এবার কর্মের টানে ফেরার পালা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছুটেছিল জীবন ও জীবিকার তাগিদে শহরে এসে ঠাঁই নেয়া এই অনিকেত মনের মানুষ। সেই সরকারি ছুটির ৩ দিন ইতোমধ্যেই ফুরিয়েছে। ফলে আবারো ব্যস্ত হতে শুরু করছে রাজধানী। যদিও আপন রূপে ফিরতে এখনো আরো কিছু সময় লাগবে। কেননা, অনেকেই যে এখনো ঈদের সাধারণ ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটিও যোগ করে ঈদের প্রাণে প্রাণিত হয়ে আছেন। গতকাল থেকেই সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলো খুলেছে। সচিবালয় থেকে শুরু করে সব অফিসগুলোই ছিল কেমন ফাঁকা ফাঁকা। তবে বেসরকারি অফিসগুলোর তুলনায় সরকারি অফিসগুলোতেই সবচেয়ে দৃষ্টিকটুরূপ ফাঁকা দেখা গেছে গতকাল। ব্যতিক্রম হিসেবে জুন মাসে ব্যাংক ক্লোজিং অর্থাৎ হিসাব ক্লোজ করার নিয়ম থাকায় সব প্রকার ব্যাংকে পুরোদমে অফিস শুরু হচ্ছে গতকাল থেকেই।

এর মধ্যদিয়েই স্পষ্ট হয়, যারা নাড়ির টানে আপন গ্রামে উদ্বেল হয়ে ছুটে গিয়েছিলেন তাদের অধিকাংশই এখনো গ্রামের বন্ধন কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তবে চাকরি রক্ষার্থে সবাইকেই তো ফিরে আসতেই হবে। অর্থাৎ যারা গ্রামের মায়ায় ক্ষণিকের জন্য বাড়ি গিয়েছিলেন তাদেরকে এখন চাকরির মায়াতেই প্রিয় কর্মস্থলের নিজ নিজ শহরে ফিরে আসতে হচ্ছে। আর এখানেই, শহরের গুরুত্ব এতো বেশি, যেখানে গ্রামের মায়ার চেয়ে চাকরির মায়াটাই অতীব প্রবল! তাই সেই প্রাবল্য না দেখা গেলেও ঈদুল ফিতরের রেশ কাটতে না কাটতেই ইতোমধ্যে কর্মব্যস্ত শহরের দিকে ফিরে আসতে শুরু করেছে মানুষ। আবার অনেকে আছেন, যারা শহরে ঈদ কাটিয়ে পরে সড়কপথ নির্ঝঞ্ঝাট হয়ে এলে যানজটমুক্ত ফাঁকা সড়কপথে আরামের সঙ্গে বাড়ি গিয়েছেন। তারা অবশ্য নির্দিষ্ট ছুটি শেষে চাকরি রক্ষার্থে শহরে ফিরে আসতেই হবে, সে ধরনের ছোটো চাকুরে মানুষ নন। তাই একদিকে যেমন গ্রাম থেকে শহরে ফিরে আসা মানুষ দেখা যাচ্ছে, পাশাপাশি তেমনি এখনো থেকে যাওয়া কিছু ঈদের রেশ কাটাতেও গ্রামের দিকে যাচ্ছে মানুষ।

তবে তাদের মধ্যে ঈদের আগে গ্রামে যাওয়া মানুষের মতো সেই শতব্যস্ততা নেই। যেন ঢিমে তালেই হেলেদুলে বাড়ি যাচ্ছেন। তার মানে ঢাকার চিরচেনা রূপ ফিরে পেতে আমাদের আরো সপ্তাহ খানেক অপেক্ষা করতে হবে। তবে এবারের ঈদ যাত্রা ও শহরে ফেরার ক্ষেত্রে যে জিনিসটা সবচেয়ে সুখকর হিসেবে দেখা গেছে, সেটা হচ্ছে যাত্রীদের আগের তুলনায় অনেকটা বেশি হয়রানিমুক্তভাবে বাড়ি যাওয়া ও শহরে ফেরার দিকটি। এ থেকে বোঝা যায়, আমাদের সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যথার্থই তার কথা রেখেছেন। এখানে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকাতেই মানুষ নির্বিঘেœ গ্রামে যেতে পেরেছে এবং পুনরায় একইভাবে শহরে ফিরতে পারছে। এটাও বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের আরেকটি চিত্র। তাছাড়া এবছর আবহাওয়াও ভালো ছিল। তেমন ঝড়-বৃ্ষ্িট হয়নি। ফলে মানুষের মধ্যে একটা স্বস্তির আমেজও ছিল। কাজেই বাদবাকি মানুষ যারা এখনো শহরে ফিরে আসেননি তারাও নির্বিঘ্নেই নিজ নিজ কর্মব্যস্ত শহরে এসে পৌঁছাবেন বলেই প্রত্যাশা করছি। আর এর মধ্যদিয়েই ফিরে পাবে আবার শহরের চিরচঞ্চল রূপ। যাতে করে তারা আবার দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের অংশীদার হয়ে উঠবেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here