গুলশান ট্র্যাজেডির দুই বছর : সামনের দিকেই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ইতিহাসের একটি ভয়ংকরতম রাতের মধ্যে থেকেও যে ফের ঘুরে দাঁড়ানো যায় সেটার দৃষ্টান্তই দেখালো বাংলাদেশ। গতকাল ছিল গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে ঘটা সেই ট্র্যাজেডির দুই বছর পূর্তি। আজ থেকে দুই বছর আগে ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিসান বেকারিতে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড গোটা বিশ্বকেই স্তম্ভিত করে দিয়েছিল। স্তম্ভিত হয়েছিল গোটা বাংলাদেশও। আমাদের দেশেরই কয়েক বিপথগামী তরুণের দ্বারা এরকম এক বিভীষিকাময় শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা ঘটতে পারে তা ছিল একেবারেই অভাবিত। গোটা জাতি বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে উত্তর খুঁজে ফিরছিল যে দেশটি ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হলো সে দেশটি কি আবার পাকিস্তানবাদীদের খপ্পরে পড়ে যাচ্ছে না তো!

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে আপন গন্তব্য থেকে বিচ্যুত করতে। তারা চেয়েছিল পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে। সেদিনের সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৬ জাপানি ও ৯ জন ইতালীয়। জাপানিরা কাজ করছিলেন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকায় থাকা মেট্রোরেলের উপদেষ্টা হিসেবে। ইতালীয়দের কয়েকজন রফতানি আয় ও কর্মসংস্থানের প্রধান খাত পোশাক শিল্পে যুক্ত ছিলেন।

জঙ্গিরা মনে করেছিল এই বিদেশীদের হত্যা করে বাংলাদেশকে বহিবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে। কিন্তু বাংলাদেশ এই জনবিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের পূর্ণ উদ্যোমে মোকাবিলা করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াসি অভিযানে পরাজিত হয়েছে সন্ত্রাসীরা। তখন থেকেই গোটা দেশে একযোগে আওয়াজ উঠেছে- এ দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধীদের ঠাঁই নেই। সর্বত্র প্রতিবাদী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। হয়েছে মিছিল ও মানববন্ধন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উন্নত বিশ্ব, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সন্ত্রাস দমনে শেখ হাসিনার সরকারের প্রশংসা করছে। সরকারের কঠোর অবস্থান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টা, সর্বোপরি দেশবাসীর ধর্মান্ধ চরমপন্থার বিরুদ্ধে দৃঢ় মনোভাবের কারণে আজ এ অপশক্তি পর্যুদস্ত। হলি আর্টিসানে নৃশংসতার শিকার হয়েছেন যারা, তাদের আমরা স্মরণ করি; তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। তাদের প্রতি রইল আমাদের অকৃত্রিম সহমর্মিতা। যদিও জানি, তারা যে শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন তা কোনোদিনই লাঘব হওয়ার নয়। কিন্তু আমরা তো এই শোককেই শক্তিতে রূপান্তর করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশকে বিশে^র কাছে একটি আদর্শস্থানীয় জঙ্গিবাদমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে আস্থার জায়গা খুঁজে পেয়েছি। আর সেই সঙ্গে আর পেছনের দিকে না তাকিয়ে সামনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here