কাকরাইল মসজিদে জ্যামার: গ্রেপ্তার হয়নি আসামি

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

তাবলিগ জামাতের প্রধান কেন্দ্র রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে অবৈধভাবে বসানো দুটি জ্যামার নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। কী এমন গোপনীয় বিষয় ছিল সেখানে যে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ রাখতে জ্যামার বসানো হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কারাই বা জড়িত? এসব তথ্য বের করতে অনুসন্ধানে নেমে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। স্বয়ং পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটের একটি ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে জ্যামার দুটি ক্রয় করার পর চার ব্যবসায়ীর হাত ঘুরে কাকরাইল মসজিদে স্থাপন করা হয় সেগুলো। ওই চারজনের মধ্যে তিনজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে কাকরাইল মসজিদে যে ব্যক্তি জ্যামার স্থাপন করেছেন তাকে পাওয়া যায়নি। তার নাম জামান। এখন সেই জামানকে পুলিশ খুঁজছে। পুলিশ বলছে, জামানকে পাওয়া গেলেই জ্যামার বসানোর নেপথ্যের ব্যক্তিদের বের করা সহজ হবে।

এদিকে, জ্যামার বিক্রেতাদের একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবাববন্দি দিয়েছে। সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কাকরাইল মসজিদে জ্যামারগুলো কিনেছিল ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ হান্নান এবং তার লোকজন। তারপরও কেন মাহফুজ হান্নানকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না এ বিষয়টি নিয়েও নানা ধরণের কথা উঠেছে।

গত ২৭ এপ্রিল দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কাকরাইল মসজিদের দক্ষিণ পাশের ভবন থেকে দুটি জ্যামার উদ্ধার করে রমনা থানা পুলিশ। এই জ্যামার স্থাপনের বিষয়ে কাকরাইল মসজিদের সঙ্গে সংশ্নিষ্টরা কেউ জানেন না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন।

জ্যামার উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে রমনা থানায় মামলা করে।
এজাহারে বলা হয়েছে, তাবলিগ জামাতের মাশুয়ারার বৈঠকস্থলের পাশে অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ জ্যামার বসিয়েছে, যাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উপস্থিত লোকজনের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকে। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সেখানে বড় ধরনের ক্ষতির উদ্দেশ্যে এই জ্যামার বসানো হয়।

জানা যায়, তাবলিগ জামাতের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে কাকরাইল মসজিদে। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল সকালে মাওলানা সাদ কান্দলভীর (দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের বর্তমান মুরব্বি) বিরোধীরা কাকরাইলে তাবলিগের মারকাজের (প্রধান কেন্দ্র) ‘দখল’ নেয়। সেদিনও দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়ায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানিয়েছে, ২৭ এপ্রিল কাকরাইল মসজিদের দক্ষিণ পাশের ভবনের তৃতীয় তলায় তাবলিগ জামাতের বৈঠক চলাকালে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। খবর পেয়ে রমনা থানার এসআই মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন সেখানে যান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় পরে পুলিশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা ছুটে যান সেখানে। এরপরই তাদের মোবাইল ফোনে সেখানে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন দেখায়। তারা চেষ্টা করেও মোবাইল ফোন সচল করতে পারেননি। উপস্থিত সকল পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনের একই অবস্থা হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয় যে সেখানে জ্যামার রয়েছে এবং এ কারণেই নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন। এরপরই তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।

তল্লাশির এক পর্যায়ে মসজিদের দক্ষিণ পাশের ভবনের তৃতীয় তলার সিঁড়ির পাশে প্রকৌশলী মাহফুজ হান্নানের কক্ষের বাথরুমের সিলিংয়ের ওপরে একটি জ্যামার পাওয়া যায়। একই ভবনে শূরা সদস্য মাওলানা হোসাইনের কক্ষের সিলিংয়ের ওপর থেকে আরও একটি জ্যামার উদ্ধার করা হয়। দুটি জ্যামারই সচল ছিল।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই জ্যামারের ৩০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করার সক্ষমতা রয়েছে।

রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here