খুলনা সিটি করপোরেশন নতুন নগরপিতাকে অভিনন্দন

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

এবার একাদশ জাতীয় সংসদে বিজয়ের নিশানা খুঁজে পেতে হাতের দূরত্বে চলে এলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবারের খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেভাবে এ নগরীর জনগণ বিপুল ব্যবধানে বিজয়ের মাধ্যমে তাদের নতুন নগরপিতা বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলেন তাতেই স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায় যে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগই বিজয়ী হতে যাচ্ছে। আমরা এর আগের কলমে প্রত্যাশা করেছিলাম এ নির্বাচনটি যেন কোনো প্রকার ঝামেলামুক্তভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়। নির্বাচনে আমাদের সে প্রত্যাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন এ নির্বাচনে প্রত্যাশিত বিজয়ই পেয়েছেন তালুকদার আব্দুল খালেক। নির্বাচনে মোট ২৮৯টির মধ্যে ২৮৬টি কেন্দ্রের ঘোষিত ফলে নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৯০২টি। আর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পড়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৯৫৬টি। এর ফলে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

অনিয়মের অভিযোগে বাকি তিনটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলর নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলটি পেয়েছে ১৮ কাউন্সিলর, আর সাবেক বিরোধী দলটি পেয়েছে ৯ কাউন্সিলর। আর এর মধ্যদিয়েও স্পষ্ট হলো তৃণমূলেও সরকারি দলটি পোক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। কাজেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলটি অনেকটা নির্ভার হয়েই প্রতিপক্ষ দলগুলোকে মোকাবিলা করতে যাচ্ছে। খুলনা সিটি নির্বাচনে আরেকটি উল্লেখ করা বিষয় যে, যে নির্বাচনটি ইসির জন্য চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন সে চ্যালেঞ্জেও ইসি উৎরে গেছেন বললে অত্যুক্তি হবে না। সরকার দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের খুলনা সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিজয়ের মূলে কয়টি কারণ উল্লেখ করেছেন। যে কয়টি কারণের কথা উল্লেখ করেছেন তাও আমরা সঠিক বলে মনে করি। তিনি বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন-অর্জনের কারণে জয় এসেছে। সমুদ্র ও সীমান্ত বিজয় হয়েছে।

পারমাণবিক ক্লাবে যোগ দেওয়া এবং স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণে ঐতিহাসিক সাফল্যের কারণে মানুষ নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন। প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, এখন ক্ষমতাসীন দলটি এমন পর্যায়ে এসে উন্নীত হয়েছে যে, জনগণেরও আর কোনো উপায় নেই যে কোনো ছুতায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে উপেক্ষা করা। তা ছাড়া নতুন প্রজন্মের যেসব ভোটাররা আছেন তারা গত একদশক ধরে দেখেই আসছে যে, বর্তমান সরকার কীভাবে একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এসব দৃশ্যমান উন্নয়নকে কি করে তারা উপেক্ষা করতে পারে! অর্থাৎ খুলনা সিটির এ নির্বাচনে নতুন প্রজন্মের ভোট আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জন্য বিরাট ভূমিকা রেখেছে। আর যেসব পুরনো ভোটার ‘দলকানা’ আছে তাদের ভোট খালেকের পক্ষে না এলে কি। নিরঙ্কুশ ভোটার তো আর ‘দলকানা’ হতে পারে না। তার মানে, এ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে স্পষ্ট হলো নির্বাচনী মাঠ এখন ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের হাতেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here