গণভবনে ডেকে যেসব এমপিদের বিচার করবেন শেখ হাসিনা

::ভোরের পাতা ডেস্ক::

আগামীকাল শনিবার সকালে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের বিচার বসছে। গণভবনে সকাল ১১ টায় এই বিচারের প্রথম পর্বে বিচার হবে ৪ বিভাগের এম.পি এবং নেতাদের। বিচারের প্রধান বিচারক প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সারাদেশে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে ইতিমধ্যেই দলে চাঞ্চল্য এবং স্বতঃস্ফূর্ততা তৈরি হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল ৩০ জুন এবং আগামী ৭ জুলাই দুই পর্বে সারাদেশের তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন। প্রথম পর্বের বৈঠকে ডাকা হয়েছে রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রামের তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে। দ্বিতীয় পর্বের বৈঠকে থাকবে (৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য) ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর এবং খুলনার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা থাকবেন তারা হলেন, প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের টিকেটে জেতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ। মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, দলীয় কাউন্সিলর এবং জেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

দলীয় কোন্দল বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘নৌকা’ প্রতীকের জন্য কাজ করার নির্দেশনা দিতেই তৃণমূলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি সংলাপের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দলকে ঐক্যবধ্যভাবে আগামী নির্বাচনে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেবেন। দলীয় কোন্দল বন্ধের কঠোর বার্তা দেবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তৃণমূলের বক্তব্যও শুনবেন। তৃণমূলের আওয়ামী লীগের সমস্যা, তাদের দুঃখ কষ্টগুলো জানবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক কার্যতঃ দলীয় এম.পিদের বিচার সভায় পরিনত হবে। অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকার স্থানীয় এম.পিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের সম্পর্ক সুখের নয়। এম.পিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ত্যাগী পরীক্ষিত এবং দুর্দিনের কাণ্ডারীদের বাদ দিয়ে একটি আলাদা সুবিধাবাদী গোষ্ঠীদের একত্রিত করছেন। এদের একটি অংশ আবার এসেছে জামাত-বিএনপি থেকে। এম.পিরা আসল আওয়ামী লীগদের দূরে ঠেলে দিয়েছেন। তোষামোদকারী, চাটুকার এবং নব্য আওয়ামী লীগারদের কাছে টেনে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিও মাঠ পর্যায়ের জরিপে এরকম তথ্য পেয়েছেন। আগামীকাল এবং ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগগুলো সরাসরি শুনবেন। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আগামী নির্বাচনের মনোনয়নের ব্যাপারে। পাশাপাশি তিনি দলে কোন্দল এবং গ্রুপিং বন্ধের জন্য কঠোর বার্তা দেবেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলছেন, এই বৈঠকের ফলে একদিকে যেমন নেতা কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন, তেমনি দলীয় কোন্দলও অনেক কমে আসবে। তাদের মতে, এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে এম.পিদের স্বেচ্ছাচারিতা অনেক কমে যাবে। এর মাধ্যমে শেখ হাসিনা তৃনমূলের আওয়ামী লীগকে সম্মানিত করছেন বলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here