চাঁদ দেখা যায়নি, শুক্রবার থেকে রোজা শুরু

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দেশের আকাশে কোথাও ১৪৩৯ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শুক্রবার (১৮ মে) থেকে দেশে রমজান মাস গণনা শুরু হবে। বৃহস্পতিবার (১৭ মে) তারাবির নামাজ পড়ার পর ভোররাতে সেহরি খেয়ে পরদিন রোজা রাখতে হবে মুসলিমদের।

বুধবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামি ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বুধবার বাংলাদেশের কোথাও চাঁদ দেখার খবর আসেনি। তাই বৃহস্প‌তিবার ১৪৩৯ হিজরি সনের শাবান মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। রমজান মাস গণনা শুরু হবে শুক্রবার থেকে।

মন্ত্রী জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সভায় ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও রমজানের চাঁদ দেখা যায়নি। তখনই ধারণা করা হচ্ছিল, বাংলাদেশে আজ চাঁদ দেখা যাবে না। এছাড়া আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা ছিল খুবই ক্ষীণ।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই শুরু হয়ে যাবে রোজার আনুষ্ঠানিকতা। এদিন এশার নামাজের পর শুরু হবে তারাবি। মসজিদে মসজিদে ঢল নামবে মুসল্লিদের। বেশির ভাগ মসজিদে এবারও খতমে তারাবি হবে। সব মসজিদে একই নিয়মে খতম তারাবি পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার প্রথম রোজায় সেহেরির শেষ সময় ভোররাত ৩টা ৪৬ মিনিট। শুক্রবার ইফতার হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে।

রোজা ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ। প্রত্যেক সুস্থ-সবল মুসলমানের জন্য এই রোজা ফরজ। এর অনেক তাৎপর্য ও ফজিলতের কথা কোরআন-হাদিসে পাওয়া যায়।

মুসলিম বিশ্বে প্রতি বছর অপূর্ব আবহে রমজান পালিত হয়। এই মাসে মুসলমানদের রুটিন পাল্টে যায়। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ইবাদত-বন্দেগিতে বেশি মনোনিবেশ করেন তারা।

ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি এবং ত্যাগের মাস। রমজান রহমত (আল্লাহর অনুগ্রহ), মাগফেরাত (ক্ষমা) ও নাজাত (দোজখের আগুন থেকে মুক্তি)- এ তিন অংশে বিভক্ত। এ মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী-সহবাস ও যে কোনো ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে রোজা পালন করেন মুসলমানরা।

এ মাসের শেষ অংশে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম কদরের রাত। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, এ মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব আল্লাহ পাক ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেন।

ভোরের পাতা/ই

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here