চাকরির ফাঁদে ফেলার সিন্ডিকেট: দেশব্যাপী টাকা আত্মসাতের জাল বিস্তার!

:: আরিফুর রহমান ::

রাজধানীসহ গোটা দেশে একটি সিন্ডিকেট নিয়োগ প্রলোভনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এসব লোকেরা নিজেদের কখনো সচিব এবং কখনো মন্ত্রীদের পি.এস, এপিএস বলে চাকরি প্রত্যাশীদের নানা রকম লোভ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুযোগে মন্ত্রী এবং সচিবদের সাথে ছবি তুলে প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে এসব দেখিয়ে চাকরি প্রত্যাশীদের টার্গেট করে। এই প্রতারকরা জানেন দেশের প্রত্যন্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষই সহজ সরল। তাই সেসব এলাকায় গিয়ে দিনের পর দিন তাদের প্রতারণার জাল বিস্তার করে চলেছে।

সূত্রমতে জানা যায়, রাঙামাটি খাগড়াছড়ি এলাকার প্রতারিত মো. মোস্তফা কামাল এবং মোশারফ হোসেনের কাছ থেকে। তারা জানান, ঢাকায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা নিজেকে স্বররাষ্ট্রমন্ত্রীর আত্মীয় বলে আসছিলেন দীর্ঘদিন। আমাদের তিনি পুলিশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়ে দিবেন বলে আমাদের কাছ থেকে প্রায় (১০লক্ষাধিক) টাকা নিয়েছেন কিন্তু আজ দীর্ঘদিন পার হতে চলল কিন্তু আমাদের কিছুই হলো না। আমরা তার বিষয়ে খবর নিয়ে দেখি তিনি একজন ভুয়া লোক। এই বিষয়ে স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, আমি এই বিষয়ে কিছু জানি না। এই রকম কিছু ব্যক্তি আছে যারা আমাদের নাম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। তাদের ধরিয়ে দিতে সকলের সহযোগিতা চান তিনি। জানা যায়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট দুই ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করেছেন খোরশেদ আলম। তিনি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগীরা বলছেন আমাদের মাঠকর্মী হিসেবে চাকরি স্থায়ীভাবে করে দিবেন বলে সাত লক্ষ টাকা নেন।কিন্তু দিলেও তা খ-কালীন করে দেন। তারপর কয়েক মাস গেলে লিটন নামে কর্মরত ব্যক্তিকে চাকরি থেকে বের করে দেন। তিনি বর্তমানে পরিবার থেকে ছন্নছাড়া হয়ে আছেন। আর পরিবার বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে তাকে চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। আজ তার পরিবার দিশেহারা কি করে মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা পরিশোধ করবে।

এ রকম বিভিন্ন জেলার ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, রেল মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং বিভিন্ন দফতরে চাকরির আশায় লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে আজ পথে নেমে গেছেন হাজারো চাকরির প্রত্যাসিরা। আবার অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন। এদিকে ঝিনাইদাহ থেকে ঢাকায় আগত ভুক্তভোগী মো. রাজু বিশ^াস তিনি বলেন, তার কাছ থেকে সাত লক্ষ টাকা নিয়েছেন সচিবালয় চাকরি দেওয়ার কথা বলে। তার অভিযোগ যিনি আমাকে চাকরি দিবেন তিনি পাসপোর্ট অধিদফতরে কর্মরত আছেন। এ বিষয়ে দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় নূর নবী নামে কর্মরত কোনো ব্যক্তি নেই।

এদিকে আরো জানা যায়, রাজধানীতে চাকরি দবোর কথা বলে এক যুবকরে দুই লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করে ক্রাউন সিমেন্টে চাকুরিরত রবিউল ইসলাম রবিন নামের এক প্রতারক। সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক রোটাব্যাক্ট ক্লাবের মাধ্যমে প্রতারক রবিনের সাথে পরিচয় হয় মেজবাউল ইসলামের।

মেজবাউল ইসলাম চাকরির পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ দেবার জন্য ঢাকায় বসবাস শুরু করলে এক পর্যায়ে রবিনের সাথে পরিচিত হয়। রবিন ক্রাউন সিমেন্টের প্রজেক্টে চাকরি পাইয়ে দেবার আস্বাস দেয় মেজবাউলকে। অতঃপর এ বছরের জানুয়ারি মাসে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে মেজউলের সাথে এবং জানুয়ারিতেই নিয়োগ হয় এমন তথ্য দিয়ে ঘন ঘন মোবাইল ফোনে কথা বলে জানান। কিছুদিন পরেই সে মেজবাউলের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার চায়, তাই মেজবাউল চাকরি পাওয়ার আশায় প্রথমে প্রায় ১ লক্ষ টাকা ধার দেয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে ধারের টাকা ফেরত দেবার কথা থাকলেও রবিন উল্টো আরো ৩ লক্ষ টাকা ধার চেয়ে বসে। মেজবাউল তাকে টাকা ধার দিতে না চাইলে রবিউল তাকে অনুনয় বিনয় করে এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বলে যে তোমাকে তো আমি ৩০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি পাইয়ে দিচ্ছি আর এ টাকা তো ধার হিসেবে নিচ্ছি, তোমার এত বড় উপকার করছি আর আমাকে টাকা ধার দিয়ে উপকার করতে পারবে না! এরপর মেজবাউল ফেব্রুয়ারির ৪ ও ৬ তারিখের রবিনের দেওয়া দুুটি ভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে এক লক্ষাধিক টাকা দেয়। কিন্তু মার্চেরও প্রথম সপ্তাহে ধারের দুই লক্ষাধিক টাকা ফেরত দেবার কথা থাকলেও রবিন এড়িয়ে যেতে থাকে, সে পর্যায়ক্রমে মেজবাউলের ফোন কল রিসিভ করা বন্ধ করে দেয়।

ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায়, এ বিষয়ে গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় যার জিডি নং-৮৩১ এবং একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে মামলা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব নানা অভিযোগের বিষয়ে রবিউল ইসলাম মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সব বিষয় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার সাথে কখনো আমার টাকা পয়সার লেনদেন হয়নি। তাছাড়া তাকে আমি ভালোভাবে চিনিও না কেবল নামমাত্র চেনা এটুকুই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here