ছাত্রলীগে কলংক তিলকের মূল পৃষ্ঠপোষক কারা?

::উৎপল দাস::

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীর ছাত্র সংগঠন। এটি ভারত বিভক্তিক্রমে পূর্ব পাকিস্তানের উদ্ভবের কিছু পর গঠিত হয়। এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতিম সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইতিহাস গৌরব, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যে মন্ডিত। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত দেশ ও জনগনের স্বার্থরক্ষার্থে প্রত্যেকটি আন্দোলনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রধান ভূমিকা রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের ছাত্রলীগ নিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে খোদ সংগঠনটির মধ্যেই অভিযোগ উঠেছে অনুপ্রবেশকারীদের। যদিও মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন কখনো সরাসরি স্বীকার করেননি যে ছাত্রলীগে কোনো অনুপ্রবেশকারী প্রবেশ করেছে। এমনকি সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, ‘আপনি তালিকা দেন আমরা ব্যবস্থা নিবো।’ কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো- ছাত্রলীগকে গিলে খেয়েছে শিবির ও ছাত্রদল থেকে অনুপ্রবেশকারীরা। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের এই কলংক তিলক অনুপ্রবেশকারীদের মূল পৃষ্ঠপোষক কারা এমন প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে? এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গত কয়েক মাস ধরে ভোরের পাতার প্রতিবেদক আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন থেকে শুরু করে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গেও কথা বলেছে। এমন অবস্থায় ভোরের পাতা সন্দেহোতীতভাবে বলতে পারছে, শুধু সোহাগ-জাকিরের পৃষ্ঠপোষকতায় নয়, তৃণমূল আওয়ামী লীগের কারণেই সারাদেশে ছাত্রলীগে ব্যাপক হারে অনুপ্রবেশ করেছে শিবির ও ছাত্রদল নেতারা। এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন জেলা কমিটিতে টাকা পয়সার লেনদেনও হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির চাপেই জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল করিম রেজা এবং সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদেককে বসিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। ফলে দুইজনই জেলা ছাত্রলীগের নেতা হয়েও জামায়াত বিএনপির পক্ষে কাজ করছেন গোপনে। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সভাপতি রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধেও জামায়াত বিএনপির সঙ্গে সখ্যতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলতে পারছেনা না। এখনো শিবির করমীদের নিয়ে নিয়মিত গোপন যোগাযোগ রয়েছে যা জেলা পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের সাবেক সক্রিয় কর্মী সৈয়দ সাদিকুর রহমান সাদেককে সদরের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির চাপে জেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে বসানো হয়। সাতক্ষীরা অঞ্চলের ৩ জন সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের নাম প্রস্তাব করলেও সেগুলো সাতক্ষীরা সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির চাপেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এমনকি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফয়সল আমিন, যার বিরুদ্ধে সরাসরি শিবির ও ছাত্রদলের রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যস্থতায় অর্থের বিনিময়ে সাতক্ষীরাতে বিতর্কিতরা শীর্ষপদে চলে আসে। এ অভিযোগের বিষয়ে ফয়সাল আমিন বলেন, আমি এখন সরকারি চাকুরি করি। ছাত্রলীগ কি করলো না করলো সেটা আমার বিষয় নয়। শিবির সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে নিজেকে পুরোপুরি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য দাবি করে বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত বলেও দাবি করেন। যদিও ছাত্রদল শিবির সম্পৃক্ততার কারণে এই ফয়সাল আমিনকে দুইবার মহসীন হল থেকে বের করে দিয়েছিল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

কিন্তু সাতক্ষীরা ৪ আসনের এমপি এস এম জগলুল হায়দার ভোরের পাতাকে বলেন, আমরা সাতক্ষীরা ৩ জন এমপি জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের নেতা বানানোর জন্য সুপারিশ করেছিলাম, কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তা আমলেই নেননি। গোপন কারণে সদরের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদের প্ররোচণায় তারা গত ২৮ নভেম্বর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে রেজাউল করিম রেজা এবং সৈয়দ সাদিকুর হোসেন সাদেককে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব দিয়ে দেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকেই গোপনে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে আতাঁত করে তাদের লোকজনের জন্যই বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের দুজনেরই আশে পাশে সব সময় শিবির ও ছাত্রদলের চিহ্নিত লোকজন থাকে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজাকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে জানা গেছে যে সাদেক সাবেক ছাত্রদল নেতা ছিলেন। ২০১৩ সালে সে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাফি আহমেদের মেয়ে সাদিয়া শবনম নিশির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের একজন কর্মী বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে সে নাশকতামূলক কার্যক্রম চালায়। এছাড়া এলাকায় সে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত আছে এবং ইতিপূর্বে সে জামাত শিবিরের বিভিন্ন অপতৎপরতামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল।

সাতক্ষীরা জেলা শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সাদেক একজন বিবাহিত ছেলে এবং সে এখন কোনো ছাত্রও নয়। যদি তাকে ছাত্রলীগ থেকে পদে বসানোর পর অপকর্ম চালিয়ে যায়, তাহলে আর ছাত্রলীগই করার দরকার নাই।

অনেকে দাবি করেছেন, এটা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্য লজ্জাজনক বিষয় হয়েছে। তাকে যখন প্রার্থীতা বাতিলের দাবি করেছিলাম।

সাদেকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র রচনা করা হচ্ছে। আমি এখনো বিয়ে করিনি। নিশির সাথে শুধু আমার ফোনে কথা হতো। এছাড়া তার সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই।

২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি কেনো তিনি জেলা বিএনপির পথসভায় গিয়েছিলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সেদিন ঔষুধ কিনতে ফার্মেসীতে গিয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন যে, বর্তমানে আমি নেতা হয়েছি এটা অনেকে সহ্য করতে পারছে না। তাই বিভিন্ন মহল আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছে।

অভিযোগ রয়েছে, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজার বাবার নাম মোঃ কবির উদ্দিন এবং মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন। সাতক্ষীরা সদরের আলিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারা। তবে রেজার মা রোকেয়া খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৭ নং আলিপুর ইউনিয়নের জামায়াতের রুকন। তার বড় ভাই খাইরুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৭ নং আলিপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। বিষয়টি সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি শাহিন নিশ্চিত করেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিবাহিত এবং সুবিধাবাদী কেউ ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ পেতে পারে না। কেন সোহাগ এবং জাকির এমনটা না জেনেই অথবা কোনো চাপে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন অভিন্ন সুরে বলেছেন, আমরা অপারগতা স্বীকার করছি। কারণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাপের মুখেই এ কমিটি দেয়া হয়েছিল। তবে এখন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা ভাবছি। অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে স্থগিত করা হবে কমিটি।

এ দিকে, স্বাধীন বাংলাদেশে মিনি পাকিস্তান খ্যাত সাতক্ষীরাতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে যেভাবে জামায়াত শিবির ও বিএনপি অনুপ্রবেশ করানোর পায়তারা করছেন সংশ্লিষ্টরা তাতে করে আগামী নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে আংশকা করছেন।

এরি মধ্যে সাতক্ষীরার আশাশুনিতে নাশকতা মামলার আসামি এক জামায়াত নেতার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন। মো. হুমায়ুন কবির রাসেল নামের ওই প্রার্থী নিজেও মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, আশাশুনি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির রাসেলের বাবা জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজ নাশকতা মামলার আসামি। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরের হাড়িভাঙ্গা ও শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালার গাছ কেটে রাস্তায় মাটি তুলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতীকী কবর তৈরি করেছিলেন তিনি। এছাড়া সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে নাশকতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে গত বছরের ২২ অক্টোবর এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে আব্দুল আজিজকে আসামি করে আশাশুনি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এরপর থেকে রাসেলের বাবা ও চাচা পলাতক।

এলাকাবাসী জানায়, রাসেলের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই জামায়াত সমর্থক। অথচ রাসেল আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে লবিং করছেন। আশাশুনি উপজেলার ছাত্রলীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের বাইরে রেখে যদি রাসেলকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আনা হয়, তাহলে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে হুমায়ুন কবির রাসেল মাদকের মামলায় কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। আশাশুনি উপজেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক চিংড়ি ঘের দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে হুমায়ুন কবির রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি হুমায়ুন কবির সুমনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাসেল ভালো ছেলে। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।

২৯ তম সম্মেলনের আগে অনুপ্রবেশকারীদের অপতৎপরতা ডোবাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে। অন্য ছাত্র সংগঠন থেকে অনেকেই যোগ দিচ্ছে ছাত্রলীগে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামাত-শিবির থেকে বিপুল পরিমাণে অনুপ্রবেশকারী যোগ দিচ্ছে ছাত্রলীগে। শুধু তাই নয়, এমনকি তাদেরকে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হয়েছে। আর এনিয়ে আবারও আলোচনার শীর্ষে সংগঠনটি।

কোনো রকম যাচাই বাছাই ছাড়াই অন্য সংগঠন থেকে আসা কর্মীদের ছাত্রলীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসায় হুমকির মুখে পড়ছে সংগঠনটি। তাদের দৌরাত্ম্য আর নানা অপতৎপরতার কারণে সংগঠনের ভেতরেই ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এর পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে বিভক্তির সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় সমালোচনায় মুখে পড়তে হচ্ছে সংগঠনটিকে।

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রলীগ কমিটিতে সদস্য পদ পেয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও একটি অভিযোগ উঠেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহবুবা নাজরিন জেবিনের বিরুদ্ধেও। জেবিন নাকি এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।

আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের বিরুদ্ধে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে ফেসবুকে।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের দাবি, প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এসব ব্যক্তি ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়, পরে সেগুলো সামনে আসে।

আসছে জাতীয় সম্মেলনে এমন অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে কি পদক্ষেপ নেয়াও হবে তারই অপেক্ষায় ছাত্রলীগের কর্মী সমর্থকরা। এমন অবস্থা দূর করতে শিগগিরই ছাত্রলীগ কর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্যভাণ্ডার করার কথা বলছে অনেকে।

তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারীদের মূল পৃষ্ঠপোষক কারা? স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা নাকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা? তারা সবাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে রেহােই পেতে চান। কিন্তু তারা দায়িত্বশীল জায়গায় থেকে কিভাবে অনুপ্রবেশ করান তা নিয়েও খোদ প্রশ্ন উঠেছে? ২৯ তম সম্মেলনের আগে যারা শীর্ষপদে আসতে পারেন তাদের সবারই পরিবারের সদস্যদের খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মৌখিক সাক্ষাতকার নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা বানাবেন-এমনটাই প্রত্যাশা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ সকল নেতাকর্মীর।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here