এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফকে আপনি কীভাবে ঠেকাবেন!

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

সিনেমায় সৎ পুলিশ অফিসার-বিচারকদের নানাভাবে হেনস্থা আর বিপদে পড়তে দেখি আমরা। তাদের জীবন সংশয় হতেও দেখা যায়। এবার বাস্তবেই সেটা নিপুণভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। তাদের চরমতম গালিফতি আর উদাসীনতায় বড় ধরণের বিপদ থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ।

গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে ৮ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এলে হঠাৎ করেই তার মাথার উপরের সিলিংটি খুলে পড়ে। তাৎক্ষণিক রিফ্লেক্সে সরে যাওয়ায় কোন দুর্ঘটনার শিকার হননি আবদুর রহমান। এরপর সেই সিলিংটি লাগাতে গেলে পাশের আরেকটি সিলিং খুলে পড়ে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইউসুফের মাথায়। অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি। সিলিংটি খাড়াভাবে পড়লে তিনি গুরুতর আহত হতে পারতেন।

এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানা গেছে, কোর্টের কর্মকর্তা সেলিম মুন্সি বিমানবন্দরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। থানার ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ বছর যাবত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের অফিস কক্ষে সিলিং খুলে পড়ে যায়। এগুলো মেরামত করার জন্য বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী, সিভিল ও সহকারী প্রকৌশলী সিভিলকে বার বার তাগিদসহ বিমানবন্দরের পরিচালককে অনুরোধ করা হয় । প্রায় একবছর পূর্বে পরিচালক (হশাআবি) সহ-নির্বাহী প্রকৌশলী পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। বেবিচকের সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালনা) মোস্তাফিজুর রহমানও পরির্দশন করে এ অবস্থা দেখেছেন। কিন্তু, এখন পর্যন্ত এ অফিসের সিলিংসহ ইলেকট্রিক কাজ করা হয় নাই। এর কারণ অনুসন্ধান করে জানা যায়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রকৌশল বিভাগের গাফলতির কারণে মেরামত হচ্ছে না ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সিলিং।

সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের সৌজন্যে আনুষ্ঠানিক কথাবার্তা শেষ। এবার আসা যাক ঘটনার পেছনের ঘটনায়। এই যে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফ, যাকে ফেসবুকে মানুষজন চেনে বানসুরি মোহাম্মদ ইউসুফ হিসেবে, এই মানুষটা আসলে খুবই ‘ভ্যাজাইল্লা’ একটা মানুষ। জাপানে সেই ২০০১-২০০২ সালের সময়কার ছয় লাখ ইয়েনের উচ্চ বেতনের চাকরী ফেলে মানুষটা দেশে ফিরে সরকারী চাকরীতে এসে শুরু করলেন ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজ। চাইলেই তিনি পারতেন আর দশজনের মত যা হচ্ছে হোক, সিস্টেম যেভাবে চলছে চলুক, আমি আমার মত চলি— এই দর্শনে চাকরীজীবন পার করে দিতে। কিন্তু না, ওই যে বললাম ভ্যাজাইল্লা, মানুষটা যেখানেই যান, সেখানেই সবকিছুতে ভ্যাজাল লাগান। অনিয়ম পাল্টে যায় সুশৃঙ্খল নিয়মে। দুর্লভ হয়ে ওঠা সেবা-গাফিলতি-অবহেলা পাল্টে যায় দ্রুত ও কার্যকরী জনসেবায়, সরকারী কর্মচারীদের রমরমা ঘুষের বাণিজ্য পরিণত হয় লজ্জার একটা কাজে, দুর্নীতি জাদুঘরে চলে গিয়ে ইউসুফ সাহেবের আওতায় থাকা অফিস পরিণত হয় সরকারী সেবা দ্রুত ও ভোগান্তিছাড়া পাওয়ার এক উদাহরণে!

তো এহেন রেকর্ড থাকায় ২০১৪ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর ইউসুফ সাহেবকে দায়িত্ব দেওয়া হয় অল এয়ারপোর্টসের ম্যাজিস্ট্রেসীর। অর্থাৎ বাংলাদেশের সকল এয়ারপোর্টগুলোর অনিয়ম দুর্নীতি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে। তার আগেই আরেকজন ম্যাজিস্ট্রেট ৬ই জুলাই আরেকজন ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেনকেও দেওয়া হয়েছিল এই দায়িত্ব। এই দুজন মিলে শুরু করেন এক বিচিত্র যুদ্ধ! এয়ারপোর্টে যাতায়াতকারী যাত্রীদের অন্তহীন দুর্ভোগ আর ভোগান্তির কারণ ঘটানো এয়ারপোর্টের বিভিন্ন কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ!

