গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে বিদেশ পালানোর পায়তারা করছে পুষ্টি-নজরুল

:: উৎপল দাস ::

দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রের মূল নেপথ্য কারিগর জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। আর দলটির পৃষ্ঠপোষকতা গোপনে করে যাচ্ছেন কয়েকজন ব্যবসায়ীরা। যারা বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। আবার গোপনে তারেক রহমানকে নিয়মিত টাকা পাঠাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম দুইজন হচ্ছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের পরিচালক মোশাররফ হোসেন পুষ্টি ও তাার খালাতো ভাই ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিডেটের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম। বীমা কোম্পানিটির গ্রাহকদের টাকা আত্নসাৎ থেকে শুরু করে সেই টাকা দিয়ে জামায়াতকে শক্তিশালী করার মতো কাজ করে যাচ্ছেন এই দুজন। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রের। নজরুল ইসলাম এবং মোশারারফ হোসেন পুষ্টির যোগসাজসে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের নানা অপকর্ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে পঞ্চম পর্ব।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে লুটেপুটে খেয়ে যারা ইতোমধ্যে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে সে দুষ্ট চক্রটির মুলহোতা নজরুল ইসলাম জাপানে অবৈধ অভিবাসি হিসেবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত করার পর জাপান পুলিশের হাতে ধরা খেয়ে দেশে ফেরৎ আসে। ফারইস্ট এ যোগ দেওয়ার পর তার ভাই মোশারফ হোসেন পুষ্টি, ভুয়া পরিচালক এম এ খালেক ও পরিচালক হেলাল মিয়াসহ ফারইস্টকে লুটেপুটে খেয়ে অল্প কয়েক বৎসরেই আঙুল
ফুলে কলাগাছ হয়েছে।

এদিকে, দৈনিক ভোরের পাতায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারিতে নেয়া হয়েছে মোশাররফ হোসেন পুষ্টি এবং নজরুল ইসলাম। কিন্তু এরই মাঝে গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়িয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর পাঁয়তারা করছে এ দু’জন। কয়েকদিন আগেও এই দু’জনের বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। জামায়াত ও জঙ্গি অর্থায়নের অভিযোগে কয়েকধাপে তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মোশাররফ হোসেন পুষ্টি এবং নজরুল ইসলাম দুজনই স্থলপথে দেশ ত্যাগের পাঁয়তারা করছেন এবং বিশস্ত ছাড়া কারো সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করছেন না।

অভিযোগ রয়েছে, ফারইস্টের জমি কেনার সময় কোটিকোটি টাকা অাত্মসাৎ করাসহ সাধারণ বীমাগ্রাহকদের টাকা এমনকি মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মীদের টাকা আত্মসাৎ করে অল্প কয়েক বৎসরেই নজরুল ইসলাম- খালেক গং গড়ে তুলেছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।

জাপান থেকে কপর্দকশূন্য হয়ে ফেরৎ আসা নজরুল ইসলাম ফারইস্টের আশ্চর্যপ্রদীপের ঘষায় এখন একাদিক কোম্পানির চেয়ারম্যান, একাদিক কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান, কয়েকটি কোম্পানির এমডি ও একাদিক কোম্পানির ডিরেক্টর।

নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে ফারইস্ট কেলেঙ্কারীর সর্দার নজরুল ইসলাম বর্তমানে ১) ফারইস্ট ইসলামী সিকিউরিটিস লিমিটেড ২) ফারইস্ট ইসলামি প্রোপারটিজের চেয়ারম্যান ৩) প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি ৪) প্রাইম মাল্টিমিডিয়া এবং ৫) বি আই পি ডি এর ভাইস চেয়ারম্যান ৬) রামিশা কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৭) পুনট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৮) ফারইস্ট কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড ৯) রামিশা কম্পোজিট টেক্সটাইলস মিলস লিমিটেড ১০) অপ্সরা হোল্ডিংস লিমিটেড ১১) রামিশা বিডি লিমিটেড ১২) রিমশা বিডি লিমিটেড এর এম ডি এবং১৩) মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড ১৪) প্রাইম ইসলামি সিকিউরিটিস লিমিটেড এর পরিচালক এবং ১১) রামিশা এন্টারপ্রাইজ ও ১২) রিমশা এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধীকারি। এছাড়াও ফারইস্ট এর টাকা অাত্মসাৎ করেই নজরুল ইসলাম নামে বেনামে শতশত কোটি টাকার স্থাবর অস্থাবর অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছে বলে জানা যায়।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের একজন নারী পরিচালক প্রফেসর ড. ইফফাত জাহান বর্তমান সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রেখে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বীমা কোম্পানিটির লাইসেন্স বাগিয়ে নেন। তারপর থেকেই নানা অপকর্মের আখড়া হিসাবে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতকে টাকা দিতে কোম্পানিটির দুইজন পরিচালক জমির দালালি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের পরিচালক কে এম খালেদ এবং তার ছেলে রুবায়েত খালেদ আগে থেকেই জমির দালালি করেন। কোম্পানিটির জন্য গুলশান এভিনিউতে কেনা ১৫০ কোটি টাকার জমির মূল্য বাড়িয়ে ২৫০ কোটি টাকা দেখিয়েছে। অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকা নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করার পাশাপাশি জামায়াতকে অর্থায়ন করেছে।

এছাড়া পল্টনে কেনা ৫০ কোটি টাকার জমির মূল্য দেখিয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। এখান থেকেও ১১০ কোটি টাকার ভাগাভাগি হয়েছে।

এসব অর্থ কেলেংকারির মূল হোতা হিসাবে কাজ করেছেন ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং তার খালাতো ভাই ব্যবসায়ী মোশরারফ হোসেন পুষ্টি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে মোশাররফ হোসেন পুষ্টিকে রোববার রাত ৮ টা ২৯ মিনিটে ভোরের পাতা অফিস থেকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। অপর অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে ৮ টা ৩২ মিনিটে ফোন করা হলেও তিনিও ফোন ধরেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here