ইসলামের খিদমতে শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দেশ গঠনের পাশাপাশি ইসলামের প্রচার ও প্রসারে যা যা করণীয় তাই করেছেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে অটল থেকে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত আছেন। একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি তিনি দেশের মসজিদগুলো যাতে ইসলামিক জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এরই মধ্যে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্যকরণ ও সম্প্রসারণ, আল-কোরআন ডিজিটাইজেশন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ খুলে দেওয়া, যোগ্য আলেমদের মাধ্যমে ফতোয়া প্রদানের ব্যবস্থা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম’ শীর্ষক কর্মসূচি, ডিজিটাল হজ ব্যবস্থাপনাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন। অর্থাৎ ইসলামের খিদমতে তিনি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এসব পদক্ষেপের সাফল্যচিত্র এর আগে এই কলামে আমি তুলে ধরেছি। আজ তুলে ধরছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মসজিদভিত্তিক ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারণের কিছু সাফল্যচিত্র।

মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমে আলেম-ওলামার কর্মসংস্থান: বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর ২০০৯ সালে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রকল্প চালু করেন এবং ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পের আওতায় ৬৪৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক হিসেবে মাসিক সম্মানীর ভিত্তিতে মাদ্রাসায় শিক্ষিত ৪০ হাজার আলেম ও ইমামের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে ৫ বছরে ৪০ লাখ শিশুকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, ২৫ লাখ মানুষকে কোরআন শিক্ষা, ১ লাখ জনকে বয়স্ক শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে। মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা ও কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য এত বিপুল অর্থ অতীতে আর কোনো সরকার বরাদ্দ করেনি।

শিশু গণশিক্ষা ও কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে মহিলাদের কর্মসংস্থান: ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় পবিত্র কোরআন শরিফ শিক্ষাদানসহ প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দানে শিক্ষক হিসেবে মাসিক সম্মানীর ভিত্তিতে ৫,৮০০ জন ধর্মপরায়ণ মহিলার কর্মসংস্থান করা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতিতে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি:বর্তমান সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ নৈতিকতা শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। সেই সাথে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার অংশ এবং তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, এর ফলে মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে ৫৮,০০০ আলেমের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প: ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের মসজিদগুলোকে মসজিদে নববীর আদর্শে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমাদের মসজিদগুলো সাধারণত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পর সাধারণত তালাবদ্ধ থাকে। মসজিদগুলো যাতে ইসলামিক জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায় এ লক্ষ্যে মসজিদ পাঠাগার প্রকল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্পে’র আওতায় প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২০০টি মসজিদে নতুন পাঠাগার, পুরাতন ৫০০০টি পাঠাগারে ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক এবং শিশু-কিশোরদের পাঠোপযোগী পুস্তক সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদ পাঠাগারে পুস্তক সংরক্ষণের জন্য ২৭৫০টি স্টিলের আলমারিও দেওয়া হয়েছে। (চলবে)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here