ইসলামের খিদমতে শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি সমজিদকে ইমলামি শিক্ষাকেন্দ্রে রূপ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে অটল থেকে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এভাবে আত্মনিবেদিত আছেন। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি তিনি দেশের মসজিদগুলো যাতে ইসলামিক জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় সেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এরই মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যকরণ ও সম্প্রসারণ, আল-কুরআন ডিজিটাইজেশন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেওয়া, যোগ্য আলেমদের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের ব্যবস্থা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম শীর্ষক কর্মসূচি, ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। অর্থাৎ ইসলামের খিদমতে তিনি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এসব পদক্ষেপের সাফল্যচিত্র এর আগে এই কলামে আমি তুলে ধরেছি। আজ তুলে ধরছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মসজিদভিত্তিক ইসলামি শিক্ষা সম্প্রসারণের আরো কিছু সাফল্যচিত্র।

প্রতিটি জেলা-উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন : ২০১৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরকারের অর্থায়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রকল্প হচ্ছে ‘প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮৭২২.০৫ কোটি টাকা। মসজিদসমূহ নির্মিত হলে ৩১৪০০ জন মহিলাসহ প্রায় ৪.৫০ লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া এই মসজিদসমূহে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, দ্বীনি দাওয়াতি কার্যক্রম, হেফজখানা, গবেষণা কক্ষ, লাইব্রেরি, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা পর্যন্ত রয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় গত ০৫/০৪/২০১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জেলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৯টি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে আরও ১০০টি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। অবশিষ্ট ৪৫১টি মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু করা হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ১ম পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৫/০৪/২০১৮ তারিখে ২০০ কোটি টাকার চেক ধর্মমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছেন।

ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম : বাংলাদেশের প্রায় ৩ লাখ মসজিদের ইমামদের দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক এমন নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওযার ব্যবস্থা করা হয়। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বিজ্ঞ আলেম-ওলামা ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সিলেবাস সংস্কার করা হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেশের ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির মাধ্যমে ৫০ হাজার ইমামকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর থেকে ইমামদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং ১৮০০ ইমামকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মেয়াদে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন করেন। চলতি অর্থবছরে এই ট্রাস্টে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে ২৮ কোটি টাকা জমা রয়েছে। কোনো ইমাম-মুয়াজ্জিন বার্ধক্যজনিত কারণে কর্মে অক্ষম হয়ে পড়লে এবং আর্থিক অনটনে পড়লে তাদের এই ট্রাস্ট থেকে অফেরতযোগ্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।

ইসলামি প্রকাশনা প্রকল্প : ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে বিগত প্রায় ৪ বছরে কুরআন, হাদিস, তাফসির, ফিকাহ, মুসলিম মনীষীদের জীবনী/শিশু সাহিত্যসহ সরকারের রাজস্ব অর্থায়নে ৫৪২টি শিরোনামের প্রায় ১৯ লাখ কপি পুস্তক মুদ্রণ/পুনর্মুদ্রণ করে প্রকাশ করা হয়েছে বলে ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে। এ বাবদ প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও ইসলামি গ্রন্থ সুলভ মূল্যে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ‘ইসলামি প্রকাশনা কার্যক্রম’ শিরোনামে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ বছর মেয়াদি একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ৩০০ টাইটেলের বই প্রকাশ করা হবে। (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here