কেন এভাবে বলছি? কারণ এই চার বছর আগেও শাহজালাল এয়ারপোর্ট ছিল মূলত এয়ারপোর্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের দুর্নীতি আর বিভিন্ন দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্সের চরম স্বেচ্ছাচারীতার আদর্শ স্বর্গ! যার ফলে যাত্রীরা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু শ্রমিক ও কর্মীরা শিকার হতেন চরম হেনস্থা ও ভোগান্তির! সাধারণত যাত্রী হয়রানি, ব্যাগেজ হারানো, ব্যাগেজ সময়মত না পাওয়া, নিরাপত্তার নামে হয়রানি, অবৈধভাবে যাত্রীদের টাকা নেওয়ার মত উদ্ভট সব অপরাধ ঘটাতো বিমানবন্দরের কর্মীরা। দায়িত্ব নিয়েই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেন এই ম্যাজিস্ট্রেট দুজন, যাত্রীদের প্রত্যেকটা অভিযোগ তাৎক্ষণিক সমাধান করে অপরাধী কর্মীকে শাস্তি দেওয়ায় যাত্রীদের আস্থা ফিরে আসতে থাকে, আর তার সাথে সাথে বাড়তে থাকে ম্যাজিস্ট্রেটদের বিপদ।

বানসুরি ইউসুফ সেই শুরুর গল্পটা বলছিলেন, একেবারে প্রথম যেদিন তিনি অনিয়মের দায়ে দৈনিকভিত্তিতে নিয়োগ প্রাপ্ত একজন নিরাপত্তা কর্মীর পরিচয়পত্র জব্দ করার পর লিটারেলি এয়ারপোর্ট কেঁপে যায়! একজন সামান্য কর্মীর জন্য নানাদিক থেকে চাপ আসতে শুরু করে, এক পর্যায়ে এয়ারপোর্টের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ইউসুফকে ফোন করে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন যে, তার লোকের আইডি কার্ড কেন আটকানো হয়েছে? অবিলম্বে যেন সেটি ফেরত দেওয়া হয়। সেদিন তিনি প্রবল রোষ উপেক্ষা করে নিজের জায়গায় শক্ত ছিলেন, কারো কোন হুমকি ধামকিকে পাত্তা না দিয়ে বরং আরো শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেন সকল অপকর্ম আর অনিয়মের বিরুদ্ধে। ফলে একটা সময়ে এই পুরো এয়ারপোর্টের প্রশাসন চলে যায় তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে তিনি যখন দেশী-বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করলেন, যাত্রীদের যথেচ্ছা হয়রানী, ভোগান্তির প্রতিবিধান করতে শুরু করলেন, বড় অংকের জরিমানা করতে শুরু করলেন নামীদামী সব এয়ারলাইন্সকে, তারা ক্ষেপে গেল। যেখানে এয়ারপোর্ট অথরিটি এতোদিনে তাদের স্বেচ্ছাচারী আচরণ করতে দিয়েছে, কোন ব্যবস্থা নেয়নি, সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এভাবে তাদের নাকানিচুবানি খাওয়াবে, এটা মেনে নেওয়া অসম্ভব।

কিন্তু যতই চেষ্টা করুক না কেন, ম্যাজিস্ট্রেট ইউসুফ তার জায়গায় স্ট্রিক্ট ছিলেন বলে শেষ পর্যন্ত সবগুলো এয়ারলাইন্স লাইনে আসতে বাধ্য হলো। এখন যাত্রীদের লাগেজ হারানো পরিমাণ নেমে এসেছে প্রায় শূন্যের কোঠায়, আগে যেখানে দুটো ফ্লাইটের মধ্যবর্তী সময়ে কিংবা ফ্লাইট ডিলে হলে যাত্রীদের জন্য কোন প্রকার হোটেলের ব্যবস্থা ছিল না, সেখানে এখন তার তৎপরতায় প্রত্যেকটা এয়ারলাইন্স বাধ্য হয়েছে ফাইভ স্টার ফোর স্টার হোটেলে যাত্রীদের রাখার সুবিধা চালু করতে। এখন আর কোন যাত্রীকে অন্যায়ভাবে কোন টাকা দিতে হয় না কোন এয়ারপোর্টকর্মীকে, কেউ চাইলেই তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সবচেয়ে বড় কথা, যাত্রীরা যে কোন সময়ে যে কোন দরকারে যে কোন বিপদে, যে কোন সমস্যায় স্রেফ একবার এয়ারপোর্টের ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের রুমটাতে আসতে পারলেই হলো, তার আর কোন ভয় নাই। তার কাজ হয়ে যাবে। একটা সরকারী অফিস থেকে এমন নিশ্চিত সেবা ও নিরাপত্তা সম্ভব হয়েছে স্রেফ এই ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইউসুফের কারণে।

