বাজেটবান্ধব হোক রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানি

:: হাবিব উল্লাহ ডন ::

আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। এ তকমা দিয়েছে খোদ জাতিসংঘ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। এতে আমাদের গাড়ি নেওয়ার মতো জনসংখ্যার হারও বেড়েছে। তা দিনদিনই বাড়বে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে আমরা একটি কথা জানি, এদেশে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির চাহিদাই তুলনামূলকভাবে বেশি। এরমধ্যে আবার জাপানি গাড়ির যেন কোনো তুলনাই নেই। যদিও এবারের প্রাক-বাজেট আলোচনায় স্থানীয়ভাবে গাড়ি ও মোটরসাইকেল উৎপাদনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা জনিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূইয়া। তবুও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতেও সুবিধা দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

মোশাররফ হোসেন ভূইয়া পরিবেশবান্ধব হওয়ায় ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোর কথাও জানিয়েছেন। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে শুল্ক কমানোসহ অন্যান্য দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যানের কথা আমাদের মোটামুটি মনঃপুত হয়েছে। আমরা সবাই জানি, প্রতি বছর বাজেটের আকার বাড়ছে। আর রাজস্ব আয়ের উৎস সীমিত হওয়ায় রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে সুবিধা দেওয়া জরুরি। কারণ আমদানি বাড়লে বিক্রিও বাড়বে। আর বিক্রি বাড়লে সরকার রাজস্বও বেশি পাবে।

আমি মনে করি, রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ির আমদানিতে সিসির স্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি শুল্ক কমানো দরকার। পুরাতন গাড়ির সংজ্ঞায় এনবিআর কমপক্ষে এক বছর ব্যবহৃত হওয়া ও এক হাজার কিলোমিটার চালানো গাড়িকে উল্লেখ করেছে। জাপানের অধিকাংশ ব্যবহৃত গাড়ি এক বছরের আগেই রি-কন্ডিশন্ড হওয়ায় তা ব্যবসায়ীরা আনতে পারছেন না। ফলে এ সংজ্ঞা পরিবর্তন দরকার।

বারভিডার সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেছেন, ইউরোপ-আমেরিকায় বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি চালু হয়েছে। বারভিডা চাইলে বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি আমদানি করতে পারে।

এনবিআর জানিয়েছে- আমদানিকারকদের সুবিধা দিলেও গাড়ি উৎপাদকদের সঙ্গে কথা বলে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কাজ করবে সংস্থাটি। দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমদানি নীতি আদেশ ২০১৮-২০২১ প্রণয়ন লক্ষ্যে বাণিজ্য সচিবের সঙ্গে আমরা বৈঠকও করেছি। আমি শুধু একটি কথা বলতে পারি, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের অবদান অনেক। কারণ দেশের অর্থনীতিতে সরকারি খাত মাত্র ৩০ শতাংশ অবদান রাখছে।

এতে বেসরকারি খাতের অবদান ৭০ শতাংশ। বেসরকারি খাতের অবদানের কথা বিবেচনায় এনে সরকার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানির বিষয়টি ভালোভাবে মাথায় রাখুক- এটিই আমাদের চাওয়া।

লেখক : চেয়ারম্যান- আলফা হোল্ডিংস, ফ্লাইট কিং লিমিটেড- জিএসএ চায়না সাউদার্ন, বারভিডা ফাউন্ডেশন ও আটলান্টা ওভারসিজ লিমিটেড; প্রেসিডেন্ট- বারভিডা, সিস বিসিসিআই, পরিচালক- এফবিসিসিআই, এক্সিম ব্যাংক, সার্ক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ওটিস ইলিভেটর কোম্পানি বিডি লিমিটেড।

 

অনলাইন/কে 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here