‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ ও শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

হাতে উঠল প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জমকালো অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বের সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’-এর প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন। মূলত বাংলাদেশের নারী শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের বিশেষ অবদানের জন্যই তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আমরা দেখলাম যে এই মর্যাদাসম্পন্ন সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার নারী নেতৃত্ব যোগ দেন।

আর তাদের মধ্যমনি হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী নেতৃবৃন্দ বেশকিছু সময় দাঁড়িয়ে মুহুর্মূহু করতালির মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানান। আর পুরস্কার হাতে ওঠার পরপরই আনন্দঘন হাস্যোজ্জ্বল শেখ হাসিনা বলেন, ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত এবং সম্মানিতবোধ করছি। আমি বিশ্বের নারীদের এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি, যারা নারীর ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করছেন।’ এ জন্য তিনি নারীর ক্ষমতা কাজে লাগাতে এবং তাদের সহযোগিতা ও অধিকার তুলে ধরতে একটি নতুন বৈশ্বিক জোট গঠনেরও আহ্বান জানান। আর এর লক্ষ্য পূরণে সুনির্দিষ্টভাবে ‘চার দফা’ প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা তার এই চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, প্রথমত, নারীর সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত যে ধারণা সমাজে রয়েছে তা ভাঙতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রান্তিক অবস্থানে ঝুঁকির মুখে থাকা সেইসব নারীর কাছে পৌঁছাতে হবে, যারা আজও কম খাবার পাচ্ছেন, যাদের স্কুলে যাওয়া হচ্ছে না, যারা কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। কোনো নারী, কোনো মেয়ে যেন বাদ না পড়ে। তৃতীয়ত, নারীদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে তাদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। চতুর্থত, জীবন ও জীবিকার সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার কারণেই সুষ্ঠু, অধিকারভিত্তিক, লিঙ্গ সংবেদনশীল এবং বাস্তবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন নারী ক্ষমতায়নের রোল মডেল।’ আমরা মনে করি, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের সর্বক্ষেত্রেই বিশ্বের রোল মডেল। আর এর স্বীকৃতিও পেতে চলেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে। আর এটা আরো উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর স্বাচ্ছন্দ বিচরণ দেখা যাবে।

আমরা মনে করি, সিডনিতে প্রধানমন্ত্রী নারী উন্নয়নে যে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তা যৌক্তিক এবং সারা বিশ্বেই তার বাস্তব প্রতিফলনই প্রত্যাশিত। বাংলাদেশে নারীর উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক কার্যকর ও সফল উদ্যোগ নিয়েছেন। যা আজ সারা বিশ্বেই প্রশংসিত হচ্ছে। সেটার ওপর এই অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নারী ক্ষমতায়নে সরকারের নানা উদ্যোগ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়েছে। যা সম্মেলনে উপস্থিত বিশ্বের প্রায় দেড় হাজার নারী নেতৃত্ব দর্শন করে অভিভূত হয়েছেন। যতই দিন অতিবাহিত হচ্ছে ততই যেন শেখ হাসিনার সক্ষমতা, যোগ্যতা ও বিচক্ষণতা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে।

যে বাংলাদেশকে ‘একদিন তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে উপাধি দেওয়া হয়েছিল সেই বাংলাদেশই আজ সারা দুনিয়ার অনিবার্য রোল মডেল। এর চেয়ে বড় পরিচয় হচ্ছে সারা বিশ্বের রাষ্ট্রনেতা ও রাষ্ট্রনায়কদেরই রোল মডেল আমাদের শেখ হাসিনা। তিনিও এক নারী। আমরা গর্বিত যে, তার মতো নারীর নেতৃত্ব পেয়েছিল বলেই সারা বিশ্বেই দিনকে দিন মধ্যমনি হয়ে উঠছে সবার প্রিয় বাংলাদেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here