খালেদা জিয়া নির্বাচনে যেতে চাইলেও তারেক রহমান না করছেন

::ভোরের পাতা ডেস্ক::

এলডিপি প্রধান এবং সাবেক বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ’২০ দল এখন ক্লিনিক্যালি ডেড। লাইফ সাপোর্টে আছে। লাইফ সাপোর্ট খুলে নিলেই ২০ দলের মৃত্যু হবে।’ শনিবার বিকেলে তাঁর বাসভবনে এলডিপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এলডিপির শীর্ষস্থানীয় অন্তত তিনজন নেতা এই বৈঠকের খবর নিশ্চিত করেছে। কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ দেশের রাজনীতি এবং করণীয় নিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কর্নেল (অব.) অলি বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবেই।’ তবে তাঁর মতে ‘অখণ্ড বিএনপি’র অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম। বিএনপির বড় অংশই নির্বাচনে যাবে। কর্নেল (অব.) অলি মনে করেন, ‘বেগম জিয়াও হয়তো চাইবেন নির্বাচনে যেতে। কারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ তাঁর মুক্তির পথকে প্রশস্ত করতে পারে। কিন্তু তারেক জিয়া নির্বাচনে যেতে চাইবে না। কারণ, সে বিবেচনা করবে তাঁর সামনে সময় আছে। ২০১৪ তেও এই দ্বন্দ্ব হয়েছিল। সে সময় ম্যাডাম তাঁর ছেলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন। এবারও হয়তো তেমনি হবে। তবে এবার বিএনপির একটি বড় অংশ নির্বাচনে যাবেই।’

দলের কর্মীদের সঙ্গে খোলামেলা আলাপচারিতায় কর্নেল (অব.) অলি বলেন, ‘বিএনপিতে এখন ম্যাডামকে সঠিক অ্যাডভাইস দেওয়ার কেউ নেই। এক সময় আমি ছিলাম, ওবায়েদ ভাই ছিল, বি. চৌধুরী ছিলেন, সালাম তালুকদার ছিলেন, সাইফুর রহমান সাহেব ছিলেন। আমরা তো ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলতাম। তাঁকে বুঝাতাম। তিনি আমাদের সিদ্ধান্ত শুনতেন।’ তাঁর মতে, ১৯৯৬ সালে সিনিয়র নেতারাই তাঁকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল এবং বেগম জিয়া ওই পরামর্শ মেনে নিয়েছিল। কর্নেল অলি বলেছেন, ‘এখন বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছে সব জ্বি হুজুরের দল। এরা তো ম্যাডামের সামনে কথা বলতেই ভয় পায়। পরামর্শ তো দূরের কথা।’

কর্নেল অলি মনে করেন, বিএনপি ভাঙতে হলে ২০ দলকে অকেজো করতে হবে। তা না হলে তো বিএনপি ভাঙা কঠিন হয়ে পড়বে। কারণ ২০ দল বসলেই তো আমরা তাঁদের সাহস দেবো। আন্দোলনের কথা বলবো। সরকার এটা চায় না। এজন্যই সরকার ২০ দলকে অকার্যকর রাখার কৌশল নিয়েছে।

দলের সহকর্মীদের কর্নেল (অব.) অলি বলেছেন, ‘বিএনপির একটা বড় অংশ সরকারের পরামর্শে চলছে। এ কারণেই তারা ২০ দলকে অকার্যকর রেখেছে। ২০ দলকে এখন বিএনপিই ভয় পায়। সেজন্যই ২০ দলকে অকার্যকর করে রেখেছে।’ অলি মনে করেন, এখন আমাদের দায়িত্ব এই জোটকে টিকিয়ে রাখা। কিন্তু আমাদের শক্তি তো কম। আমরা তো ২০ দলকে সচল রাখতে পারব না। সচল যারা করতে পারে, তারাই একে হত্যার আয়োজন করছে।

এরপর কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে টেলিফোনে ২০ দলের বৈঠক ডাকতে বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা বলবো।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here