ইসলামের খিদমতে শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

ইসলামের খিদমতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা বলে শেষ করা যায় না। তিনি আলেম-ওলামাদের কদর, মাদরাসা শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং মসজিদকে ইসলামিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে ইসলামের প্রচার ও প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লড়াই তিনি এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি এরই মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যকরণ ও সম্প্রসারণ, আল-কুরআন ডিজিটাইজেশন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেওয়া, যোগ্য আলেমদের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের ব্যবস্থা করা, ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করা, ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনা, সারাদেশে বিশেষায়িত দারুল আরকাম মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া, আন্তর্জাতিক হিফজ, ক্বিরাত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা সম্প্রসারণে সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছেন। গতকাল অবধি এসব পদক্ষেপের সাফল্যচিত্র এই কলামে আমি তুলে ধরেছি। আজ মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডা উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্থিক সাহায্যের কিছু চিত্র তুলে ধরছি।

মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের জন্য আর্থিক অনুদান: ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন মসজিদ ও মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের জন্য ৩৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২১,৫২০টি মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উন্নয়ন: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প কুয়েত সরকারের সহায়তায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ন্যস্ত: চট্টগ্রামের কেন্দ্রস্থলে ১২ একর জমির ওপর অবস্থিত জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অনুকূলে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় মসজিদ কমপ্লেক্স উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনুদান ও সাহায্যের পরিসংখ্যান : ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় হতে ২০০৯ সাল থেকে এ যাবত মোট ১,০১,৫৫৪টি বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং দুস্থদের সর্বমোট ১৭৫,৯২,১৬,০০০ টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছর হতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রদেয় প্রতিষ্ঠান ও অনুদানের একটা পরিসংখ্যান এখানে তুলে ধরা হলো। ৪৮,৩১৬টি মসজিদে দেওয়া হয়েছে ৭৩৩,০১৮,০০০ টাকা । ৫,৪২৩টি মক্তব, মাদরাসা, কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র, হিফজখানা ইত্যাদি ইসলাম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে ১১৮,৪৯০,০০০ টাকা। ৩,৯৯২টি ঈদগাহ/কবরস্থানে দেওয়া হয়েছে ৯৯,৮৮৭,০০০ টাকা। ৯,০৫৭টি হিন্দু মন্দিরে দেওয়া হয়েছে ১২৪,০৫৭,০০০ টাকা। ৪৪৬টি হিন্দু শ্মশানে দেওয়া হয়েছে ১২,৪০০,০০০ টাকা। ৯৯৯টি বৌদ্ধ ধর্মীয় প্যাগোডায় দেওয়া হয়েছে ২৩,৩২৩,০০০ টাকা। ১০৫টি বৌদ্ধ ধর্মীয় শ্মশানে দেওয়া হয়েছে ২,৮৬৬,০০০ টাকা। ১৬০টি খ্রিস্টান ধর্মীয় গির্জায় দেওয়া হয়েছে ৩,৭৭৩,০০০ টাকা। ১৩টি খ্রিস্টান ধর্মীয় সেমিট্রিতে দেওয়া হয়েছে ৬২৭,০০০ টাকা।

১০,৩৪৩টি দুস্থ মুসলিম প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে ১৮৮,৮৬৫,০০০ টাকা। ২,৪২২টি দুস্থ হিন্দু প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে ৩৫,০৪০,০০০ টাকা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিসাবমতে, এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে অর্থাৎ ১২,৭৬৫ জনকে দেওয়া হয়েছে ২২৩,৯০৫,০০০ টাকা। আর প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে অর্থাৎ ৬৮,৫১১ জনকে দেওয়া হয়েছে ১,১১৮,৪৪১,০০০ টাকা। (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here