ইসলামের খিদমতে শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে তিনি এরই মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যকরণ ও সম্প্রসারণ, আল-কুরআন ডিজিটাইজেশন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেওয়া, যোগ্য আলেমদের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের ব্যবস্থা, সর্বশেষ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি, ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। অর্থাৎ ইসলামের খিদমতে তিনি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এসব পদক্ষেপের সাফল্যচিত্র এর আগে এই কলামে আমি তুলে ধরেছি। আজ তুলে ধরছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উন্নয়ন মডেল’ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সাফল্যচিত্র।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ: কোটি কোটি মানুষের বসবাস আমাদের এই বাংলাদেশে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করছে এই দেশে। সকল ধর্মের সকল উৎসবে আজ নির্বিঘ্নে মেতে উঠছে সকল মানুষ। এখন আর ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ভয় নেই। এমনকি হিন্দুদের বা অন্য কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়। কারণ ধর্ম যার যার উৎসব সবার। দেশের সকল উৎসব আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে যাতে সাধারণ মানুষের কোনোরকম বাধা-বিপত্তিতে পড়তে না হয় এজন্য নিরাপত্তা আগের তুলনায় যথেষ্ট জোরদার করা হয়েছে। অফিস-আদালতে ব্যাবস্থা করা হয়েছে উৎসব-ভাতা। ধর্মীয় উৎসবে পূজাম-প বা উপাসনালয়ে থাকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সকল এলাকার মানুষ যাতে সহজেই শামিল হতে পারে এজন্য এলাকাভিত্তিক পূজাম-প বা উপাসনা কেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে। কিছু দিন আগেই এলো বাংলা নতুন বছর ১৪২৫। সকল মানুষ মেতে উঠছিল প্রাণের উৎসবে। কোথাও কোনোরকম অপ্রীতিকর অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে নিত্য পণ্যের যথেষ্ট মজুদ রাখা হয়েছে। কোনোরকম কৃত্রিম সঙ্কট যাতে সৃষ্টি না হয় সেদিকে রয়েছে বাড়তি নজর। নিত্য পণ্য যাতে ক্রয় ক্ষমতার ভেতরে থাকে সেজন্য নেওয়া হবে বাড়তি পদক্ষেপ। আওয়ামী লীগ সরকারের হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পথে। যেই স্বপ্নের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল জাতির পিতা আজ তার সুযোগ্য কন্যার অবদানে তা আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘উন্নয়ন মডেল’-এ ইসলামি মূল্যবোধের প্রতিফলন : ২০১১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৬৬তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি শান্তি মডেল উপস্থাপন করেন এবং তা জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এ উন্নয়ন মডেলে ৭টি উপাদান রয়েছে। যেমন : (১) মানব উন্নয়ন, (২) দারিদ্য ও ক্ষুধা লাঘব, (৩) অসমতা হ্রাস, (৪) বঞ্চনা লাঘব, (৫) পিছিয়ে পড়া জনগণকে মূল স্রোতধারায় ফিরিয়ে আনা, (৬) কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও (৭) সন্ত্রাসবাদের অবসান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শান্তি মডেলে যে উপাদানগুলো উপস্থাপিত হয়েছে এর সবগুলোই ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আল্লাহ্ তায়ালা মহানবী (সা)-কে দুনিয়াতে প্রেরণ করেন মানুষে-মানুষে বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করে ইনসাফভিত্তিক একটি বিশ্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। দারিদ্রকে ইসলামে ‘কুফর’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, এখানে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। ইসলামের এসব মর্মবাণী প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন মডেলে প্রতিফলিত হয়েছে। (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here