ইসলামের খিদমতে শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার প্রায় সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ইসলামের খিদমতে যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, সমকালীন বিশ্বে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ইসলামের প্রচার ও প্রসারে নিবেদিত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি তিনি দেশের মসজিদগুলো যাতে ইসলামিক জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এরই মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যকরণ ও সম্প্রসারণ, আল-কুরআন ডিজিটাইজেশন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেওয়া, যোগ্য আলেমদের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের ব্যবস্থা, ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি, ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। এসব উদাহরণ ইসলামের খিদমতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের প্রমাণ। এসব তথ্যের আলোকে নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা ইসলামের খিদমতে যত বেশি অবদান রেখেছেন, স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে অন্য কারো সঙ্গে তুলনা হয় না। তবুও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে ইসলামবিদ্বেষী বলে অপপ্রচার চালানো হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না।’ মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘তোমরা জেনে-শুনে সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢেকে দিও না।’ (আল-কুরআন)। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর প্রদর্শিত পথে চলার তৌফিক দিন। আমীন! যাই হোক, এসব পদক্ষেপের সাফল্যচিত্র আগে এই কলামে আমি তুলে ধরেছি। আজও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মসজিদভিত্তিক ইসলামি শিক্ষা সম্প্রসারণের আরও কিছু সাফল্যচিত্র তুলে ধরছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিষ্ঠিত দারুল আরকাম মাদরাসা : পবিত্র কাবা শরিফের সন্নিকটে সাফা পর্বতের পাদদেশে মহানবী (স) প্রথম যে শিক্ষালয় গড়ে তুলেন- এর নাম দারুল আরকাম। বরকতময় এই নামটিকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের আওতায় মাতৃভাষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিকতা, ধর্মীয় জ্ঞান ও আরবি ভাষায় প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তোলার জন্য সারাদেশে ১০১০টি বিশেষায়িত দারুল আরকাম মাদরাসা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে ধর্মীয় সেক্টরে সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৭২ কোটি ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক হিফজ, ক্বিরআত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় সাফল্য : ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক হাফেজ ও ক্বারি সৌদি আরব, আরব আমিরাত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, মিসর, জর্ডান, তুরস্ক, আলজেরিয়া, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে উল্লিখিত বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এ পর্যন্ত ৪০ কোটি টাকা পুরস্কার পেয়েছেন এবং পুরস্কার হিসেবে প্রাপ্ত স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ প্রায় ৩৫০ ভরি। এছাড়া মিসরের সঙ্গে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চুক্তির আওতায় প্রতিবছর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ও ইমামদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

সারাদেশে ৫৬০টি মসজিদ কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের জুন মাসে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফর করেন। এসময় জেদ্দার আন্দালুসের আল সালাম রাজপ্রাসাদে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে তার একান্ত সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সাক্ষাতে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ স্থাপনের বিষয়ে মহামান্য সৌদি বাদশাহ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর ফলে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ কাম ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয়। গত বছর একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ৯ হাজার ৬২ কোটি ৪১ লাখ টাকা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতৃবৃন্দের কাছে বাংলাদেশের আলিম ওলামাদের ভূমিকার প্রশংসা : প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৬তম অধিবেশনে বিশ্বনেতৃবৃন্দের কাছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে আলেমদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। জঙ্গিবাদের কোনো রাষ্ট্রীয় পরিচয় নেই। বাংলাদেশের আলেম ও ইমাম সমাজ এ ক্ষেত্রে যে অসামান্য ভূমিকা রাখছে, তা যে কোনো দেশের জন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।’ এতে বিশ্বসমাজে বাংলাদেশে আলেমসমাজ সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি লাভ করে। (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here