আর সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউসুফের মাথায় সিলিং খুলে পড়লো কাল। তিন বছর ধরেই এয়ারপোর্ট কোর্টে তিনি যে জরাজীর্ণ রুমটায় বসেন, বারবার সেটার সিলিং খুলে পড়ছিল। বারবার সিভিল এভিয়েশনকে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। গত তিন বছর ধরে সিভিল এভিয়েশনের নির্বাহী প্রকৌশলী, সিভিল ও সহকারী প্রকৌশলী সিভিলকে বারবার তাগাদা দেওয়াসহ পরিচালককে পর্যন্ত বলা হয়েছে। কিন্তু সিলিং ঠিক হয়নি। ঠিক হয়নি রুমের কিছুই! এমনকি একটা টিভি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এখনো তার রুমে মান্ধাতার আমলের একটা টেলিভিশন আছে। আমরা রসিকতা করে সেই টেলিভিশনটাকে কিংবদন্তীর মর্যাদা দিয়েছি, টেলিভিশনটা যেন প্রতীকী অর্থে সৎ থাকা আর জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়ার প্রতিদানে পাওয়া উপহার।

হিসাবটা খুব সহজ। যেহেতু সরাসরি থামানো যাচ্ছে না এই বেয়াড়া ম্যাজিস্ট্রেটকে, সুতরাং তার অফিসটাকে এমনভাবে বিশ্রী কাজের অযোগ্য করে তোলা হোক যেন ছাদ খুলে পড়ে বা যে কোন দুর্ঘটনায় থামানো যায়। খুব ভালো হয় যদি এতে সে মরে যায়। বলা যাবে যে এক দুঃখজনক এক্সিডেন্টে এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিহত। স্রেফ একলা একটা মানুষ পুরা এয়ারপোর্টের মাফিয়া চক্র গুঁড়িয়ে সবকিছু সাফা করে ঝকঝকে তকতকে বানায়ে ফেলবে, এইটা কিভাবে সহ্য হয়? এইটা কিভাবে বরদাশত করা যায়? তাই না? তিনি একটা এয়ারলাইন্সকেও ছাড় দেন না, তাদের বেনিয়া মনোবৃত্তিসম্পন্ন প্রতিটা স্বেচ্ছাচারী আচরণ আর গাফিলতি চুকাতে হচ্ছে বড় আকারের জরিমানা আর শাস্তিতে। শাস্তি পাচ্ছে এয়ারপোর্টের প্রত্যেকটা দুর্নীতিবাজ কর্মচারী থেকে কর্মকর্তা- সে যত বড় আর ক্ষমতাধরই হোক না কেন! যাত্রীদের লাগেজ চুরি থেকে শুরু করে ইচ্ছামত চাঁদাবাজি পর্যন্ত সব ধরণের ব্যবসাপাতি বন্ধ, উপরের কোন কর্মকর্তার পকেটেই টাকা ঢোকে না।

ফলে পুরো এয়ারপোর্টে যে মানুষটা শৃংখলা ফিরিয়ে আনলো, সবকিছু আক্ষরিক অর্থেই ঝকঝকে তকতকে করলো, তার রুমটা হয়ে থাকে এয়ারপোর্টের সবচেয়ে জরাজীর্ণ ভাঙাচোরা রুম। যে মানুষটা তার সবটুকু ক্ষমতা দিয়ে এয়ারপোর্টের সাধারণ যাত্রীদের জন্য তাৎক্ষনিক ও সবচেয়ে কার্যকর সেবাটা নিশ্চিত করে যাচ্ছেন সব সময়, তার মাথায় ভেঙে পড়ে ছাদ!

