‘আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি’ এটাই হোক আমাদের অগ্রগতির প্রতিজ্ঞা

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

সম্প্রতি ভারত সফর-উত্তর গত বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরে চলমান বিষয় ও ভারত সফরে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিষয়টি উঠে আসে দেশের মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে। এতে সর্বাত্মক মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মাদকের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাক, গডফাদার-ডন আর যে বাহিনীতেই থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমি যখন যারেই ধরি, তাকে ভালো করেই ধরি। কে কী করে, কে কার ভাই, কে কার আত্মীয়, কে কার চাচা- সেটি দেখি না, দেখাও হবে না।’ মাদক অভিযানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী এই যে উক্তিটি করলেন তাতেই পরিষ্কার এই অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারীদের দেশ থেকে নির্মূল করার দৃঢ় প্রত্যয়েই এমন শপথসুলভ বক্তব্যটি দিলেন। তবে আমরা দেখছি যে, সাবেক বিরোধী দল বিএনপিসহ এ দেশের সুশীল সমাজের অনেকে এই অভিযানের ধরন নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলছেন। কিন্তু অভিযানটি কীভাবে, কোন পদ্ধতিতে হলে এই মাদকের সর্বগ্রাসী রূপ নির্মূল হবে সে সম্পর্কে তারা কোনোই দিকনির্দেশনা দেখাতে পারছেন না।

দেবেন কী করে, আসলে তাদের অনেকেই চানও না এই মাদক নির্মূল হোক। কারণ, এই সুশীল সমাজের অনেকেই এই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও মাদক সেবনে কমবেশি জড়িত। কাজেই একবার যদি এই মাদক নির্মূল হয়ে যায় তখন তারা এই মাদক সেবন করবেন কোথায়? সবসময় বিদেশে গিয়েও তো তা সম্ভব নয়। আর বিএনপি যা বলছে, এটাকে স্রেফ রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। বিষয়টিতে যদি তারা জড়িত থাকত, তাহলেই ভালো; আর যেহেতু এতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার জড়িত তাই তা মন্দ। এই রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে যারে দেখতে না’রি তার চলন বাঁকা। কিন্তু এই কুচক্রীদের প্রশ্ন তোলার জবাবে সংবাদ সম্মেলনে এবার যেন একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অভিযান হঠাৎ করে শুরু হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে দীর্ঘদিন কাজ করেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের নজরদারির পর তথ্য নিয়েই এ অভিযান শুরু হয়েছে। সাংবাদিকরাও মাদকের বিরুদ্ধে লিখেছেন।

এখন যেই অভিযান শুরু হলো, আবার এটা নিয়ে কথা উঠল। আপনারা কি চান অভিযান চলুক, নাকি বন্ধ হয়ে যাক? যদি বলেন, ভেজালবিরোধী ও মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করে দিই। কিন্তু এর জবাবে আমরা বলব, যে যা-ই বলুক, আমাদের দাবি থাকবে এই অভিযান অব্যাহত থাকুক। যতক্ষণ এর শেকড়-বাকড় উপড়ে ফেলা না হচ্ছে ততক্ষণ এই অভিযান অব্যাহত থাকবে, এটাই আমাদের বদ্ধমূল প্রত্যাশা। অন্যদিকে এ প্রশ্নোত্তর পর্বে যেহেতু প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ভারত সফর শেষ করে এসেছেন এবং সম্ভবত বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বছর হিসেবে এটাই হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর শেষ সফর কাজেই এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তি বিষয়েও নানা প্রশ্ন উঠে আসে। এতে এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি সেটা তারা সারাজীবন মনে রাখবে।’ এটা ঠিক যে, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ভারত যে সুবিধাদি পেয়ে আসছে, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি হিসেবে আওয়ামী লীগের আমলে তা আর দেশের আর কোনো সরকারের আমলে বা আর কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকেই পায় না ভারত। সেজন্য ভারতকে অবশ্যই তা সারাজীবন মনে রাখতে হবে।

এই দেশের প্রায় সতেরো কোটি মানুষ তার অধিকাংশই এখন ভারতের কোনো না কোনো পণ্যের বাজার। যা থেকে তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। তাছাড়া কয়েক লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে কাজ করছে। এর মাধ্যমেও তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কাজেই বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ভারতের উন্নয়নেও বিরাট ভূমিকা রেখে চলেছে, এটা আজ দিবালোকের মতো সত্য। সার্বিক বিচারে, প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলন ছিল প্রাণবন্ত। সাংবাদিকরাও উপভোগ করেছেন তার (প্রধানমন্ত্রীর) বক্তব্য; স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কখনও কখনও হাস্যরসিকতার মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনকে অনেকটাই প্রাঞ্জল করে তোলেন। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতিও একটা দিকনির্দেশনা পেয়ে গেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here