এবার পাইকগাছায় নড়া নদীতে ভাসমান সেতু

:: মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::

যশোর জেলার ঝাঁপার পর এবার খুলনার পাইকগাছায় স্থানীয়রা নিজস্ব অর্থায়নে ভাসমান সেতু তৈরি উদ্যোগ নিয়েছেন। উপজেলার লতা-দেলুটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দিঘুলিয়া-মুনকিয়া গ্রামের সীমান্তে আলোকদ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে নড়া নদীর উপর তৈরি হবে এই ভাসমান সেতু।

জানাযায়, উপজেলার লতা ইউনিয়নে আলোকদ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনজিৎ কুমার রায় ও সহকারী শিক্ষক সুকৃতি মোহন সরকারের প্রচেষ্টায় এবং অন্য শিক্ষকদের সহযোগিতায় তৈরি হচ্ছে এই ভাসমান সেতু। নদীর ওপার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে আসা যাওয়ার সুবিধা এবং এলাকার মানুষের উপজেলা সদর সহ বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ), জামতলা, বারহাড়িয়া, দেলুটি সহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিঘেœ চলাচলের কথা বিবেচনা করে প্লাসটিকের ড্রাম দিয়ে সেতু তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন। এই সেতু হলে লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। দু’ইউনিয়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতাযাতে দুর্ভোগ লাঘব হবে। নড়া নদী প্রস্ত খুব বেশি না হলেও বেশ গভির রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় নদী পারাপারে স্কুলে আসা যাওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের বেশ সমস্যা হয়। কয়েকবার নৌকা ডুবির ঘটনা ঘঠেছে। বই খাতা ভিজে লেখাপড়ার বেশ ক্ষতি হওয়ার কারনে এখানে একটা সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং গ্রামবাসী।

শিক্ষক সুকৃতি মোহন সরকার দৈনিক ভোরের পাতাকে বলেন এখানে নদীর প্রস্ত প্রায় ১৫০ ফুট। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে নদীর দু’পারে ৫০ ফুট ইতিমধ্যে মাটি দিয়ে বাঁধদিয়েছি বাকি ১০০ফুট ড্রাম দিয়ে ভাসমান সেতু হবে। সেতু দৈর্ঘ ১শ’ এবং প্রস্থ হবে ৪ ফুট। ইতিমধ্যে ড্রাম কেনা হয়েছে। লোহার পাত, অন্যান সামগ্রী সংগ্রহের কাজ চলছে। সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে সর্বমোট খরচ ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৭০হাজার টাকা। প্রায় এক লক্ষ টাকা আমি ও প্রধান শিক্ষক ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচ করেছি। বাকি টাকার জন্য জনপ্রতিনিধি, স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র এবং গ্রামের লোকদের কাছে সেতু নির্মাণ কল্পে সাহায্যেরর হাত বাড়িয়েছি। আশা করি এ মহতিউদ্যোগে সকলে সাড়া দিবে। এবং অচিরেই আমরা সকলের সহযোগিতাই ভাসমান সেতুর কাজ শেষ করতে পারবো।

লতা ইউনিয়ন ইউনিভারসিটি স্টুডেন্ট এ্যসোসিয়েশন (লুসা’র) সভাপতি নিউটন রায় বলেন আমাদের ইউনিয়নে এমন একটি ভাসমান সেতু হবে কখনো ভাবিনি। শিক্ষকদের এমন মহতি উদ্যোগের সাথে আমারা (লুসা) আছি এবং থাকবো। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আমাদের লতা আরো সামনে এগিয়ে যাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here