তারপরেও কি তাকে থামাতে পারলো সিভিল এভিয়েশনের কুচক্রীরা? আজ সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযাগমাধ্যমে সুস্থ আছেন ঘোষণা দিয়ে বেশ মজা করেই জানিয়েছেন,

কেউ যদি মনে করে, আমার রুম ঠিক না করলেই আমি ভাগমু, করুক। চিন্তা করছি সহসায় সব সিলিং খুলে ফেলমু। উপরে প্লাস্টিকের রঙ্গিন টিন। বিনা বিদ্যুতে অফিস চালামু…

কি বিচিত্র দৃঢ়তা! কি অসম্ভব মনোবল! একটা এয়ারপোর্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাথায় সিলিং ভেঙ্গে পড়েছে, তিনি অল্পের জন্য গুরুতরভাবে আহত হতে হতে বেঁচে গেছেন, বিশ্রাম নিতে বাড়ি যাননি, অফিস করছেন এমনভাবে যেন কিছুই হয়নি, অথচ এখন পর্যন্ত এয়ারপোর্টের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও তাকে দেখতে আসেননি। এবং এখন পর্যন্ত সেই সিলিং সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং ইনসিডেন্টের পর পুলিশ সংশ্লিষ্ট এক কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলে উপরের সকল কর্মকর্তা ব্যস্ত হয়ে গেছে তাকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য। ক্রমাগত ফোন আসছে, অনুরোধ থেকে হুমকি কিছুই বাদ যাচ্ছে না। ম্যাজিস্ট্রেটের জীবন এখানে গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ কেন সেই দায়ী কর্মীকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছে, সেটা!

তবুও মোহাম্মদ ইউসুফেরা দমেন না। মাথায় সিলিং পড়ার দিনেই অফিসে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিলেন এক অসম্ভবকে সম্ভব করার। এখন থেকে কোন যাত্রীর লাগেজ আর পড়ে আসবে না, এ নিয়ে কোন ভোগান্তিও সৃষ্টি হবে না। চলুন জেনে আসি তার সেই ঘোষণাটি,

পৃথিবীর প্রায় সব দেশে বুকিং ব্যাগ কোন কারণে যাত্রির সাথে না এসে, পরে এলে (লেফ্ট বিহাইন্ড ব্যাগেজ) এয়ারলাইন্স নিজ দায়িত্বে তা যাত্রীর ঘরে পৌঁছে দেয়। আর আমাদের দেশে ঘরে পৌঁছে দেয়াতো দূরের কথা, ব্যাগ এলে যাত্রিকে ফোন করে খবরটি পর্যন্ত দেয়া হতো না। যাত্রিরা ব্যাগের জন্য দিনের পর দিন এয়ারপোর্টে লেফ্ট-রাইট করতে হতো।

আজ থেকে বছর দু’য়েক আগে এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। দীর্ঘ দু’বছর এর উপর কাজ করেছি। বাহিরের এয়ারপোর্টগুলোথেকে এসওপি এনে আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে স্টাডি করেছি।

কাজটিতে এয়ারপোর্টের একাধিক সংস্থাসহ আমাদের দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অবস্থা জড়িত। এই সংস্থা রাজী হয়তো, ঐ সংস্থা রাজী হয় না। আমরা থেমে যাইনি। সবকিছু গুছিয়ে আনার পর এবার ভেন্ডার পাওয়া যায় না। তাও থামিনি। কতজন হাসাহাসি করছে, থামিনি।
ইয়া… আমাদের দু’বছরের চেষ্টার প্রথম সফলতা। এওসি’র চেয়ার এয়ারলাইন্স হিসেবে মালেশিয়ান এয়ার প্রথম সমগ্র বাংলাদেশে তাদের যাত্রিদের লেফ্ট বিহাইন্ড ব্যাগেজ হোম ডেলিভারী সার্ভিস চালু করেছে।

অন্যান্য এয়ারলাইন্স ভেন্ডরের সাথে দরাদরিতে আছে। সহসায় চালু করবে।

আমার রুমের সিলিং থাকুক আর নাইবা থাকুক, কাজ কিন্তু চলবে

যে মানুষটা মাথায় সিলিং পড়ার পর কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষেপে গিয়ে সব সিলিং খুলে মাথার উপর প্ল্যাস্টিকের রঙিন টিন লাগিয়ে বিদ্যুৎ ছাড়াই অফিস করার ঘোষণা দিতে পারেন, তাকে আপনি কিভাবে ঠেকাবেন?

সূত্র: এগিয়ে চলো

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here