ঈদে চাই মেহেদি

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মেহেদি না হলে কোনো নারীর ঈদই যেন সম্পূর্ণ হয়না। ছোট মেয়ে হোক বা তরুণী- কেউই মেহেদিতে হাত রাঙাতে ভোলেনা। বিশেষ করে ঈদের শেষ মুহূর্তে মেহেদি কেনায় হিড়িক পড়ে দোকান, বাজারগুলোতে। শুরু হয় বিভিন্ন ঈদ মেহেদি উৎসব, ডিজাইন সংগ্রহের পালা।

হাতের মেহেদির নকশা অনেকটাই নির্ভর করে পোশাকের ধরন এবং নকশার ওপর। এছাড়া কোন হাতে কতোটুকু লাগাবো সেটাও পোশাক আর রূচির ওপরে নির্ভর করে। আর এই মেহেদিই ঈদ উৎসবের অন্যতম মূল অংশ। আর মেহেদির মূল সময় হলো চাঁদরাত।

গ্রাম বা শহরে আমাদের মেহেদি উৎসব বসে এক একরকম ভাবে। শহরের আর গ্রামের প্রেক্ষাপট আলাদা। শহরে দেখা যায় যে বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশী, ভাইবোনেরা একত্র হয়ে রাতের বেলাতে মেতে ওঠে মেহেদির রঙে। আর গ্রামাঞ্চলে তো এখনো মেহেদি পাতা বাটার চল আছে।

টিউব মেহেদির যুগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মেহেদির ডিজাইন। যুগে যুগে মেহেদি দেওয়ার ধরন ও নকশায় পরিবর্তন হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা রয়ে গেছে আগের মতো করেই। মেহেদি আমাদের কাছে মোটামুটি একটা ঐতিহ্যই বলা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণী ও নারী সবারই অংশগ্রহণ থাকে মেহেদি উৎসবে।

ঈদ পোশাকে যেমন ট্রেন্ড বদলায় তেমনি মেহেদির নকশাতেও আসে পরিবর্তন। খুব রাতারাতি সেটা না বদলালেও মেহেদির নকশা কেমন হবে তা অনেকটাই নির্ভর করে পোশাকের নকশার ওপর। জামার হাতা ছোট হলে কব্জির নিচ পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু ফুলহাতা বা থ্রি-কোয়ার্টার হলে শুধু হাতের তালুতে মেহেদির নকশা ভালো দেখাবে। উৎসবে মেহেদি নকশায় একটু ভরাট, দীর্ঘ কারুকার্যময় জটিল ডিজাইনই সবাই পছন্দ করে। আর একটু বেশি জমকালো করতে চাইলে থাকছে মেহেদির সঙ্গে গ্লিটার-স্টোনের ব্যবহার। ক্যালিগ্রাফিক, ফুলেল, চরকা, পানপাতা, কলকা, ময়ূর, জ্যামিতিক মোটিফ বরাবরের মতো জনপ্রিয়। সেক্ষেত্রে মেহেদির সঙ্গে নখে নেইলপলিশের রঙটাও একটু বিবেচনায় রাখুন। সাদা নেইলপলিশের সঙ্গে গাঢ় লাল মেহেদি সবচেয়ে ভালো মানায়। হাতের আকৃতি ও গঠন অনুযায়ী ডিজাইন বেছে নিন।

আর মেহেদির ডিজাইনের সঙ্গে হাতে একটু মানিয়ে গয়না পরতে চেষ্টা করুন। হাতে ভরে চুড়ি পরলে আবার ডিজাইন ঢেকে যেতে পারে। তাই একটু হালকা চুরি পরতে পারেন, যাতে করে ডিজাইনটাও দেখা যায়। আর ফুলহাতা পোশাক এড়িয়ে থ্রি-কোয়ার্টার হাতার পোশাক পরুন। আর শাড়ির সঙ্গে মেহেদি মানায় সবচেয়ে ভালো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here