চার দাবিতে বেরোবি উপাচার্যকে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের স্মারকলিপি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

পড়াশুনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ ক্যাম্পাসকে নানামূখী অপপ্রচারের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ চারটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালনকারী আওয়ামী সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।

বুধবার দুপুরে সংগঠনের আহবায়ক প্রফেসর ড. আবু কালাম মোঃ ফরিদ উল ইসলামের নের্তৃত্বে শিক্ষকবৃন্দ এই স্মারকলিপি প্রদান করেন। উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় তাঁর পক্ষ থেকে পিএস আমিনুর রহমান এই স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে সেগুলো হলো-
১। সকল বাঁধা বিপত্তি উৎরে চলমান আপগ্রেডেশন/প্রমোশন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
২। নিয়োগের শর্ত পূরণ না করে অবৈধ্যভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বস্তু-নিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
৩। মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের মাধ্যমে বিশ্বিবদ্যালয় তথা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পায়তারাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪। বিশৃঙ্খলাকারীদের অপচেষ্টা প্রতিহত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানামূখী উন্নয়ন কর্মকান্ড সচল রাখা।

এছাড়াও ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বরাবরই শিক্ষক তথা এ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষনে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে এ-বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। এ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাব-মূর্তি তথা রাষ্ট্রের ভাব-মূর্তি নষ্ট করে রাষ্ট্রকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতে উপনীত করার জন্য কিছু স্বার্থান্বেষী দুষ্ট চক্র প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে চলেছে। যেমন শিক্ষক নিয়োগের শর্ত বিষয়ক মিথ্যাচারের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যহত করার পায়তাঁরা করে চলেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে অসদাচারণ করে উল্টো প্রশাসনের বিপক্ষেই অসদাচরণের মিথ্যা অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে। এহেন উদ্দেশ্যমূলক ঘৃণ্য অপকর্মের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন যোগদানের পর পরই সকল প্রকার দূর্নীতি ও অপনীতি এবং জঙ্গীবাদের বিরূদ্ধে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সকল অনিয়মের বিরূদ্ধে ”জিরো টলারেন্স” নীতিতে বিশ্বাসী উপাচার্য মহোদয়ের বিচক্ষণতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও তাঁর সহচরদের দূর্নীতি আজ জনগনের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, নিয়োগের শর্ত পূরণ না করেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অবৈধ শিক্ষক এ

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরূপে জামায়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও তাঁর সহচরবৃন্দ একের পর এক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়ের ভাব-মূর্তি বিনষ্ট করছে। যখন সকল শ্রেণীর সকল স্বার্থ রক্ষায় বদ্ধ পরিকর প্রশাসন পর্যায়ক্রমে আপগ্রেডেশন/প্রমোশনের ব্যবস্থা করে চলেছে, ঠিক তখনই নানা ধরণের মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে সকল কার্যক্রম স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা করে চলেছে মহলটি। এহেন পরিস্থিতির দ্রুত প্রতিকার করা না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যহত হয়ে পড়বে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here