আল্লাহর আনুগত্যের সাধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ ভাগে কুরআন মজিদ অবতীর্ণ হয়। এই শেষ ভাগের যে রজনীতে আল-কুরআন নাজিল হয়, ফজিলতের দিক দিয়ে সেই রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। অর্থাৎ হাজার মাস ইবাদত-বন্দেগির সওয়াব পাওয়া যাবে এই এক রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে। এই রজনীর নাম ‘লাইলাতুল কদর’। এই লাইলাতুল কদর রমজানের কোন রাত তা নির্দিষ্ট করে কুরআন-হাদিসে বলা হয়নি। বলা হয়েছে, মাহে রমজানের শেষভাগের বেজোড় অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের যে কোনো রাত শবেকদর হতে পারে। তাই মাহে রমজানের ফজিলতের উপলব্ধি থেকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে যেসব আমল চালু রয়েছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে শবেকদরের তালাশ। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ২০ রমজান দিবাগত রাত থেকে ২৬ রমজান দিবাগত রাত পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ৩টার মধ্যে ৭ দিনব্যাপী ‘কিয়ামুল লাইল’ বা তাহাজ্জুদের নামাজ হচ্ছে। রাতের এই বিশেষ নফল নামাজে তিলাওয়াতের মাধ্যমে পবিত্র কুরআন এক খতম সম্পন্ন করা হচ্ছে। কিয়ামুল লাইলে দেশের বিখ্যাত হাফেজ ও কারিরা ইমামতি করে থাকেন। এই ‘কিয়ামুল লাইল’ আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহায়ক।

মাহে রমজানের শেষ দশ দিনে আরও একটি বিশেষ আমল রয়েছে। সেটা হচ্ছে ইতিকাফ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন এই ইতিকাফেরও সার্বিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। ইতিকাফ হচ্ছে ‘পরকাল সফরের প্রশিক্ষণ’। ইতিকাফ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) নিজেই বলেছেন, ‘আমি কদরের রাতের সন্ধানে প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলাম। এরপর ইতিকাফ করলাম মধ্যবর্তী ১০ দিন। অতঃপর ওহি প্রেরণ করে আমাকে জানানো হলো যে তা শেষ ১০ দিনে। সুতরাং তোমাদের যে ইতিকাফ পছন্দ করবে, সে যেন ইতিকাফ করে।’ এরপর মানুষ তাঁর সঙ্গে ইতিকাফে শরিক হয়। (মুসলিম, হাদিস : ১৯৯৪)। মদিনায় অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) প্রতিবছরই ইতিকাফ পালন করেছেন। শত ব্যস্ততা সত্ত্বেও রমজানে তিনি ইতিকাফ ছাড়েননি। ইতিকাফরত অবস্থায় বান্দা নিজেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দুনিয়ার অন্য সব কিছু থেকে আলাদা করে নেয়। ঐকান্তিকভাবে মশগুল হয়ে পড়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নিরন্তর সাধনায়। ইতিকাফ ঈমান বৃদ্ধির একটি মুখ্য সুযোগ। বিশেষ নিয়তে, বিশেষ অবস্থায় আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে।

পবিত্র কোরআনে বিভিন্নভাবে ইতিকাফ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে, ইবরাহিম (আঃ) ও ইসমাইল (আঃ)-এর কথা উল্লেখ করে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১২৫)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরো রমজানে জাতীয় মসজিদে আরও যেসব কর্মসূচি পালন করেছে, সেসবেরও মূল লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য লাভ করা। হাদিস শরীফে আছে, মুসলমানের সব আমলেরই মূল উদ্দেশ্য আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ করা। আর সেই কাজে সবসময়ই নিয়োজিত আছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর আনুগত্য লাভের উদ্দেশ্যেই আমল করার তৌফিক দিন। আমিন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here