এই ধরনের বিকৃত যৌনকর্ম কিভাবে করে মানুষ?

::ভোরের পাতা ডেস্ক::

মাস কয়েক আগে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকাগামী ফ্লাইটে এক বাংলাদেশি যুবকের কুকীর্তির কথা মনে আছে? এরপর ঢাকার বাসে আরেক যুবকের সেইম ঘটনা। এমন ঘৃণ্য ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আজ সকালে আমাকেও হতে হল। রাত ৯টায় যাত্রা শুরু করেছিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। সারারাত জ্যামে রাস্তায় কাটিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা। সকাল ৮টায় গ্যাস নিতে গাড়ি ময়মনসিংহ শহর থেকে ১০০ গজ দূরে একটা ফিলিং স্টেশনে থামাতে হল। আমি আর ভাবি স্টেশনের ওয়াশ রুমে গেলাম। পুরুষ আর মহিলাদের ওয়াশ রুম পাশাপাশি। পুরুষদের প্রস্রাব করার স্থানটা আবার খোলা, যেমন থাকে আরকি। সম্ভবত এভাবে কমফোর্ট ফিল করে বলেই বিশেষ এই ব্যবস্থা। যাই হোক, পুরুষদেরটা পার হওয়ার সময় চোখে পড়ল এক লোক দৃষ্টিকটুভাবে প্রস্রাব করতে বসেছে। সোজা না দাঁড়িয়ে সে অনেকটা বাঁকা হয়ে উল্টো ঘুরে বসেছে যেন মেয়েরা হেঁটে যাওয়ার সময় চোখে পড়ে যায়। প্রথমে ভাবলাম হয়তো বুঝতে পারেনি। আমিসহ আরো কয়েকটা মেয়ে সিরিয়ালে আছি। ৪-৫ মিনিট হয়ে গেছে কিন্তু লোকটা উঠছে না। যেহেতু লাগোয়া বাথরুম ছিল তাই পাশ থেকে লোকটাকে দেখা যাচ্ছিল। এর মধ্যেই দেখলাম অন্য মেয়েগুলা ফিসফিস করে বলাবলি করছে যে লোকটা কি শুরু করছে। আমিও তাকালাম। যা দেখলাম তাতে সাথে সাথে মাথায় রক্ত উঠে গেল। সে সরাসরি আমাদের দিকে মুভ করে নিম্নাঙ্গ সম্পূর্ণ নগ্ন করে মাস্টার বেসান করছে। প্রথমে চোখ সরিয়ে নিলেও কিছুক্ষণ পরই মনে হল (এরমধ্যে আরো মিনিটদুয়েক পার হয়েছে) অন্যায়টা কেন হজম করছি? সাথে সাথে চিল্লাইয়া বললাম তুই উঠবি না লাত্থি খাবি? ইউ নো? সাথে সাথে উঠে দাঁড়াইছে। আর আমি জানি না কি হল আমার, ননস্টপ কুত্তাটারে লাত্থি দেয়া শুরু করলাম। লাত্থি দিতে দিতে বাইরে বের করে আনছি। এরমধ্যেই লোক জড়ো হইছে কিছু। ওয়াশরুম পিছনের দিকে ছিল বলে ওদিকটায় লোক কম ছিল। কিন্তু যারা আসছে তারা সবাই আমাকে বারবার রাগান্বিত হয়ে প্রশ্ন করছিল আমি কেন মারছি! আর তাকে ছেড়ে দেয়ার জন্য একরকম চিল্লাছিল। অবশ্য আমাদের দেশে এসব নতুন না। অলওয়েজ এক শ্রেণি রেডি থাকে এদের পার করে দেয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত হাতের কাছে ঝাড়ু পেয়ে ওটা দিয়ে আরেক দফা পিটাইছি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সামনে কাদার জন্য সে লাফ দিয়ে রাস্তায় চলে গেলেও আমি আর যেতে পারিনি। তবে সারারাতের কষ্ট দূর হয়ে গেছে কুত্তাটাকে পিটাতে পেরে। আমরা সবাই জানি এরকম অনেকের সাথেই ঘটে কিন্তু লজ্জায় অনেকেই চুপ করে থাকে, দেখেও না দেখার ভান করে। আর সেই সুযোগে লুচ্চাগুলা আরো নোংরামি করার সুযোগ পায়। আমি কখনো কোনো ধরনের ইভটিজিং বা অন্য যেকোনো ধরনের নোংরামি সহ্য করিনি। নিজের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করেছি। ভেবে অবাক হই, নিজেকে নগ্ন করে দিয়ে এই ধরনের বিকৃত যৌনকর্ম কিভাবে করে মানুষ? আমার মনে হয়, কুকুরেও লজ্জা আছে কিন্তু পুরুষের নাই (সবার ক্ষেত্রে না)। হ্যাঁ, আবারো বলছি, পুরুষের নাই। কারণ কোনো নারী যতই চরিত্রহীনা হোক, রাস্তাঘাটে এই ধরনের বিকৃত কাজ কখনো করে না। কুকুর শুধু পুরুষরাই হতে পারে।

(বীথি রহমানের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here