কারাগারে কেমন আছেন খালেদা জিয়া?

::ভোরের পাতা ডেস্ক::

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বেগম জিয়া কারান্তরীণ হয়েছিলেন চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি। আজ ৭ জুলাই, বেগম জিয়ার কারাজীবনের ৫ মাস পূর্ণ হলো। আইনজীবীরা বলেছিলেন কোনো দণ্ডই হবে না। আর হলেও জামিন নিয়ে দিনে দিনেই বেরিয়ে আসবেন। তবে আইনজীবীদের ওই কথা ভুল প্রমাণিত হয়। দিন পেরিয়ে সপ্তাহ হয়েছে, সপ্তাহ পেরিয়ে মাস। এক ঈদ গেল, আরেক ঈদ আসছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। এক কারাগার, এক বন্দী। মুক্তির অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে পুরান ঢাকার পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাজীবন।

দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের দাবিদার বিএনপি তাঁদের চেয়ারপারসনের কারাগারে নেওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল। তবে এই হুমকি যে ফাঁকা বুলি তা এই পাঁচ মাসে প্রমাণিত হয়েছে। বড় কোনো আন্দোলনের ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। মানববন্ধন, স্বাক্ষর সংগ্রহ, লিফলেট বিতরণসহ নামকাওয়াস্তে কিছু আয়োজন ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বড় কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি তারা।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, বর্তমানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া বেগম জিয়ার মুক্তি সম্ভব না। এই আন্দোলন হতে হবে বিএনপির একা না, শরিকসহ সব দল নিয়ে। কিন্তু বিএনপির মধ্যেই এখন নেতৃত্বের বিরোধ চরমে। দলটির ইতিহাসে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিরোধ বেশি। দলকে গোছানোর মতো নেতৃত্ব বিএনপিতে এই মুহূর্তে অনুপস্থিত। ক্যারিশম্যাটিক কোনো নেতাও নেই বিএনপিতে। তাই সব নিয়ে তো পরের কথা, একাই আন্দোলনে অক্ষম বিএনপি।

আইনি লড়াইয়েও বিধ্বস্ত বিএনপি। বেগম জিয়ার আইনজীবীদের মিডিয়ায় সামনে বক্তব্য দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রেই সফলতা দেখা যায়না। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিনিয়ত ভটজট পাকিয়ে এরই মধ্যে প্রায় প্রতিটি প্রক্রিয়ায় চূড়ান্তভাবে বিলম্বিত করতে সিদ্ধহস্ত প্রমাণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। এখন এই আইনজীবীদের মুখেও নেতাদের বুলি, আইনি পথে বেগম জিয়ার মুক্তি অসম্ভব, প্রয়োজন আন্দোলন, কঠোর কর্মসূচি। কিন্তু সেই কর্মসূচি কে করবে?

অসুস্থতার কারণেও বেগম জিয়ার কারাগার ছেড়ে হাসপাতালে থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। সেই সম্ভাবনাও অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নিয়ে চিকিৎসার। কিন্তু বেগম জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে চান। পরে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু বেগম জিয়া ইউনাইটেডেই অনড় থাকেন। এসব ছিল ঈদুল ফিতরের আগের আলোচনা। ঈদের পর বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আর কোনো দাবি নেই। অনেকের মনে প্রশ্ন, গুরুতর অসুস্থ হলে কীভাবে চিকিৎসা ছাড়াই এতদিন কারাগারে থাকেন বেগম জিয়া। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে জনমনে যে সহানুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল তাও এখন সুদূর পরাহত।

এদিকে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলা আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই রায়ে বেগম জিয়ার দণ্ড হলে বেগম জিয়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। তাই ৩১ জুলাই নির্ধারিত হতে যাচ্ছে বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত।

আবার চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছিল। গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারায় ‘কমিটির সদস্যপদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে দলের সদস্য হওয়ার অযোগ্যতার কিছু কথা বলা হয়েছিল। ওই ধারায় অযোগ্য হন দুর্নীতি পরায়ণ প্রমাণিত হওয়া ব্যক্তিরা। বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র সংবিধান পরিপন্থী বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন। তাই ওই গঠনতন্ত্র গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই তারা বিএনপিকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিতে যাচ্ছে।

সব কিছু মিলিয়ে বেগম জিয়া পড়ে গেছেন এক চক্রের মধ্যে যেখান থেকে বেরুনোর পথ পাওয়া যাচ্ছে না। অতি শিগগিরই বেগম জিয়া যে কারাগার থেকে বের হচ্ছেন না তা সবাই মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর নেতৃত্বহীন বিএনপি পার করছে এক অন্ধকার সময়।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here