলীগ নেতাদের হুমকির প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে হাসান আল মামুন বলেন, ‘সরকারের ইমেজকে নষ্ট করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব (হত্যার হুমকি) কাজ করেছে।’

হামলাকারীদের কোটাধারী আখ্যায়িত করে হাসান আল মামুন বলেন, ‘তারা চায় না কোটার যৌক্তিক সংস্কার হোক।’ এ ছাড়া তিনি সরকারের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে বাস্তবায়নের দাবি জানান।

হুমকিদাতা ছাত্রলীগের নেতাদের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘গতকাল রাতে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও আজ এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার করেনি। কেন করেনি সেটা আমরা জানি না। তবে তারাও আমাদের এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চায়, তাদের কি আমাদের রুখতে চাই?’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here